নাসির আল-দিন আল-তুসি এর জীবনী | Biography of Nasir al-Din al-Tusi

নাসির আল-দিন আল-তুসি এর জীবনী | Biography of Nasir al-Din al-Tusi

May 16, 2025 - 11:24
May 24, 2025 - 10:59
 0  1
নাসির আল-দিন আল-তুসি এর জীবনী | Biography of Nasir al-Din al-Tusi

নাসির আল দীন আল তুসি: এক বিস্ময়কর পারস্য প্রতিভার গল্প

মুহ়ম্মদ ইবনে আল-হ়াসান আত়-ত়ুসী (ফার্সি: محمد بن محمد بن حسن طوسی; ১৮ ফেব্রুয়ারি ১২০১ – ২৬ জুন ১২৭৪), যিনি নাসিরুদ্দীন তুসী (نصیر الدین طوسی) বা স্রেফ তুসী নামে অধিক পরিচিত, ছিলেন একজন পারসিক শিয়া মুসলিম বহুশাস্ত্রজ্ঞ, স্থপতি, দার্শনিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও ধর্মতাত্ত্বিক। মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানী তুসীকে প্রায়শই ত্রিকোণমিতির উদ্ভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনিই প্রথম ত্রিকোণমিতিকে একটি স্বতন্ত্র গাণিতিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। মুসলিম মনীষী ইবনে খালদুন তাঁকে শ্রেষ্ঠ পারসিক পণ্ডিতদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করতেন।

জীবনী

নাসির আল দীন তুসী জন্মগ্রহণ করেন ইরানের তুস নামক এলাকাতে ১২০১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি শিয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবেই তার বাবাকে হারান। হামাদান এবং তুস নামক নগরীতে তিনি কুরআন, হাদিস, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন এবং গণিত পড়েন। তিনি কিশোরকালেই নিশাপুরে দর্শন এবং গণিত পড়া শুরু করেন।

উপাধি

খাজা নাসির

ব্যক্তিগত তথ্য

জন

১৮ ফেব্রুয়ারি ১২০১
তুস, খোরাসান, খোয়ারিজমীয় সাম্রাজ্য

মৃত্যু

২৬ জুন ১২৭৪ (বয়স ৭৩)
বাগদাদ, ইলখানাত

সমাধিস্থল

কাজিমিয়া, বাগদাদ, ইরাক
৩৩°২২′৪৮″ উত্তর ৪৪°২০′১৭″ পূর্ব

ধর্ম

ইসলাম

জাতিসত্তা

পারসিক

অঞ্চল

পারস্য

আখ্যা

শিয়া

সম্প্রদায়

ইসনা আশারিয়া
উসুলি

ব্যবহারশাস্ত্র

জাফরি

ধর্মীয় মতবিশ্বাস

ইসনা আশারিয়া

প্রধান আগ্রহ

কালাম, ইসলামি দর্শন, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, বিজ্ঞান

উল্লেখযোগ্য ধারণা

গোলাকার ত্রিকোণমিতি, তুসী যুগল

উল্লেখযোগ্য কাজ

রওজা-এ-তাসলিম, তাজরিদ আল-আকাঈদ,
আখলাক-এ-নসরী, জিজ-এ-ইলখানী,
আর-রিসালাহ আল-আসতুরলাবিয়াহ,
আত-তাদকিরাহ ফি ইল্ম আল-হায়াহ

শিক্ষক

কামালুদ্দীন ইউনুস[]

কর্ম

নাসির উদ্দিন তুসি প্রায় ৫৬টি  বই লিখেন। এরমধ্যে শুধু জ্যামিতি, গোলাকার ত্রিকোণমিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে মোট ষোলটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ত্রিকোণমিতিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান হতে পৃথক করে সমতল এবং গোলাকৃৎ ত্রিকোণমিতি সম্পর্কে বর্ণনা করেন। গণিতশাস্ত্র প্রণীত তার গ্রন্থগুলোর মধ্যে মুতাওয়াসিতাত বাইনাল হান্দাসা ওয়াল হাইয়া (The Middle Books between Geometry and Astronomy), জামিউল হিসাব বিত তাখতে ওয়াত্বোরাব (Summary of the Whole of Computation with Table and Earth), কাওয়ায়েদুল হান্দাসা, তাহিরুল উসুল অন্যতম।

নাসির উদ্দিন তুসি তার সমস্ত প্রবন্ধ বা পুস্তিকা লিখেছিলেন আরবি ভাষায়। জ্ঞানের পরিধি ও গভীরতার দিক থেকে এই মহান মনীষীর জ্ঞানকে ইরানের মনীষী ইবনে সিনার সঙ্গে তুলনা করা হয়। এ দুজনের মধ্যে ইবনে সিনা চিকিৎসা শাস্ত্রে বেশি পারদর্শী ছিলেন। অন্যদিকে নাসির উদ্দিন তুসির দক্ষতা বেশি মাত্রায় প্রকাশিত হয়েছিল গণিতে। গণিতের নানা বিষয়ে বেশ কয়েকটি মূল্যবান বই লিখেছিলেন নাসির উদ্দিন তুসি। জার্মান প্রাচ্যবিদ কার্ল ব্রোকেলম্যান মনে করেন নাসির উদ্দিন তুসি বড় ধরনের অবদান রেখেছেন গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায়।

কার্ল ব্রোকেলম্যান তার বইয়ে এটাও উল্লেখ করেছেন যে, নাসির উদ্দিন তুসি বিজ্ঞান সম্পর্কিত অনেক বই অনুবাদ করেছিলেন এবং তিনিই প্রথমবারের মত ত্রিকোনমিতিকে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। জ্যোতির্বিদ্যার ওপরও কয়েকটি মূল্যবান রচনা রেখে গেছেন ইরানের এই মনীষী। গণিত বিষয়ে নাসির উদ্দিন তুসির বইগুলো মুসলিম পণ্ডিত বা আলেমদের শিক্ষা-কারিকুলামে স্থান পেয়েছিল। নাসির উদ্দিন তুসির কোনো কোনো মূল্যবান বই অনুদিত হয়েছিল কয়েকটি বিদেশী ভাষায়। ফলে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা উপকৃত হয়েছিলেন এইসব বই থেকে ।

খাজা নাসির আল-দীন তুসি

তিনি একজন বিশিষ্ট ইরানি কবি, দার্শনিক, ধর্মতত্ত্ববিদ, আইনবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ, গণিতবিদ, চিকিৎসক, স্থপতি ও রাজনীতিবিদ। ‘নাসির আল-দীন’,‘মোহাক্কেক তুসি’,‘ওস্তাদ আল-বাশার’ এবং ‘খাজা’ নামেও তিনি প্রসিদ্ধ। তিনি ১২০১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তুস নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞান অধ্যয়নের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং অল্প বয়স থেকেই গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শনে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং তাঁর সময়ের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। খাজা নাসির আল-দীন আল-তুসি ছিলেন মঙ্গোলদের অন্ধকার দিগন্তে জ্বলজ্বল করা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

মারাগেহ মানমন্দিরটি খাজা নাসির আল-দীন তুসির আদেশে এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা একটি বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুরূপ এবং এতে 4 লক্ষ বইয়ের একটি লাইব্রেরি এবং জ্যোতির্বিদ্যা যন্ত্রের সংগ্রহ ছিল, যেখানে তিনি প্রতিটি বিভাগের প্রধান হিসাবে সেই সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানীদেরকে নিয়োগ করেছিলেন তাঁদের জাতীয়তা ও ধর্ম বিবেচনা ছাড়াই। UNESCO ২০০৮ সালকে মারাগেহ মানমন্দিরের বছর হিসাবে মনোনীত করেছে এবং এই মানমন্দিরটিকে UNESCO এর স্পৃশ্য ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

খাজা নাসির আল-দীন আল-তুসির কয়েকটি বিখ্যাত বই হলো ইবনে সিনার এশারাত গ্রন্থের ভাষ্য , ‘তাজরিদ আল-ইতিকাদ’, ‘আল-তাজকিরাহ আল-নাসিরিয়া’, ‘আখলাক-ই নাসেরি’, ‘জা

ওহর আল-ফারাইজ’, জ্যোতির্বিদ্যার বই, ‘যুক্তিবিদ্যার নীত’ ইত্যাদি। খাজার লেখা ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে ল্যাটিন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং তাঁর কিছু রচনা মিশর,ভারত ও ইরানেও প্রকাশিত হয়েছে।

ইউনেস্কো ২০০৮ -কে মারেঘে পর্যবেক্ষণের বছর হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী এ সংস্থার তালিকায় এটি নিবন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নাসির আল-দীন তুসির কয়েকটি বিখ্যাত রচনা:
1। শরহ-ই ইশরাত ইবনে সিনা (আভিসেন্না এর ইশারতের ভাষ্য, এভিসেননার রচনাগুলির সমালোচনামূলক লেখা)
2। তাজিদ আল-ইত্তঘাদ (বিশ্বাসের বিষয়বস্তুগুলির সামমা), শিয়া মতবাদের একটি ভাষ্য।
3। আল তদ্কির ফাই ইলম আল হায়াত তদ্কির নাসরিয় (জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিজ্ঞান সম্পর্কিত স্মারক)
৪) তাহরির আল-মাজেস্তি দার হিয়াত ও নওজুম (টলেমি দ্য আলমাজেস্টের কাজ সম্পর্কিত গ্রন্থ)
৫. আখলাহ-ই নাসেরি (নীতিশাস্ত্রের একটি কাজ)
6। আল -আদাব আবুখীর লেল-ভালাদ আল সাঘির (ফার্সি ও আরবি কবিতাগুলির সাথে ক্যানজোনিয়ার একটি ধরণের)
Java. জাভের আল ফারেনিজ (উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বিভাজনের জন্য উত্তরাধিকার সম্পর্কে ধর্মীয় বিধি)
8। আসস আল ইঘতেবাস (যুক্তি সম্পর্কিত গ্রন্থ)
9। বিস্ট বাব দার অস্ত্রোলব দার অলুম-ই ঘরিবেহ (বিদেশী জ্যোতিষীদের কাজের প্রচার)
১০. জিজ ইলখানী (ইলখানিক টেবিল) জ্যোতির্বিদ্যার উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ
11। মাসালসাত কোরাভি (গোলকসংক্রান্ত ত্রিকোণমিতি উপর তর্ক)
যুক্তি ও জ্যোতির্বিদ্যায় গ্রন্থনা ও অসংখ্য খণ্ড রয়েছে এবং তাঁর রচনাগুলি লন্ডনে ১ 1652৫২ সালে লাতিনে প্রকাশিত হয়েছিল; এর একটি অংশ মিশর, ভারত এবং ইরানে প্রকাশিত হয়েছিল।

মৃত্যু: 

খাজা নাসির আল-দীন তুসি ১২৭৪ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন  বাগদাদে মারা যান এবং তাঁর দেহ কাদিমিয়াতে স্থানান্তরিত করা হয় এবং দুই মাসুম শিয়া ইমামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।

sourse: wikipedia

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0