ক্রেইগ ভেন্টার এর জীবনী | Biography of Craig Venter
ক্রেইগ ভেন্টার এর জীবনী | Biography of Craig Venter
জন ক্রেইগ ভেন্টার একজন আধুনিক বিজ্ঞানী
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
|
পূর্ণ নাম |
জন ক্রেইগ ভেন্টার |
|
জন্ম |
১৪ অক্টোবর, ১৯৪৬ (বয়স ৭৮), সল্ট লেক সিটি, উটাহ, যুক্তরাষ্ট্র |
|
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান |
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ডিয়েগো |
|
পেশা |
জীববিজ্ঞানী |
|
গবেষণা ক্ষেত্র |
- ডিএনএ - মানব জিনোম - মেটাজিনোমিকস - সিনথেটিক জিনোমিকস - শটগান সিকোয়েন্সিং পদ্ধতি |
|
কর্মস্থল / প্রতিষ্ঠানসমূহ |
- স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক, বাফেলো - ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ (NIH) - জে. ক্রেইগ ভেন্টার ইনস্টিটিউট |
| পুরস্কারসমূহ | - গেয়ার্ডনার অ্যাওয়ার্ড (২০০২) - নিয়েরেনবার্গ পুরস্কার (২০০৭) - কিস্টলার পুরস্কার (২০০৮) - ENI অ্যাওয়ার্ড (২০০৮) - মার্কিন জাতীয় বিজ্ঞান পদক (২০০৮) - ডিকসন পুরস্কার (২০১১) - লিউয়েনহুক মেডেল - এডোগাওয়া নীচে পুরস্কার (২০২০) |
জন ক্রেইগ ভেন্টার
(জন্ম: অক্টোবর ৬, ১৯৪৬) যুক্তরাষ্ট্রের একজন জীববিজ্ঞানী। তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মাঝে অন্যতম হল প্রথম মানব জিনের সিকুয়েন্স (Human Genome Sequencing) করা, প্রথম সম্পূর্ণ গবেষণাগারে সংশ্লেষিত ডিএনএর মাধ্যমে কোষের বংশবৃদ্ধি করানো। দ্বিতীয় আবিস্কারটিকে গবেষণাগারে জীবন সৃষ্টি করা হিসেবেও উল্লেখ করা হচ্ছে। বিজ্ঞানী ভেন্টার ইন্সটিটিউট অফ জিনোমিক রিসার্চ, জন ক্রেইগ ভেন্টার ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে টাইম ম্যাগাজিনের সবচাইতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় ক্রেইগ ভেন্টারের নাম রাখা হয়।
শৈশব
ক্রেইগ ভেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের ইউটার সল্টলেকে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা
ভেন্টার মিলস্ হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। তারপর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার কমিউনিটি কলেজ, সানমেটো কলেজে লেখা পড়া করেন। ১৯৭২ সালে তিনি শারীরতত্ত্বতে (Physiology)বিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সানডিয়াগো হতে তিনি ফার্মাকোলজি (Pharmacology) বিষয়ে পিএচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা ও অর্জন:
-
Time ম্যাগাজিন-এর "বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব" তালিকায় ২০০৭ ও ২০০৮ সালে স্থান পান।
-
Dan David Prize (২০১২) লাভ করেন জিনোম গবেষণায় অবদানের জন্য।
-
American Philosophical Society-এর সদস্য নির্বাচিত হন ২০১৩ সালে।
শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন:
তিনি সাল্ট লেক সিটি, উটাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়া'তে বেড়ে ওঠেন। ছাত্রজীবনে পড়াশোনায় অনাগ্রহী ছিলেন এবং পরবর্তীতে মনে করেন তিনি ADHD-তে আক্রান্ত ছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে নৌবাহিনীতে চিকিৎসা সহকারী হিসেবে কাজ করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে আগ্রহী করে তোলে। পরে তিনি University of California, San Diego থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
পেশাগত জীবন:
-
NIH-এ কাজ করার সময় EST (Expressed Sequence Tags) আবিষ্কার করেন এবং তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
-
তিনি Human Genome Project-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের কোম্পানি Celera Genomics-এর মাধ্যমে দ্রুত জিনোম সিকোয়েন্স সম্পন্ন করেন।
-
২০০০ সালে তিনি ও ফ্রান্সিস কলিন্স মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে প্রথম মানব জিনোমের ম্যাপ ঘোষণা করেন।
সিন্থেটিক জিনোম ও জীববিজ্ঞান:
তিনি Synthetic Genomics প্রতিষ্ঠা করে জীবজৈব জ্বালানি (biofuel) উৎপাদনের ওপর কাজ শুরু করেন। ২০১০ সালে তার দল প্রথম সিন্থেটিক জীব তৈরি করে—যার জিনোম সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে বানানো হয়েছিল।
Global Ocean Sampling Expedition:
তিনি তার ইয়ট Sorcerer II দিয়ে সমুদ্র থেকে মাইক্রোবায়াল জীব সংগ্রহ করে তাদের জিনোম সিকোয়েন্স করেন।
ব্যক্তিগত জীবন:
ভেন্টার তিনবার বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে Heather Kowalski-এর সঙ্গে থাকেন। তিনি একজন নাস্তিক। তিনি La Jolla ও Borrego Springs, California-এ বাস করেন। তার শখ হলো নৌকা চালানো ও বিমান উড়ানো।
ক্রেইগ ভেন্টারের বৈজ্ঞানিক অবদানসমূহ (Craig Venter's Scientific Contributions)
১. মানব জিনোমের খসড়া বিন্যাস (Draft Human Genome Sequence):
ক্রেইগ ভেন্টার ২০০০ সালে মানব জিনোমের প্রথম খসড়া বিন্যাসে নেতৃত্ব দেন। তিনি সেলারা জিনোমিক্স (Celera Genomics) প্রতিষ্ঠা করে একটি বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে জিনোম বিন্যাসের কাজ করেন। তার নেতৃত্বে শটগান সিকোয়েন্সিং (shotgun sequencing) নামে একটি দ্রুততর পদ্ধতি প্রয়োগ করে এই কাজ সম্পন্ন হয়। এই উদ্যোগ মানব জিনোম প্রকল্পকে ত্বরান্বিত করে এবং তিন বছর আগেই জিনোমের মানচিত্র প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
২. সিন্থেটিক জিনোম ও জীবনের কৃত্রিম রূপ (Synthetic Genomics and Artificial Life):
ভেন্টার এবং তার দল ২০১০ সালে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম জীব তৈরি করেন। তারা একটি ব্যাকটেরিয়ার পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ কৃত্রিমভাবে সংশ্লেষণ করে সেটিকে একটি কোষে প্রতিস্থাপন করেন। এই কোষটি কার্যকরভাবে নিজে থেকে বংশবৃদ্ধি করে এবং এটিকে "সিন্থেটিক জীবন" হিসেবে অভিহিত করা হয়। ২০১৬ সালে তারা সর্বনিম্ন প্রয়োজনীয় জিনবিশিষ্ট একটি জীব (Syn 3.0) তৈরি করেন, যার মধ্যে মাত্র ৪৭৩টি জিন রয়েছে।
৩. গ্লোবাল ওশান স্যাম্পলিং এক্সপেডিশন (Global Ocean Sampling Expedition)
ভেন্টার ২০০৩-২০০৬ সালে সাগরজীবাণুর জিনগত বৈচিত্র্য অন্বেষণের লক্ষ্যে "গ্লোবাল ওশান স্যাম্পলিং" অভিযানের আয়োজন করেন। তিনি তার ব্যক্তিগত নৌকা Sorcerer II ব্যবহার করে সারা পৃথিবীর মহাসাগর থেকে জলজ মাইক্রোবের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং তাদের ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করে সাগরজীবাণুর জিনগত বৈচিত্র্য বোঝার চেষ্টা করেন।
৪. হিউম্যান লংজেভিটি ইনকর্পোরেটেড (Human Longevity Inc.):
২০১৪ সালে ভেন্টার Human Longevity Inc. নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য হলো মানুষের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ জীবনকাল বাড়ানো। তারা বিপুল পরিমাণ জিনগত, প্রোটিওমিকস, মেটাবোলোমিক্স, মাইক্রোবায়োম এবং স্টেম সেল তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পূর্বাভাস এবং চিকিৎসার উন্নতি সাধন করেন।
৫. সিন্থেটিক জিনোমিক্স এবং জৈব জ্বালানি (Synthetic Genomics and Biofuels)
ভেন্টার ২০০৫ সালে Synthetic Genomics নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন, যার লক্ষ্য ছিল জিন পরিবর্তিত অণুজীব ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও রাসায়নিক উৎপাদন করা। এই প্রতিষ্ঠান ExxonMobil-এর সঙ্গে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের গবেষণামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
৬. ব্যক্তিগত জিনোম বিন্যাস (Personal Genome Sequencing)
২০০৭ সালে ভেন্টারের নিজের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স করা হয় এবং এটি বিশ্বের প্রথম কয়েকটি ব্যক্তিগত জিনোমের একটি হিসেবে প্রকাশিত হয়। এই প্রকল্প HuRef নামে পরিচিত হয় এবং এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জিনগত ভিন্নতা বিশ্লেষণ করা হয়।
৭. বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্ব (Institutional Leadership):
ভেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন একাধিক প্রতিষ্ঠান যেমন:
-
The Institute for Genomic Research (TIGR)
-
J. Craig Venter Institute (JCVI)
এই প্রতিষ্ঠানগুলো জিনোম গবেষণা, সিন্থেটিক বায়োলজি, এবং পরিবেশবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
Sourse: wikipedia
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0