রশিদ খান এর জীবনী | Biography of Rashid Khan

রশিদ খান এর জীবনী | Biography of Rashid Khan

May 24, 2025 - 10:23
Jun 1, 2025 - 14:45
 0  1
রশিদ খান এর জীবনী | Biography of Rashid Khan

ব্যক্তিগত তথ্য

পূর্ণ নাম

রশীদ খান আরমান

জন্ম

২০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ (বয়স ২৬)
নানগারহর, আফগানিস্তান

উচ্চতা

৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার)

ব্যাটিংয়ের ধরন

ডানহাতি

বোলিংয়ের ধরন

ডানহাতি লেগ ব্রেক

ভূমিকা

বোলিং অল-রাউন্ডার

আন্তর্জাতিক তথ্য

জাতীয় দল

  • আফগানিস্তান (২০১৫–বর্তমান)

টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ৯)

১৪ জুন ২০১৮ বনাম ভারত

শেষ টেস্ট

১০ মার্চ ২০২১ বনাম জিম্বাবুয়ে

ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ৩৬)

১৮ অক্টোবর ২০১৫ বনাম জিম্বাবুয়ে

শেষ ওডিআই

১০ নভেম্বর ২০২৩ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা

ওডিআই শার্ট নং

১৯

টি২০আই অভিষেক (ক্যাপ ২৭)

২৬ অক্টোবর ২০১৫ বনাম জিম্বাবুয়ে

শেষ টি২০আই

১৬ জুলাই ২০২৩ বনাম বাংলাদেশ

টি২০আই শার্ট নং

১৯

রশিদ খান: আফগান ক্রিকেট বিপ্লবের এক নির্ভীক সৈনিক

রশীদ খান আরমান 

(পশতু: راشد خان; জন্ম: ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮) আফগান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।[] আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য তিনি। ১৮ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে। একই দলের বিপক্ষে ২৬ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে তার অভিষেক হয়। ২০১৬ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্য আফগান ক্রিকেট বোর্ড ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে জাতীয় দলের নামের তালিকা প্রকাশ করে।[] ১৫-সদস্যের দলটিতে তিনিও অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। পাকিস্তান ক্রিকেট লীগে লাহোর কালান্দার্সের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।

শৈশব ও প্রারম্ভিক জীবন

রশিদ খান ১৯৯৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। আফগান যুদ্ধের কারণে তাঁর পরিবার পাকিস্তানে শরণার্থী হিসেবে কিছু সময় কাটায়। সেখানে তিনি ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী হন এবং পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিকে আদর্শ হিসেবে মানেন। পরে আফগানিস্তানে ফিরে এসে তিনি পড়াশোনা ও ক্রিকেট প্রশিক্ষণ চালিয়ে যান।

প্রাথমিক জীবন

রশীদ খান ১৯৯৮ সালে পূর্ব আফগানিস্তানের নাংগারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জালালাবাদের বাসিন্দা এবং তার দশ ভাইবোন রয়েছে। তরুণ বয়সে, তার পরিবার আফগান যুদ্ধে পালিয়ে যায় এবং পাকিস্তানে কয়েক বছরের জন্য আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে তারা আফগানিস্তানে ফিরে আসেন এবং তার তাদের স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন এবং রশীদ তার পড়াশুনা চালিয়ে যেতে থাকেন। রশীদ তার বড় ভাইদের সাথে ক্রিকেট খেলে বড় হতে থাকেন এবং পাকিস্তানের অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিকে, যার বোলিং এ্যাকশনকে তিনি নিজের বোলিং এ্যাকশনে নিয়ে আসেন, তিনি তার আদর্শ হিসেবে বেছে নেন।

ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্প

আফগানিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো ছিল তখন খুবই দুর্বল। ছিল না ক্রিকেটার হয়ে ওঠার জন্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ, ক্রিকেট একাডেমি কিংবা সুযোগ সুবিধা। পাড়ার বন্ধু এবং বড় ভাইদের সাথে নিয়ে চলতো ক্রিকেট খেলা। আফ্রিদির মতো করে লেগ স্পিন বল করার অনুশীলন করতেন। সেটা রপ্তও করে ফেলেছেন পুরোদমে। পাশাপাশি চলতো ব্যাটিংও। অলরাউন্ডার হিসেবেই তার খেলা চলতো। মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করতেন।

তবে ধীরে ধীরে পূর্ণ মনোযোগ বোলিংয়েই দেওয়া শুরু হলো। বলা হয়ে থাকে, প্রতিভা নাকি লুকিয়ে রাখা যায় না। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডই খুঁজে নিল তার প্রতিভা। তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয় আফগানিস্থান জাতীয় দলে। ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। তবে সবার নজরে আসেন ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। মাত্র ৩ রান দিয়েই তুলে নিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট।

আয়ারল্যান্ড এর বিপক্ষে ২য় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪৩ রান দিয়ে শিকার করেন ৬ উইকেট। যে ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড় পল স্টারলিংও। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উভয় দলের বোলারের ৬ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটিই ছিল প্রথম। ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তার পারফর্মেন্স ছিল চোখে পড়ার মতো। জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচে করলেন নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং; ১৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৭ উইকেট ।

এর পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রশিদকে। ডিসেম্বরে আবু ধাবিতে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে তার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক। সেই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ১২টি উইকেট। ব্যাট হাতে করেছিলেন ২৫ ও ৫২ রান।

আইপিএল ২০১৭ এর নিলামে

ব্যাঙ্গালোরে চলছিল আইপিএলের দশম আসরের নিলাম। নিলামের তালিকায় নাম ছিল রশিদ খান এবং তার আরেক স্বদেশী মোহাম্মদ নবীর। ৩০ লাখ রুপি বেস প্রাইজে মোহাম্মদ নবীকে কিনে নেয় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। ৫০ লাখ টাকা ভিত্তি মূল্য থেকে রশিদের দাম ওঠে ৪ কোটি রুপিতে। দল সেই সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। যে দলে তিনি সান্নিধ্য পেয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার, যুবরাজ সিং, মুস্তাফিজুর রহমান, ভুবনেশ্বর কুমারের মতো খেলোয়াড়দের। সহযোগী দেশের এক খেলোয়াড়ের মূল্য ঢের বেশি- এটা হয়তো আপনার কাছে অবাক মনে হতেই পারে। তবে জহুরি যে জহরত চিনতে ভুল করেননি সেটি প্রমাণ করলেন রশিদ খান নিজেই।

টুর্নামেন্ট শেষে তার ঝুলিতে ছিল ১৪ ম্যাচে ১৭টি উইকেট। এ মৌসুমে তাকে হাতছাড়া করতে চায়নি হায়দ্রাবাদ। গত জানুয়ারিতে হয়ে যাওয়া আইপিলের নিলামে ৯ কোটি রুপি দিয়ে আবারো রশিদ খানকে দলেই রেখেছে তারা।

বিগ ব্যাশ লিগের প্রথম আফগান খেলোয়াড়

ক্রিস গেইল, সাকিব আল হাসান, ড্যারেন ব্রাভোদের মতো রশিদ খানকেও আপনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা বলতে পারেন। গত বছর অস্ট্রেলিয়ান বিগ ব্যাশ লিগে খেলেছেন অ্যাডিলেড স্টাইকার্সের হয়ে। বিবিএল এ খেলা প্রথম আফগান খেলোয়াড় তিনি। আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন প্রথম ম্যাচেই সিডনি থান্ডার্সের বিপক্ষে ২২ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ২টি উইকেট; পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও।

২০১৭-১৮ মৌসুমে বিগ ব্যাশ এর শিরোপা ঘরে তোলে অ্যাডিলেড স্টাইকার্স। ১৮ উইকেট নিয়ে গত মৌসুমে টুর্নামেন্টটির সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী রশিদ খান।

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়াম লিগ ও হ্যাটট্রিক

গত মৌসুমে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ সিপিএলে খেলেছেন গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে। জামাইকা তালাওয়াহসের বিপক্ষে করেন ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। অবশ্য সেটি সিপিএলের ইতিহাসেরও প্রথম হ্যাটট্রিক ছিল।

তার করা ১৫ তম ওভারের প্রথম বলেই গুগলির ফাঁদে ফেলেন অ্যান্ডি ম্যাকার্থিকে। ২য় বলে তার শিকার জোনাথন ফো। ৩য় বলে রভম্যান পাওয়েলকরকে আউট করে পূর্ণ করেন নিজের ক্যারিয়ার এবং সিপিএলের প্রথম হ্যাট্রিক।

আইপিএল, বিগ ব্যাশ, সিপিএল ছাড়াও রশিদ খান খেলেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এর হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন তিনি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার

  • ওয়ানডে অভিষেক: ১৮ অক্টোবর ২০১৫, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে

  • টি২০ অভিষেক: ২৬ অক্টোবর ২০১৫, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে

  • টেস্ট অভিষেক: ১৪ জুন ২০১৮, ভারতের বিরুদ্ধে

রশিদ খান ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন এবং দ্রুতই তাঁর লেগ স্পিন ও গুগলি দিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। তিনি আফগানিস্তানের পক্ষে সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে রেকর্ড গড়েন এবং ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন

  • আইসিসি টি২০আই প্লেয়ার অব দ্য ডিকেড (২০২০):

  • টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ৫০ ও ১০০ উইকেট শিকারী।

  • ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ১০০ উইকেট শিকারী (৪৪ ম্যাচ)।

  • টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেরা স্ট্রাইক রেট (১২.৩ বল প্রতি উইকেট)।

  • ২০১৭ সালে আইসিসি অ্যাসোসিয়েট ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া ক্রিকেট

রশিদ খান বিশ্বের বিভিন্ন টি২০ লিগে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল): সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও গুজরাট টাইটানসের হয়ে খেলেছেন। ২০২২ সালে গুজরাট টাইটানসের হয়ে ১৯ উইকেট নিয়ে দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

  • বিগ ব্যাশ লিগ (অস্ট্রেলিয়া): অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন।

  • পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল): লাহোর কালান্দার্সের হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।Gujarat Titans

 সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স

২০২৫ সালের আইপিএলে রশিদ খান কিছুটা ফর্মহীন ছিলেন, ১০ ম্যাচে মাত্র ৭ উইকেট শিকার করেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে লাইন ও লেংথে নিয়ন্ত্রণের অভাব ছিল এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

 ব্যক্তিগত জীবন

রশিদ খান ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর কাবুলে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দিনে তাঁর তিন ভাইও বিবাহ করেন, যা একটি বিশেষ পারিবারিক অনুষ্ঠান হিসেবে উদযাপিত হয়।

sourse:  roar.media , prothomalo, wikipedia

 

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0