স্মৃতি মান্ধানা এর জীবনী | Biography of Smriti Mandhana
স্মৃতি মান্ধানা এর জীবনী | Biography of Smriti Mandhana
|
ব্যক্তিগত তথ্য |
|
|---|---|
|
পূর্ণ নাম |
স্মৃতি শ্রীনিবাস মন্ধনা
|
|
জন্ম |
১৮ জুলাই ১৯৯৬ মুম্বই, মহারাষ্ট্র, ভারত |
|
ব্যাটিংয়ের ধরন |
বামহাতি |
|
বোলিংয়ের ধরন |
ডানহাতি মিডিয়াম পেস |
|
ভূমিকা |
ব্যাটার |
|
আন্তর্জাতিক তথ্য |
|
|
জাতীয় দল |
|
|
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ৭৫) |
১৩ আগস্ট ২০১৪ বনাম ইংল্যান্ড |
|
শেষ টেস্ট |
১৬ নভেম্বর ২০১৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা |
|
ওডিআই অভিষেক |
১০ এপ্রিল ২০১৩ বনাম বাংলাদেশ |
|
শেষ ওডিআই |
১৬ জুন ২০২৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা |
|
ওডিআই শার্ট নং |
১৮ |
|
টি২০আই অভিষেক |
৫ এপ্রিল ২০১৩ বনাম বাংলাদেশ |
|
শেষ টি২০আই |
৪ ডিসেম্বর ২০১৬ বনাম পাকিস্তান |
|
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান |
|
ইতিহাস গড়লেন স্মৃতি মন্ধানা
স্মৃতি শ্রীনিবাস মন্ধনা (মারাঠি: स्म्रिती मन्धाना; জন্ম: ১৮ জুলাই, ১৯৯৬) মহারাষ্ট্রের সাংলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ভারতীয় প্রমিলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য তিনি। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী স্মৃতি মন্ধনা। ২০২৩ সালে তিনি ডব্লিউ-পি-এল এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
শৈশবকাল
১৮ জুলাই, ১৯৯৬ তারিখে মন্ধনা’র জন্ম।[৪][৫] স্মিতা ও শ্রীনিবাস মন্ধনা দম্পতির সন্তান তিনি। দুই বছর বয়সে সাংলি থেকে মহারাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয় তার পরিবার। মহারাষ্ট্রে তার শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয়। তার পিতা ও ভাই শ্রাবণ - উভয়েই জেলা পর্যায়ে সাংলি জেলার পক্ষে ক্রিকেট খেলেছেন। মহারাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব-১৬ প্রতিযোগিতায় ভাইয়ের খেলা দেখে ক্রিকেটের দিকে ধাবিত হন। নয় বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের দলে খেলার জন্য মনোনীত হন। এগারো বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের দলে খেলার জন্য মনোনীত হন।মন্ধনা’র পরিবার নিবিড়ভাবে তার ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তার বাবা মন্ধনা রাসায়নিক দ্রব্য পরিবেশক ও তার ক্রিকেট কার্যকলাপে তত্ত্বাবধান করেন। অন্যদিকে তার মা স্মিতা সুষম খাদ্য পরিবেশনা, পোশাক-পরিচ্ছদ সরবরাহ ও অন্যান্য সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তার ভাই শ্রাবণ অদ্যাবধি অনুশীলনীতে তাকে বোলিং করে যাচ্ছেন।
প্রারম্ভিক জীবন ও পরিবার
স্মৃতি মান্ধানা জন্মগ্রহণ করেন মুম্বাইয়ে, কিন্তু তার পরিবার পরবর্তীতে মহারাষ্ট্রের সাংলিতে চলে যায়। তার বাবা শ্রীনিবাস মান্ধানা একটি কেমিক্যাল ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং নিজেও একটি ক্লাব লেভেলে ক্রিকেট খেলতেন। তার ভাই শ্রীভাস্তভ মান্ধানাও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে মহারাষ্ট্রের হয়ে খেলেছেন।
এই পারিবারিক ক্রিকেট-পরিবেশেই স্মৃতির ক্রিকেট জীবনের সূচনা হয়।
ক্রিকেটে প্রবেশ
স্মৃতি মাত্র ৯ বছর বয়সেই মহারাষ্ট্র অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সুযোগ পান এবং ১১ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। তিনি একজন প্রাকৃতিক প্রতিভা সম্পন্ন ব্যাটসম্যান ছিলেন, বিশেষ করে বাঁহাতি ওপেনার হিসেবে তার ব্যাটিং কৌশল খুব দ্রুত নজরে আসে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনা
-
ওডিআই অভিষেক: ১০ এপ্রিল ২০১৩, বাংলাদেশের বিপক্ষে
-
টেস্ট অভিষেক: ১৩ আগস্ট ২০১৪, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে
-
টি-২০ অভিষেক: ৫ এপ্রিল ২০১৩, বাংলাদেশের বিপক্ষে
খেলোয়াড়ী জীবন
২০ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে সিরিজের দ্বিতীয় ওডিআইয়ে ১০৯ বল মোকাবেলা করে ১০২ রান তুলেন। হোবার্টের বেলেরিভ ওভালের ঐ খেলায় নিজস্ব প্রথম শতরানটি অবশ্য বিফলে যায় ও তার দল পরাজিত হয়েছিল।[৭] ওডিআই অভিষেকের পূর্বেই একই দলের বিপক্ষে ৫ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে টি২০আইয়ে অভিষিক্ত হন।
১৩ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক হয়। ওর্মস্লি পার্কে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ২২ ও ৫১ রান তুলে দলকে জয়ের সন্ধান দেন। ১৮২ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে থিরুশ কামিনি’র সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৬ রান তুলেছিলেন।[৮][৯] ২০১৬ সালের আইসিসি মহিলা বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
ক্রিকেট বিশ্বকাপ
আইসিসি মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ঘিরে ১৫ মে, ২০১৭ তারিখে মিতালী রাজের অধিনায়কত্বে ১৫-সদস্যের ভারতীয় দলের তালিকা প্রকাশ করা হয়।[১০] এতে তিনিও অন্তর্ভুক্ত হন। ২৪ জুন, ২০১৭ তারিখে ডার্বির কাউন্টি গ্রাউন্ডে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় স্মরণীয় ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন তিনি। মাত্র ৭২ বলে ৯০ রান তুলে দলকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৮১/৩-এ নিয়ে যান। এরপর দীপ্তি শর্মা’র ৩/৪৭ বোলিং পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ড ২৪৬ রানে গুটিয়ে যায়। এরফলে ভারতীয় দল ৩৫ রানে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একমাত্র ভারতীয় প্রমিলা খেলোয়াড় হিসেবে ২০১৬ সালে আইসিসি বর্ষসেরা মহিলা দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।
তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে গোলাপি বলে দিন-রাতের টেস্টে শতরান করেছেন। এর পাশাপাশি স্মৃতি ভারতের প্রথম মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট শতরানের করেছেন। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি হতে ২০১৮ ও ২০২১ সালে তিনি বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও রেকর্ড
-
২০১৮ সালে আইসিসি মহিলা ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার (Rachael Heyhoe-Flint Award) লাভ করেন।
-
২০২১ সালেও আইসিসি’র Women's Cricketer of the Year নির্বাচিত হন।
-
একমাত্র ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে Women's Big Bash League (WBBL), The Hundred, এবং Women's Premier League (WPL)-এ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস:
-
২০১৭ সালের মহিলা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯০ রানের ঝড়ো ইনিংস।
-
২০২৩ সালের WPL-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন।
খেলার ধরন ও ব্যাটিং স্টাইল
স্মৃতি একজন ক্লাসিক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তার টাইমিং, কভার ড্রাইভ, এবং অফসাইড প্লে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও স্টাইলিশ। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, তার খেলা দেখলে সুরের ছন্দ অনুভব হয়।
ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তা
স্মৃতি মান্ধানা শুধু দক্ষ খেলোয়াড় নন, নারী ক্রিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী মুখও। তিনি ভারতীয় তরুণী ও কিশোরীদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার ব্যক্তিত্ব বিনয়ী, আত্মবিশ্বাসী এবং পেশাদারিত্বে পরিপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন ও সামাজিক উপস্থিতি
তিনি অনেক ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন যেমন Nike, Hero MotoCorp ইত্যাদি।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
স্মৃতি মান্ধানা নারী ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ভবিষ্যতে তাকে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দেখার প্রত্যাশা অনেকের।
source : celebrity ... wikipedia ... hindustantimes ....bhugolshiksha
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0