রদ্রি এর জীবনী | Biography of Rodri

রদ্রি এর জীবনী | Biography of Rodri

May 21, 2025 - 15:51
May 28, 2025 - 22:33
 0  1
রদ্রি এর জীবনী | Biography of Rodri

কেন ১১ বছর আগেই ফুটবল ছাড়তে চেয়েছিলেন রদ্রি 

ব্যক্তিগত তথ্য

পূর্ণ নাম

রোদ্রিগো এর্নান্দেস কাসকান্তে

জন্ম

২২ জুন ১৯৯৬ (বয়স ২৮)

জন্ম স্থান

মাদ্রিদ, স্পেন

উচ্চতা

১.৯১ মিটার (৬ ফুট ৩ ইঞ্চি)

মাঠে অবস্থান

মধ্যমাঠের খেলোয়াড়

ক্লাবের তথ্য

বর্তমান দল

ম্যানচেস্টার সিটি 

জার্সি নম্বর

১৬

যুব পর্যায়

২০০৬–২০০৭

রায়ো মাহাদাওন্দা

২০০৭–২০১৩

আতলেতিকো মাদ্রিদ

২০১৩–২০১৫

ভিয়ারিয়াল

জ্যেষ্ঠ পর্যায়*

বছর

দল ম্যাচ (গোল)

২০১৫–২০১৬

ভিয়ারিয়াল বি ৪১ (১)

২০১৫–২০১৮

ভিয়ারিয়াল ৬৩ (১)

২০১৮–২০১৯

আতলেতিকো মাদ্রিদ ৩৪ (৩)

২০১৯–

ম্যানচেস্টার সিটি ২৮ (৩)

জাতীয় দল

২০১২

স্পেন অনূর্ধ্ব-১৬ (০)

২০১৫

স্পেন অনূর্ধ্ব-১৯ (০)

২০১৭

স্পেন অনূর্ধ্ব-২১ (১)

২০১৮

স্পেন ১১ (০)

রোদ্রিগো এর্নান্দেস কাসকান্তে

 (স্পেনীয় উচ্চারণ: [roˈðɾiɣo eɾˈnandeθ kasˈkante], স্পেনীয়: Rodri; জন্ম: ২২ জুন ১৯৯৬; রোদ্রি নামে সুপরিচিত) হলেন মাদ্রিদে জন্মগ্রহণকারী একজন স্পেনীয় পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। তিনি বর্তমানে ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে একজন মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি মূলত একজন রক্ষণাত্মক মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেললেও মাঝেমধ্যে কেন্দ্রীয় মধ্যমাঠের খেলোয়াড় অথবা কেন্দ্রীয় রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলে থাকেন।

২০০৬–০৭ মৌসুমে, স্পেনীয় ফুটবল ক্লাব রায়ো মাহাদাওন্দার যুব পর্যায়ের হয়ে খেলার মাধ্যমে রোদ্রি ফুটবল জগতে প্রবেশ করেন; অতঃপর তিনি আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং ভিয়ারিয়ালের মতো ক্লাবের যুব পর্যায়ের হয়ে খেলার মাধ্যমে নিজের খেলার বিকাশ করেছেন। ২০১৫–১৬ মৌসুমে, প্রথমে ভিয়ারিয়াল বি-এর হয়ে এবং পরবর্তীতে ভিয়ারিয়ালের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি তার জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন, ভিয়ারিয়ালের হয়ে তিনি ৩ মৌসুম অতিবাহিত করেছেন; এই ক্লাবের হয়ে তিনি ৬৩ ম্যাচে ১টি গোল করেছেন। পরবর্তীতে তিনি আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন। ২০১৯–২০ মৌসুমে, তিনি ৭০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ হতে ইংরেজ ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগদান করেছেন।

দলগতভাবে, ঘরোয়া ফুটবলে, রোদ্রি এপর্যন্ত ৩টি শিরোপা জয়লাভ করেছেন, যার ১টি আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে এবং ২টি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়, এপর্যন্ত ১টি শিরোপা জয়লাভ করেছেন; যেটি হচ্ছে ২০১৫ উয়েফা ইউরোপীয় অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ।

ফুটবল অঙ্গনে রদ্রি এখন বড় মাপের খেলোয়াড়। মর্যাদাবান ব্যালন ডি'অর সম্মাননাপ্রাপ্ত ফুটবলার ও ইউরো জয়ী তারকা। যদিও গেল অক্টোবরে স্প্যানিশ তারকার অর্জিত এই পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সেই বিতর্ক কতদিনই মনে রাখবে ফুটবলভক্তরা? বেশিদিন না নিশ্চয়ই।

মজার বিষয় হলো- এই বিতর্কের অবসান হয়ে যেতে পারতো ১১ বছর আগেই। ২০১৩ সালে ফুটবল খেলাই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন রদ্রি। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার যদি সত্যিকার অর্থেই ওই সময় খেলা ছাড়তেন, তাহলে তো ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও বিতর্ক তৈরি করে ব্যালন ডি'অর পুরস্কার নিতে আসতেন না।

কিন্তু কেন ফুটবল ছাড়তে চেয়েছিলেন রদ্রি? সম্প্রতি স্পেনের বিখ্যাত টেলিভিশন প্রোগ্রাম আয়োজক ‘এল হরমিগুয়েরো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জীবন-সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন তিনি।

রদ্রির কথাগুলো পড়ার আগে তার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতিবৃত্ত জানা যাক।

রদ্রির জন্ম ১৯৯৬ সালের স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে। এই শহরের জনপ্রিয় ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে ফুটবলের হাতেখড়ি তার। ২০০৭ সালে মাত্র ১১ ব্ছর বয়সে ক্লাবটির ইয়ুথ দলে খেলা শুরু করেন রদ্রি। ২০১৩ সাল পর্যন্ত একটানা ৬ বছর অ্যাতলেতিকোয় ছিলেন তিনি।

এরপরই রদ্রির জীবনে চ্যালেঞ্জিং সময় আসে। দিতে হয় অগ্নিপরীক্ষা। নিতে হয় কঠিন সিদ্ধান্ত। শারীরিক সক্ষমতার অভাব আছে, এমন অজুহাতে রদ্রিকে রিলিজ দিয়ে দেয় অ্যাতলেতিকো। এরপর স্প্যানিশ তারকার সামনে অন্ধকার।

এরপর নতুন ক্লাবের খোঁজে নামেন রদ্রি। এক পর্যায়ে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চল ভিয়ারিয়াল থেকে প্রস্তাব পান তিনি। ক্লাবটিতে যোগ দিতে হলে পিতৃভূমি মাদ্রিদ ছাড়তে হবে তাকে। রদ্রির বয়স তখন সবেমাত্র ১৭। কৈশবকাল না পেরোতেই প্রিয় ভূমি মাদ্রিদ ও পরিবার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিনই ছিল তার জন্য।

বিজ্ঞাপন

শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্তটাই নিলেন রদ্রি। পরিবার ছেড়ে পাড়ি জমালেন ভিয়ারিয়ালে। ক্লাবটিতে গিয়েও অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল তাকে। ২০১৩ সালে চুক্তিবদ্ধ হলেও ক্লাবটির সিনিয়র দলে খেলার সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দুই বছর। ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভিয়ারিয়ালের সিনিয়র দলে অভিষেক হয়েছিল রদ্রির।

২০১৮ সালে ভিয়ারিয়াল থেকে পুনরায় বাল্যকালের ক্লাব অ্যাতলেতিকোতে আসেন রদ্রি। এবার টিকতে পারেন এক মৌসুম। পরের বছরই পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। চুক্তিবদ্ধ হন প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে। এখন পর্যন্ত সিটিতেই আছেন তিনি।

নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে রদ্রি বলেন, ‘আমার স্বাভাবিক কৈশোর ছিল না। অনেক দারুণ মুহূর্ত মিস করেছি। আমার পরিবার ছেড়ে ভিয়ারিয়ালে যাওয়া ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রথম বছর ছিল কঠিন। কেননা ১৭ ও ১৬ এর (বয়স) মধ্যে আপনাকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।’

ভিয়ারিয়ালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাবার সঙ্গে আলোচনা করেই নিয়েছিলেন রদ্রি। সেই স্মৃতি মনে করে রদ্রি বলেন, ‘আমি আমার বাবাকে ডেকেছিলাম। হৃদয়বিদারক সেই মুহূর্তে তাকে জিজ্ঞাসা করেছি যে, আমি কোন বড় জিনিস বিসর্জন দিয়েছি (খেলা) চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তিনি আমাকে বলেছিলেন, সামনের বছর ও যে বছর পার করেছি তাতে আমার সবকিছু দেওয়া উচিত। তিনি আমাকে বলেছিলেন ফলাফলের কথা ভুলে যেতে। শুধু জেতার কথা বলতেন। কারণ, আমার হারানোর কিছু ছিল না।’

রদ্রিই পেলেন ব্যালন ডি'অর

গত কিছুদিন ধরেই জোরালো গুঞ্জন ছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যালন ডি'অর পাওয়ার। কিন্তু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি। ভিনিসিয়ুসের পরিবর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন রদ্রি। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনা-কল্পনাই সত্যি হলো। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি'অর জিতলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ তারকা।

বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাতে প্যারিসের থিয়েটার দু শাতলেতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি পেয়েছেন রদ্রি।

এসিএল চোটে বর্তমানে মাঠের বাইরে থাকা এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্রাচে ভর দিয়ে মঞ্চে ওঠেন ব্যালন ডি'অর নিতে। তার হাতে ট্রফি তুলে দেন ব্যালন ডি'অরজয়ী একমাত্র আফ্রিকান ফুটবলার ও লাইবেরিয়ান কিংবদন্তি জর্জ উইয়াহ।

ভিনিসিয়ুসের ব্যালন ডি'অর না পাওয়ার খবর আগেই পৌঁছে যায় গত মৌসুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। বেজায় ক্ষুব্ধ হওয়া স্প্যানিশ ক্লাবটি বয়কট করেছে এবারের অনুষ্ঠান। ব্যালন ডি'অরের বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'এটা স্পষ্ট যে, ব্যালন ডি'অর-উয়েফা রিয়াল মাদ্রিদকে সম্মান করে না। আর যেখানে সম্মান নেই, রিয়াল মাদ্রিদ সেখানে যায় না।'

সেরা হওয়ার দৌড়ে রদ্রি পেছনে ফেলেন ভিনিসিয়ুস ও রিয়ালের আরেক তারকা জুড বেলিংহ্যামকে। গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস ও ইংলিশ মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম জেতেন লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ইংলিশ ক্লাব ম্যান সিটির জার্সিতে রদ্রি স্বাদ নেন প্রিমিয়ার লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপার। জাতীয় দল স্পেনের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফিও উঁচিয়ে ধরেন তিনি।

স্পেনের হয়ে কিংবদন্তি আলফ্রেদো দি স্তেফানোও ব্যালন ডি'অর জিতেছিলেন। তিনি ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ সালে দুবার উঁচিয়ে ধরেছিলেন ট্রফিটি। তবে তার জন্ম হয়েছিল আর্জেন্টিনায়। ১৯৫৬ সালে স্পেনের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন রিয়ালে ১১ বছর কাটানো এই ফরোয়ার্ড।

২৮ বছর বয়সী রদ্রির সফলতা সুখবর হয়ে এলো ম্যানচেস্টার সিটির জন্যও। ইংলিশ ক্লাবটির ইতিহাসে ব্যালন ডি'অরজয়ী প্রথম ফুটবলার তিনি।

ব্যালন ডি'অর দেওয়ার জন্য 'ফ্রান্স ফুটবল' এবার ২০২৩ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত পারফরম্যান্সকে বিবেচনা করেছে। ছেলেদের বিভাগে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশের (৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশের আগে) একজন করে সাংবাদিক ভোট দিয়েছেন। প্রত্যেক সাংবাদিক ১০ জনকে বেছে নিতে পেরেছেন। সেই খেলোয়াড়রা ক্রমানুসারে ১৫, ১২, ১০, ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট পেয়েছেন।

২০২৪ সালের মেয়েদের ব্যালন ডি'র জিতেছেন আইতানো বনমাতি। টানা দ্বিতীয়বার বার্সেলোনার স্প্যানিশ মিডফিল্ডার এই সম্মাননা পেলেন। মেয়েদের বিভাগে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৫০টি দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দিয়েছেন।

  sourse : thedailystar ... jagonews24 .....wikipedia 

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0