ঝাং হেং এর জীবনী | Biography of Zhang Heng

ঝাং হেং এর জীবনী | Biography of Zhang Heng

May 17, 2025 - 20:29
May 25, 2025 - 11:24
 0  1
ঝাং হেং  এর জীবনী  | Biography of Zhang Heng

ভূকম্প নির্দেশকের আবিষ্কার 

জন্ম: 

৭৮ খ্রিস্টাব্দ

মৃত্যু: 

১৩৯ খ্রিস্টাব্দ (বয়স ৬১ বছর)

ঝাং হেং

 (Chinese: 張衡; জন্ম ৭৮ - মৃত্যু ১৩৯ খ্রিষ্টাব্দ), আগে রোমানীকরণ করে লেখা হতো চ্যাং হেং, ছিলেন হান সম্রাজ্যের সময়কালে ন্যানইয়াং অঞ্চলের হান-চাইনিজ জাতির একজন বহুবিদ্যাবিশারদ। লাউইয়াং এবং চ্যাংগান এর মূল প্রশাসনিক শহরে তিনি বিদ্যালাভ করেন এবং পরবর্তীতে একজন জোতির্বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, আবিষ্কারক, ভূ-গোলবিদ, মানচিত্রাঙ্কনবিদ, শিল্পী, কবি, রাজনীতিবিদ এবং সাহিত্য বিশারদ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

ঝাং যন্ত্রবিজ্ঞান এবং গিয়ারের উপর তার গভীর জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু জিনিস আবিষ্কার করেন। তিনি মহাকাশ পর্যবেক্ষণে সহায়ক পৃথিবীর প্রথম জল-চালিত আর্মিলারি গোলক (একধরনের মহাকাশের মডেল যা জোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে সহায়তা করে) আবিষ্কার করেন , আরেকটি ট্যাঙ্ক (জলাধার) লাগানোর মাধ্যমে ইনফ্লো ওয়াটার ক্লক (জল ঘড়ি) উন্নত করেন, এবং পৃথিবীর প্রথম সিসমোস্কোপ (ভূকম্পমাপক) আবিষ্কার করেন, যা ৫০০ কি.মি (৩০০ মাইল) দূরের ভূমিক্মম্পের দিক নির্দেশ করতে সক্ষম। তিনি পাই এর মান নির্ধারণে পূর্বে ব্যবহৃত চীনা পদ্ধতিকে আরও উন্নত করেন।

 তার সুবিশাল নক্ষত্র তালিকায় ২৫০০ নক্ষত্রের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি তিনি চাঁদ এবং সূর্যের সাথে এর সম্পর্কের ধরন নিয়ে তত্ত্ব প্রদান করেন, বিশেষ করে চাদের গোলক আকৃতি এবং সূর্যের আলোর প্রতিফলনের কারণে তার একপাশে আলো এবং অন্য পাশে অন্ধকার বৈশিষ্ট্য এবং চাঁদ ও সূর্য গ্রহণের বৈশিষ্ট্য নিয়ে তত্ত্ব প্রদান করেন। তার রচিত ফু এবং শি ধরনের কবিতা তার জীবনকালেই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং পরবর্তী প্রজন্মের চীনা লেখকেরা তার সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করেন। ঝাং তার জ্ঞান এবং সৃষ্টিশীলতার কারণে মরোনত্তর অনেক সম্মোনে ভূষিত হন, বর্তমানকালের অনেক গবেষক জোর্তিবিজ্ঞান সংক্রান্ত ঝাং-এর কাজ গ্রীকো-রোমান জোর্তিবিজ্ঞানী টলেমি’র (৮৬-১৬১ খ্রিঃ) কাজের সাথে তুলনীয় বলে মনে করেন।

চীনে গণিত

পাঠ্য উৎসসমূহ

খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতক থেকে খ্রিস্টীয় ৭ম শতক এবং পরবর্তীতে ১৩শ শতকে চীনে যেসব বই রচিত হয়েছিল, সেগুলো পূর্ব এশিয়ায় গণিতের বিকাশের ভিত্তি গড়ে তোলে। পরবর্তী প্রায় সব গণিত সংক্রান্ত রচনাই এসব বইয়ের প্রতি উল্লেখ করে। এই সময়ের যে সব গাণিতিক রচনা টিকে আছে এবং রাজবংশীয় ইতিহাসে সংকলিত গ্রন্থপঞ্জিগুলোর মধ্যে পাওয়া উদ্ধৃতিগুলো থেকে বোঝা যায় যে, পাঠ্য ইতিহাসে অনেক ফাঁক রয়ে গেছে। যেসব প্রাচীন বই টিকে আছে, সম্ভবত তারা সরকারিভাবে অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তক হয়ে উঠেছিল এবং চীনা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রেক্ষাপটে পড়ানো হত বলেই তা সংরক্ষিত হয়েছে।

চীনা গণিতের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো Jiuzhang Suanshu বা “গণিতের কলায় নয় অধ্যায়”। এতে গণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতির অ্যালগরিদম বা প্রক্রিয়াবদ্ধ নিয়মাবলি রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন সমস্যার প্রেক্ষিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অনেক সমস্যাই প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হতো, যেমন:

  • জমি জরিপ (ক্ষেত্রফল নির্ধারণ),

  • বিভিন্ন ধরনের শস্য অনুযায়ী কর নির্ধারণ (অনুপাত),

  • সরকারী কর্মচারীদের পদমর্যাদা অনুযায়ী বেতন হিসাব (অসম বণ্টন),

  • নির্মাণ প্রকল্পের জন্য শ্রম এবং গুদামজাত শস্যের পরিমাণ হিসাব (আয়তন),

  • ন্যায্য কর নির্ধারণ (বিভিন্ন অনুপাতের সমন্বয়ে তৈরি সমস্যা) ইত্যাদি।

এই গ্রন্থটি খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতক বা খ্রিস্টীয় ১ম শতকের (এর নির্দিষ্ট সময় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ আছে) সংকলন এবং এটি দুটি মূল উৎসের ভিত্তিতে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এর প্রাচীনতম বিদ্যমান সংস্করণটি ১২১৩ সালে মুদ্রিত হয়েছিল, যা বিদ্যমান সবচেয়ে পুরনো মুদ্রিত গাণিতিক গ্রন্থ। তবে এতে কেবল প্রথম পাঁচটি অধ্যায় সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে যা The Nine Chapters নামে পরিচিত, তা ১৮শ শতকে একটি ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার ফল, যেখানে এই প্রাচীন উৎস এবং ১৫শ শতকে সংকলিত বৃহৎ চীনা বিশ্বকোষ Yongle Dadian—এর উদ্ধৃতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে বইটি পুনর্গঠন করা হয়।

ইউক্লিডের Elements যেমন পশ্চিমা জগতের গণিতের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, তেমনি The Nine Chapters পূর্ব এশিয়ায় গণিতের বিকাশে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। প্রায় সব গণিতবিদই এর প্রতি উল্লেখ করেছেন এবং তারা যেসব বিষয়ে কাজ করেছেন, তার বেশিরভাগই এখান থেকে এসেছে। এই গ্রন্থের কাঠামো অনুসরণ করে পরবর্তী লেখকেরা সমস্যার জন্য একটি সংখ্যাগত উত্তর এবং একটি সাধারণ সমাধানপদ্ধতি প্রদান করতেন। অন্যান্য প্রথাগত গ্রন্থের মতো, অনেক পণ্ডিত The Nine Chapters এর ওপর ব্যাখ্যামূলক রচনা লিখেছেন—ব্যাখ্যা ও প্রমাণ যুক্ত করেছেন, পদ্ধতিগুলো পুনর্লিখন করেছেন এবং নতুন পদ্ধতিও প্রস্তাব করেছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টীকাটি হলো লিউ হুই (৩য় শতক) কর্তৃক রচিত, যেখানে আধুনিক অর্থে প্রাচীন চীনা গাণিতিক প্রমাণগুলোর প্রাথমিক নিদর্শন পাওয়া যায়।

৭ম শতকে সম্রাটের গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ লি ছুনফেং-এর নেতৃত্বে একটি দল The Nine Chapters এবং হান রাজবংশের জ্যোতির্বিদ্যাগত গ্রন্থ Zhoubi (“ঝৌ-এর ছায়াঘড়ি”) সহ আরও কয়েকটি বইকে একত্র করে একটি সংকলন তৈরি করেন। এই সংকলনটির নাম Shibu Suanjing বা গণিতের দশ ক্লাসিক, যা নবগঠিত রাষ্ট্রীয় গণিত বিভাগে প্রশিক্ষণরত কর্মচারীদের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহৃত হত।

পরবর্তীতে কিছু মানুষ সরকারিভাবে গণিতবিদ হিসেবে প্রশিক্ষণ পেলেও, ১১শ শতক পর্যন্ত গণিতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায় না। তখন (১০৮৪ সালে) “Ten Classics” পুনরায় সম্পাদনা ও মুদ্রিত হয়, যা সম্ভবত ১১শ ও ১২শ শতকে গণিতে নতুন সৃষ্টিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। যদিও এসব অগ্রগতি আমাদের কাছে পরবর্তী উদ্ধৃতির মাধ্যমে জানা যায়, ধারণা করা হয় এটি ১৩শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশাল গাণিতিক সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।

তখন চীন উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত ছিল, এবং উভয় অঞ্চলে গণিতবিদদের উল্লেখযোগ্য কাজ দেখা যায়—দক্ষিণে ছিন জিউশাওইয়াং হুই, আর উত্তরে লি ইয়েঝু শিজিয়ে। যদিও তারা আলাদা ভাবে কাজ করতেন, তাদের গণিতচর্চা একটি সাধারণ ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছিল।

১৩শ শতকের কয়েকটি প্রধান গাণিতিক কাজ Yongle Dadian-এ রেকর্ড করা হয়েছে, কিন্তু ১৫শ শতকের শেষ নাগাদ এসব বইয়ের ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায়, এগুলো তখন আর ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছিল না।

১৭শ শতক নাগাদ প্রাচীন চীনা গণিতের অল্প কিছু গ্রন্থই টিকে ছিল। এরপর, ইউরোপীয় অর্জন সম্পর্কে সচেতন হয়ে, চীনা পণ্ডিতেরা দেশজুড়ে প্রাচীন গাণিতিক গ্রন্থ খুঁজতে শুরু করেন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যার চেষ্টা করেন। ১৮শ শতকের শেষদিকে rediscovered (পুনরুদ্ধারকৃত) গ্রন্থসমূহ সম্পাদনার একটি বড় উদ্যোগ দেখা যায়। এই সমালোচনামূলক সংস্করণগুলোই আজকের চীনা গণিত ইতিহাসের প্রধান উৎস।

নতুন উৎসের আবিষ্কার এখন বিরল, তবে ২০শ শতকে খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতকের আগে বন্ধ একটি কবর থেকে একটি গাণিতিক বই আবিষ্কৃত হয়, যা চীনা গণিতের প্রাচীনতম উৎসকে কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে নিয়ে যায়।

সম্ভাবনা রয়েছে যে ভবিষ্যতের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে নতুন তথ্য আবিষ্কৃত হবে এবং চীনা ইতিহাসবিদ্যার ক্ষেত্রে যে বিপ্লব ঘটেছে, তার অনুরূপ একটি বিপ্লব গণিত ইতিহাসেও ঘটবে।

মৃত্যু: 

১৩৯ খ্রিস্টাব্দ (বয়স ৬১ বছর)

soruse " wikipedia  ...thoughtco

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0