মুস্তাফিজুর রহমান এর জীবনী Biography Of Mustafizur Rahman

মুস্তাফিজুর রহমান এর জীবনী Biography Of Mustafizur Rahman

May 25, 2025 - 23:43
Jun 20, 2025 - 15:25
 0  0
মুস্তাফিজুর রহমান এর জীবনী  Biography Of Mustafizur Rahman

ব্যক্তিগত তথ্য

পূর্ণ নাম

মুস্তাফিজুর রহমান
জন্ম ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ (বয়স ২৯)
কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাংলাদেশ

উচ্চতা

৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার)

ব্যাটিংয়ের ধরন

বামহাতি

বোলিংয়ের ধরন

বামহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট
ভূমিকা বোলার

মুস্তাফিজুর রহমান;

 (জন্ম ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫) সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণকারী একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দলে তিনি বাহাতি মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি তার প্রথম দুই ম্যাচে এগারোটি উইকেট লাভ করেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আবাহনী লিমিটেড, খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। এছাড়া ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত আইপিএলে তিনি "সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ" দলে খেলছেন । এবং সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ন্যাটওয়েস্ট টি২০ -তে সাসেক্স ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি । তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি উভয় একদিনের আন্তর্জাতিক এবং টেস্টের অভিষেকে 'ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ' পুরস্কার লাভ করেন। আইসিসি ঘোষিত ২০১৫ সালে আইসিসি বর্ষসেরা দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৮ সালে মুস্তাফিজুর রহমান আবারও আইসিসির সেরা একাদশের অন্তভু্ক্ত হন। এর মাধ্যমে তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এই গৌরব অর্জন করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান পিআরপি (প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা) ইনজেকশন নিয়েছেন। যে চিকিৎসা নিয়ে কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হয়। ওই বিশ্রাম শেষে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরবেন তিনি।

মুস্তাফিজের মুস্তাফিজ হয়ে ওঠার অসাধারণ গল্প

মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় নাম। বাংলাদেশের মানুষের ভালবাসার এক অপর নাম। যার জাদুকরী বলের মূর্ছনায় কেঁপে ওঠে কোটি হৃদয়। তার এক একেকটি বল যেনো ভ্যান গগের এক একটি অপূর্ব শিল্প কর্ম। আর মুস্তাফিজ নিজে হলেন ক্রিকেট মাঠের সেই ভ্যান গগ।

মুস্তাফিজুর রহমানের জন্ম সাতক্ষীরায়। ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। সাতক্ষীরা থেকে ৪৫ কি.মি. দক্ষিণে তেঁতুলিয়া গ্রামে মুস্তাফিজের বাড়ি। চার ভাই আর দুই বোনের মাঝে সবার ছোট তিনি। আর দশটা পরিবারের মত মধ্যবিত্ত এক পরিবারেই মুস্তাফিজের জন্ম। জন্মের পরপরই বাবা-মা ঠিক করে ফেললেন তার ছেলেকে হয় ডাক্তার  না হয় ইঞ্জিনিয়ার বানাবেন। পরিবারের সম্মান উঁচুতে তুলবেন মুস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সম্মান শুধু উঁচুতে নয় রাজসিংহাসনে তুলেছেন মুস্তাফিজ। কিন্তু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হয়ে নয়, এক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে। আজ আমরা সেই গল্পই শুনবো।

ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি চরম আকর্ষণ মুস্তাফিজের। সারাদিন বই-খাতার বদলে ব্যাট-বল নিয়ে পড়ে থাকতেন। বাবা-মার বিষয়টি একদমই পছন্দ ছিল না। জোর করে তাকে বারবার পড়তে বসাতেন। মুস্তাফিজের সবচেয়ে আপন ছিলেন তার সেজো ভাই মোখলেছুর রহমান। মোখলেছুর রহমান এবং তাদের মেজো ভাই জাকির হোসেন তখন টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলতেন। মুস্তাফিজের বয়স যখন ১০-১২ বছর হল তখন সেও তাদের সঙ্গী হল। বিস্ময়ের কথা মুস্তাফিজের তখন বল করার দিকে কোন আগ্রহ ছিল না! ব্যাট করার প্রতিই তার যত আগ্রহ!

মুস্তাফিজুরের তিন ভাই। ডান থেকে- বড় ভাই মাহফুজার রহমান, মেজ ভাই জাকির হোসেন ও সেজ ভাই মোখলেছুর রহমান;Image Courtesy:risingbd.com

গ্রামের তেঁতুলিয়া মাঠে একদিন খেলা চলছিল। মুস্তাফিজরা তিন ভাইই খেলছিলেন। বিপক্ষ দলের সেরা ব্যাটসম্যান তখন ক্রিজে। একের পর এক বাউন্ডারি। কিছুতেই তাকে আউট করা যাচ্ছে না। মুস্তাফিজের ভাই মোখলেছুর রহমান মুস্তাফিজের হাতে তুলে দিলেন বল। বল করলেন মুস্তাফিজ! এবং আউট! জীবনের প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে জানান দিলেন পাড়াগাঁয়ের ক্রিকেট নয়, বিশ্ব ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দিতে এসেছেন তিনি। তার বোলের জাদুতে বিমোহিত করতে এসেছেন তিনি। এই উইকেটটিই মুস্তাফিজের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে গেল। বোলিং এর দিকে ঝুঁকে পড়লেন তিনি।

বরেহা মলনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করানো হল মুস্তাফিজকে। বাড়ি থেকে এল ক্রিকেট খেলাত প্রতি চরম নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু রক্তে যার ক্রিকেট তাকে আটকিয়ে রাখে সাধ্য কার? তাই বাড়ি থেকে পালিয়ে বার বার ছুঁটে যেতেন খেলার মাঠে। এরই মাঝে চলে এল অনূর্ধ্ব-১৪ এর বাছাই পর্ব। সেজো ভাইয়ের সহযোগীতায় অংশ নিলেন মুস্তাফিজ। উত্তীর্ণ হয়ে গেলেন। শুরু হল সাতক্ষীরায় ক্রিকেট একাডেমির অধীনে প্রশিক্ষণ।

সেজো ভাই মোখলেছুর রহমান প্রতিদিন ভোরে উঠতেন মুস্তাফিজের জন্য। তারপর গ্রাম থেকে ৪৫ কি.মি. দূরে মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরা নিয়ে আসতেন প্রশিক্ষণের জন্য। আজ আমরা মহেন্দ্র সিং ধনীর জীবনী নিয়ে বানানো সিনেমা দেখে বাহবা দেই। মুস্তাফিজের জীবন কি কম প্রতিকূলতায় ভরপুর ছিল? তার জীবন কি কম নাটকিয়তাই পূর্ণ?

অনূর্ধ্ব-১৪ এর পরে অনূর্ধ্ব-১৬ তে সাতক্ষীরার হয়ে প্রথম মাঠে নামেন মুস্তাফিজ। হীরে চিনতে কতক্ষণ লাগে? ডাক পেয়ে গেলেন খুলনার বিভাগীয় দলে। ২০১২ সালে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ফাস্ট বোলিং ক্যাম্পে ট্রায়াল দিতে আসেন মুস্তাফিজ। কোচের নজরে পড়ে যান তিনি। মুগ্ধ কোচ এরপর তার হাতে পাওয়া হীরার টুকরোকে ঘষা মাজার কাজ শুরু করলেন।

চোখের পলকেই অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে গেলেন মুস্তাফিজ। স্বপ্ন পূরণের হতছানি তার সামনে। ২০১৪ সালে অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেললেন এই বিস্ময়বালক। ৬ ম্যাচ খেলে ৯ উইকেট তুলে নিলেন। জানান দিলেন তার আগমনী বার্তার। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বোলার ছিলেন তিনি।

প্রারম্ভিক জীবন

খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী বামহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ২০১২ সালে ফাস্ট-বোলারদের ক্যাম্পে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন। নিজ শহর সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ প্রতিযোগিতায় চমকপ্রদ ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এরপর তাকে বিসিবি’র পেস ফাউন্ডেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকাকালীন দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের জন্যও তিনি মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

ঘরোয়া ক্রিকে

২০১৩-১৪ মৌসুমে খুলনার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে আট উইকেট লাভ করেন। এরফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশ এ দলের সফরে অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। এ সংক্ষিপ্ত সফরের পর অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে তিনি বিবেচিত হন ও ধীরে ধীরে বলের বৈচিত্র্যতা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হন। শুরুতে তার বলে পেস কম থাকলেও ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১৯.০৮ গড়ে ২৬ উইকেট দখল করেন। ১৫ মার্চ ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলা হলে বাংলাদেশ টেস্ট দলের কয়েকজন সদস্যের সাথে তিনিও সন্ত্রাসী হামলার প্রত্যক্ষদর্শী হন এবং অল্পের জন্য বেচেঁ যান।

২০১৯ সালের ২২ মার্চ তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

সম্মাননা

ক্রিকেটের বৈশ্বিক পরিচালনা পরিষদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃক ২০১৫ সালের আইসিসি ওডিআই বর্ষসেরা দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে তাকে মনোনীত করে। মূলতঃ ঐ বছরের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের একজনরূপে গণ্য করায় তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।এরফলে প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে তিনি এ বিরল সম্মানের অধিকারী হন। এছাড়াও, সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি'র যে-কোন দলে দ্বিতীয় ব্যক্তি তিনি। ২০১৫-১৬ মৌসুমে আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। ”প্রথম আলো” বর্ষসেরা ক্রীড়া পুরস্কার (২০১৫ এবং ২০১৬ সাল)

আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় দল
  • বাংলাদেশ
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৭৮)
২১ জুলাই ২০১৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা

শেষ টেস্ট

৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১১৮)
১৮ জুন ২০১৫ বনাম ভারত

শেষ ওডিআই

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বনাম নিউজিল্যান্ড

ওডিআই শার্ট নং

৯০
টি২০আই অভিষেক
(ক্যাপ ৪৪)
২৪ এপ্রিল ২০১৫ বনাম পাকিস্তান

শেষ টি২০আই

১৬ জুলাই ২০২৩ বনাম আফগানিস্তান

sourse; archive.roar.media; wikipedia

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0