মার্টিন গাপটিল জীবনী-biography of Martin Guptill
মার্টিন গাপটিল জীবনী-biography of Martin Guptill
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
|---|---|
|
পূর্ণ নাম |
মার্টিন জেমস গাপটিল
|
| জন্ম | ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড |
|
ডাকনাম |
গুপি, মার্টি টু-টোজ, দ্য ফিস |
|
উচ্চতা |
৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার) |
|
ব্যাটিংয়ের ধরন |
ডানহাতি |
|
বোলিংয়ের ধরন |
ডানহাতি অফ স্পিন |
মার্টিন গাপটিল
মার্টিন জেমস গাপটিল (Martin James Guptill) : ১৯৮৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী গাপটিল নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার। তিনি মূলতঃ শীর্ষ সারির ব্যাটসম্যানরূপে পরিচিত। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের পক্ষে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন বয়সীদের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম এবং বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিকে দ্বি-শতক করার গৌরব অর্জন করেন গাপটিল। মার্টিন গাপটিল একদিনের আন্তর্জাতিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৩৭* রান করেছেন।
প্রারম্ভিক জীবন
গাপটিল অকল্যান্ডের এভনডেল কলেজে অধ্যয়ন করেন। বিদ্যালয়ের প্রথম একাদশে ক্রিকেট খেলেন। চূড়ান্ত বর্ষে তিনি শ্রেণী প্রধান নিযুক্ত হন। ১৪ বছর বয়সে ট্রাক দূর্ঘটনায় তার তিনটি পায়ের আঙ্গুল হারান। (এ বিষয়টি বিশ্বকাপে সহযোগী খেলোয়াড় স্কট স্টাইরিসের মাধ্যমে জানা যায়। এরফলে দলে তার ডাকনাম হয় টু টোজ।) হাসপাতালে নেয়ার পর তার পিতা জেফ ক্রোকে বলেন যে কোন নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড় যদি তাকে দেখতে আসতো, তাহলে ভাল হতো। এরপর তৎকালীন অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিং পরদিন তাকে দেখতে হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন।
খেলোয়াড়ী জীবন
অকল্যান্ড অ্যাশেস দলের পক্ষ হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের অভিষেকে ৯৯ রান করেন। জানুয়ারি, ২০১১ সালে ইংল্যান্ডে ডার্বিশায়ারের হয়ে খেলেন। অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড় উসমান খাজা’র পরিবর্তে ২০১১ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের দ্বিতীয়ার্ধে ও সিবি৪০ প্রতিযোগিতায় খেলেন।
১০ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একদিনের আন্তর্জাতিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক ঘটে গাপটিলের। ক্রিস গেইলের বলে বিশাল ছক্কা হাকিয়ে অভিষেকে প্রথম নিউজিল্যান্ডার্স হিসেবে সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২২ রান করে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও এ রানটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। তার এ রানটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান ও প্রথম নিউজিল্যান্ডার্স হিসেবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করার রেকর্ড।
মার্চ, ২০০৯ সালে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে অভিষিক্ত হন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে নেপিয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে সালমান বাট, ইমরান ফরহাত এবং মোহাম্মদ আসিফকে আউট করেন।
ক্রিকেট বিশ্বকাপ
২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে তিনি অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। নক-আউট পর্ব পর্যন্ত তিনি নিউজিল্যান্ডের পক্ষে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ধারাবাহিকভাবে দুইটি শতরান করেন। এছাড়াও গাপটিল বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বের খেলায় প্রথমবারের মতো দ্বি-শতক হাঁকান। পাশাপাশি প্রথম নিউজিল্যান্ডীয় হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিকে দ্বি-শতক করেছেন ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের নজির স্থাপন করেছেন। গাপটিলের অপরাজিত ২৩৭* রান বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। তার অসামান্য ক্রীড়া নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ড দল ১৪৩ রানের বিরাট ব্যবধানে জয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৫৪৭ রান করেন৷
বিদায় বললেন নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল
সাদা বলে নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ব্যাটার মার্টিন গাপটিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। সবমিলিয়ে তিনি ব্ল্যাক–ক্যাপসদের হয়ে ৩৬৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে দেশের হয়ে টি–টোয়েন্টিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান ও ওয়ানডেতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন গাপটিল। ২০২২ সালের অক্টোবরে তিনি সর্বশেষ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণায় আবেগতাড়িত হয়েছেন গাপটিল। তিনি বলেছেন, ‘কিশোর বয়স থেকে সবসময়ই আমার নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন ছিল। আমি খুবই ভাগ্যবান ও গর্বিত যে নিজ দেশের হয়ে ৩৬৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পেরেছি। দারুণ একটি দলের সঙ্গে সিলভার ফার্ন জার্সি গায়ে জড়ানোর স্মৃতি আমি চিরকাল মনে রাখব। আমি আমার সতীর্থ, কোচিং স্টাফদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিশেষত মার্ক ও’ডনেলকে, যিনি অনূর্ধ্ব–১৯ লেভেলে আমাকে কোচিং করিয়েছেন এবং সমর্থন জুগিয়েছেন পরবর্তী ক্যারিয়ারেও।’ জীবনসঙ্গীনি স্ত্রী ও সন্তানদের ত্যাগের কথাও স্বীকার করেছেন ৩৮ বছর বয়সী গাপটিল, ‘আমার ম্যানেজার লিন ম্যাকগোল্ডরিকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা। তার কাজ সবসময়ই ছিল পর্দার অন্তরালে। আমার স্ত্রী লরা এবং দুই সন্তান হার্লি ও টেডিকে ধন্যবাদ। লরা আমি ও আমার পরিবারের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। প্রতিটি উত্থান–পতনে তুমি আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক, মূল্যবান রত্ন ও পরামর্শক হয়ে ছিলে। যার জন্য আমি অনেক কৃতজ্ঞ। ক্রিকেটভক্তদেরও ধন্যবাদ, যারা নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বজুড়ে বছরের পর বছর পাশে থেকেছেন।’ ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় গাপটিলের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইডেন পার্কে অভিষেক ওয়ানডেতেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। একই বছর আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও তিনি জায়গা করে নেন। গাপটিল প্রথম ও একমাত্র কোনো কিউই ব্যাটার যিনি ওয়ানডে বিশ্বকাপে (২০১৫) এক ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করেন। ওয়েলিংটনে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ২৩৭ রান করার রেকর্ড গড়েন গাপটিল। এ ছাড়া ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৯ এবং ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮০ রানের অপরাজিত ইনিংস কিউইদের হয়ে ওয়ানডেতে সেরা চারটি ইনিংসের মধ্যে রয়েছে। টি–টোয়েন্টিতেও দুটি হান্ড্রেড এবং ২০টি ফিফটি রয়েছে তার। ১২২ টি–টোয়েন্টিতে ১৩৫.৭০ স্ট্রাইকরেট ও ৩২ গড়ে ৩৫৩১ রান করেছেন। যা কোনো কিউই ব্যাটারের আন্তর্জাতিক ফরম্যাটটিতে সর্বোচ্চ।
| আন্তর্জাতিক তথ্য | |
|---|---|
| জাতীয় দল |
|
| টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ২৪৩) |
১৮ মার্চ ২০০৯ বনাম ভারত |
| শেষ টেস্ট | ৫ নভেম্বর ২০১৫ বনাম অস্ট্রেলিয়া |
| ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ১৫২) |
১০ জানুয়ারি ২০০৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ |
| শেষ ওডিআই | ২৬ আগস্ট ২০১৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা |
| ওডিআই শার্ট নং | ৩১ |
| খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
sourse: dainikazadi: sportsmail24: wikipedia...
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0