ফ্রান্সিস ক্রিক এর জীবনী | Biography of Francis Crick
ফ্রান্সিস ক্রিক | Biography of Francis Crick
ডিএনএ’র অন্যতম আবিষ্কারক ড. ফ্রান্সিস ক্রিক
ডঃ ফ্রান্সিস হ্যারি কম্পটন ক্রিক,
ওএম, এফআরএস (জুন ৮, ১৯১৬ - জুলাই ২৮, ২০০৪) একজন ইংরেজ পদার্থবিদ, আণবিক জীববিজ্ঞানী এবং স্নায়ুবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৫৩ সালে ডিএনএ অণুর গঠনের ৪ জন আবিষ্কারকের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হিসাবে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। তিনি, জেমস ডি ওয়াটসন এবং মরিস উইলকিন্স-- নিউক্লিয়িক এসিডের আণবিক গঠন এবং জীবিত বস্তুতে তথ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এদের তাৎপর্য সংক্রান্ত আবিষ্কারের জন্যে[২] ১৯৬২ সালে শারীরতত্ত্ব অথবা ভেষজবিদ্যা শাখায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। ডিএনএ আবিষ্কারের আট বছরের মাথায় ক্রিক, সিডনি ব্রেনার ও অন্যান্যদের সাথে আবিষ্কার করেন যে, জেনেটিক কোড হলো ট্রিপলেট। জেমস ওয়াটসন তার বই DNA: The Secret of Life এ ওইসময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন এভাবে-
- এক রাতে ক্রিক তাঁদের ত্রয়ী-বিমোচন পরীক্ষার ফলাফল দেখতে সহকর্মী লেসলি বারনেটকে সাথে নিয়ে গবেষণাগারে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি(ক্রিক) সেই ফলাফল যে কি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে পেরে বারনেট'কে বলেন: "একমাত্র আমরা দুজনাই জানি যে, এটা(জেনেটিক কোড) ট্রিপলেট"। আমি আর ক্রিকই সর্বপ্রথম জীবনের দ্বি-হেলিক্যাল রহস্য সম্পর্কে জানতে পারি, আর সেই রহস্য যে তিন-অক্ষরের শব্দ দিয়ে রচিত তা ক্রিকই প্রথম জানলো।
এরপরে তিনি ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এমআরসি(ল্যাবরেটরি অফ মোলেকিউলার বায়োলজি) তে কাজ করেন। পরবর্তিতে তিনি সল্ক ইন্সটিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজ'এর যে ডব্লিউ কিয়েখেফার ডিস্টিংগুইশড রিসার্চ অধ্যাপক হিসাবে ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলাতে বাকি জীবন অতিবাহিত করেন।
| জন্ম |
Francis Harry Compton Crick
৮ জুন ১৯১৬ Weston Favell, Northamptonshire, England, UK
|
|---|---|
|
মৃত্যু |
২৮ জুলাই ২০০৪ (বয়স ৮৮) San Diego, California, U.S.
|
|
মৃত্যুর কারণ |
Colon cancer |
|
জাতীয়তা |
ব্রিটিশ |
| মাতৃশিক্ষায়তন | Northampton Grammar School Mill Hill School University College London (BSc) Gonville and Caius College, Cambridge (PhD) Churchill College |
|
পরিচিতির কারণ |
DNA structure consciousness adaptor hypothesis |
|
পুরস্কার |
Nobel Prize (1962) Copley Medal (1975) |
|
বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন |
|
|
কর্মক্ষেত্র |
Physics Molecular biology |
| প্রতিষ্ঠানসমূহ | University of Cambridge University College London Cavendish Laboratory MRC Laboratory of Molecular Biology Salk Institute for Biological Studies |
|
অভিসন্দর্ভের শিরোনাম |
Polypeptides and proteins: X-ray studies (1954) |
|
ডক্টরাল উপদেষ্টা |
Max Perutz |
|
ওয়েবসাইট |
www |
DNA’র গঠন আবিস্কার নিয়ে ছেলের কাছে লেখা স্যার ফ্রান্সিক ক্রিক এর চিঠি
লিখেছেন

অনুবাদঃ
সাদিয়া মুসাররাত এবং খান তানজীদ ওসমান
আমাদের কথাঃ
১৯৫৩ সালে বিলেতি জীববিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক তার ১২ বছর বয়সী সন্তান মাইকেল কে নিজেদের সাম্প্রতিক একটি অসাধারন আবিষ্কারের বর্ণনা দিয়ে চিঠি লিখেছিলেন।
এই চিঠিতে ক্রিক এঁকেছেন এমন একটি গঠন, যা সম্ভবত এযাবৎকালে সবচেয়ে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক চিত্রকর্ম- DNA এর গঠন (যার জন্য ১৯৬২ সালে ক্রিক এবং অন্যন্যরা পেয়েছিলেন নোবেল পুরষ্কার)। উল্লেখ্য, ‘নেচার’ পত্রিকায় পাঠানোর আগেই DNA এর গঠনের বর্ণণা দিয়ে নিজের ১২ বছর বয়সী ছেলেকে চিঠিটি লিখেছিলেন ক্রিক। সেজন্য, DNA এর গঠনের বর্ণনা করা প্রথম কোনো লিখিত পত্র এটি এবং বিজ্ঞানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
গত ১০ ই এপ্রিল (২০১৩) মাইকেল ক্রিক (ছেলে) চিঠিটি অকশনে তুলেছিলেন নিউ ইয়কর্ে। একজন অজানা ক্রেতা কিনে নেন ৫.৩ মিলিয়ন মাকর্িন ডলারে; বাড়তি খরচসহ মোট খরচ আসে ৬ মিলিয়ন ডলার। অকশনে অর্জিত অধর্েক টাকা দান করা হবে সান ডিয়েগো, ক্যালিফোনর্িয়ায় অবস্থিত Salk Institute of BIological Studies এ, যেখানের প্রফেসর ছিলেন ফ্রান্সিস ক্রিক। অকশনের চিঠিটির দাম হারিয়ে দিয়েছে এর আগের রেকর্ড গড়া আব্রাহাম লিঙ্কনের একটি চিঠিকে যেটা বিক্রি হয়েছিল মোট ৩.৪ মিলিয়ন ডলারে।
মজার বিষয় হচ্ছে, নোবেল পুরস্কারের মেডেলটিও অকশনে উঠেছিল, কিন্তু সেটা এই চিঠির চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে (মাত্র ২.৩ মিলিয়ন ডলারে)। সে যাই হোক, পয়সা দিয়ে এই চিঠির মূল্য কখনই নিধর্ারন করা যায়না, বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূণর্ চিঠিগুলির একটি হলো এই হাতে লেখা চিঠিটি।
এখানে, ফ্রান্সিস ক্রিকের নিজহাতে লেখা চিঠিটির মূল ছবিসহ বঙ্গানুবাদ করা হলো। (দ্রষ্টব্যঃ ব্র্যাকেটের ভেতরে লেখাগুলি মূল লেখায় ছিলনা।)
চিঠিঃ
১৯ পর্তুগাল প্লেস কেমব্রিজ
১৯ মার্চ ‘৫৩
প্রিয় মাইকেল,
জিম ওয়াটসন এবং আমি সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূণর্ আবিস্কারটি করেছি। আমরা ডিঅক্সি-রাইবো-নিউক্লিইক-এসিডের (নামটা লক্ষ্য কর, এটাকে ছোট করে বলে DNA) গঠনের একটি মডেল তৈরি করেছি। তোমার হয়তো মনে আছে আমাদের বংশগতি বহন করা ক্রোমোজমে (chromosome) জিনের (gene) কথা- যেগুলি DNA এবং প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
আমাদের গঠনটি অদ্ভুত সুন্দর। DNA কে মোটামুটি চ্যাপ্টা পুঁতির লম্বা চেইন হিসেবে দেখতে পারো।
এখন আমরা এরকম দুইটি চেইন পাই যারা একে অপরকে পেঁচিয়ে আছে- প্রতিটা একটা হেলিক্স (helix)- এবং চেইনের যে অংশ সুগার এবং ফসফরাস থাকে তারা হেলিক্সের বাইরের দিকে থাকে এবং বেইসগুলো ভেতরের দিকে থাকে। আমি খুব ভাল আঁকতে পারছিনা, কিন্তু এটি মোটের উপর
এখন উত্তেজনাকর ব্যাপার হল, যেই চারটি বেইস আমরা খুঁজে পাই তারা একটি নিদর্িষ্ট বিন্যাসে জোড়া (pair) তৈরি করে। এই বেইসগুলোর নামও আছে- এডিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন এবং সাইটোসিন।
আমি এগুলিকে ডাকবো যথাক্রমে- A, G, T এবং C। এখন আমরা খুঁজে পেয়েছি যে একটি চেইনের একটি বেইসের সাথে আরেকটি চেইনের আরেকটি বেইসের মধ্যে জোড়াগুলি হয়
এখন পযর্ন্ত মনে হচ্ছে, (DNA দ্বিসূত্রক গঠনে) একটি চেইনের বেইসগুলি কোন নিদর্িষ্ট বিন্যাস মানেনা; কিন্তু একটি চেইনের বিন্যাস যদি অনড় (fixed) রাখা হয় তবে অন্য চেইনের বিন্যাসটিও অনড় হবে। মনে করি, প্রথম চেইন যদি গঠিত হয় এভাবে (তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হচ্ছে লেটারের বামপাশের চেইনটিকে) তবে দ্বিতীয় চেইনটা অবশ্যই এরকম হতে হবে (তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হচ্ছে লেটারের ডানপাশের চেইনটাকে)।
এটা একটি কোড (code) বা সূত্রের মত। তোমাকে যদি একটি সেটের অক্ষরগুলি দেয়া হয় তবে তুমি অন্যটির অক্ষরবিন্যাসও লিখতে পারবে।
এখন আমরা বিশ্বাস করি DNA হলো একধরনের কোড। বেইসের বিন্যাসে পার্থক্য একটি জিন (DNA) থেকে আরেকটি জিনকে পৃথক করে (যেমন একটা বইয়ের পাতার প্রিন্ট আরেকটা পাতা থেকে ভিন্ন হয়)। তুমি এখন দেখতে পাবে কিভাবে প্রকৃতি জিনের কপি বা প্রতিলিপি তৈরি করে। যেহেতু DNA চেইনগুলি পেঁচানো অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে দুইটি একক চেইন তৈরি করতে পারে, এবং প্রতিটি চেইন অন্য একটি (বিপরীত বেইস দিয়ে তৈরি, যেমন A এর জায়গায় T, G এর যায়গায় C) চেইনকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে পারে, সেহেতু, অবশ্যই A এর সাথে T এবং G এর সাথে C জোড় বাঁধার নিয়মের কারনে আমরা দুইটি DNA এর প্রতিলিপি পাবো (যেখানের প্রত্যেকটি নতুন DNA তে [দ্বিসূত্রক] একটি নতুন চেইন থাকবে এবং একটি মাতৃচেইন থাকবে)।
তিনি একজন ইংরেজ পদার্থবিদ, আণবিক জীববিজ্ঞানী এবং স্নায়ুবিদবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৫৩ সালে ডিএনএ অণুর গঠনের ৪ জন আবিষ্কারকের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হিসাবে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। তিনি, জেমস ডি ওয়াটসন এবং মরিস উইলকিন্স-নিউক্লিয়িক এসিডের আনবিক গঠন এবং জীবিত বস্তুতে তথ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এদের তাৎপর্য সংক্রান্ত আবিষ্কারের জন্য ১৯৬২ সালে শরীরতত্ত্ব অথবা ভেষজবিদ্যা শাখায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। রাসায়নিক পদার্থ যা জীবনের কার্যাদি বংশগত নিয়ন্ত্রণের জন্য চূডান্তভাবে দায়ী, এই সিদ্ধি জেনেটিক্সের ভিত্তি হয়ে ওঠে এবং বিংশ শতাব্দীর জীববিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্রিক নৌযুদ্ধের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য চৌম্বকীয় খনিগুলির বিকাশে পদার্থবিদ হিসাবে কাজ করেন। কিন্তু পরে তিনি স্ট্রঞ্জওয়েজ রিসার্চ ল্যাবরেটরি, ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজ (১৯৪৪) এর জীববিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেন। জীবের মধ্যে পাওয়া বৃহত অণুগুলির ত্রি-মাত্রিক কাঠামো নির্ধারণের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৪৯ সালে ক্যাভেনডিশ ল্যাবরেটরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল গবেষণা কাউন্সিল ইউনিটে স্থানান্তরিত হন।
এরপরে তিনি ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এমআরসি(ল্যাবরেটরি অফ মোলেকিউলার বায়োলজিতে কাজ করেন। পরবর্তিতে তিনি সল্ক ইন্সটিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজ’এর যে ডব্লিউ কিয়েখেফার ডিস্টিংগুইশড রিসার্চ অধ্যাপক হিসাবে ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলাতে বাকি জীবন অতিবাহিত করেন।
মৃত্যু:
তিনি ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুলাই ইংল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0
