ডগলাস এঙ্গেলবার্ট এর জীবনী | Biography of Douglas Engelbart

ডগলাস এঙ্গেলবার্ট এর জীবনী | Biography of Douglas Engelbart

May 18, 2025 - 18:17
May 26, 2025 - 11:21
 0  0
ডগলাস এঙ্গেলবার্ট এর জীবনী | Biography of Douglas Engelbart

মাউসের জনক ডগলাস এঙ্গেলবার্টের 

জন্ম

জানুয়ারি ৩০, ১৯২৫ (বয়স ১০০)
পোর্টল্যান্ড, ওরেগন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

মৃত্যু

২ জুলাই ২০১৩ (বয়স ৮৮)
আথারটন, ক্যালিফোর্নিয়া

জাতীয়তা

মার্কিন

নাগরিকত্ব

মার্কিন

মাতৃশিক্ষায়তন

ওরেগন স্টেট কলেজ (ব্যাচেলর অব সায়েন্স); ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে (পিএইচডি)

পরিচিতির কারণ

কম্পিউটার মাউস, Hypertext, Groupware, Interactive Computing

পুরস্কার

ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ২০০০, Lemelson-MIT Prize, টুরিং পুরস্কার ১৯৯৭, Lovelace Medal, Norbert Wiener Award for Social and Professional Responsibility, Fellow Award, Computer History Museum

মাউসের জনক ডগলাস এঙ্গেলবার্টের জন্ম


কম্পিউটার মাউসের উদ্ভাবক ডগলাস এঙ্গেলবার্ট যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালের একটি কম্পিউটার সম্মেলনে তিনি প্রথম কম্পিউটার মাউস প্রদর্শন করেন। সেখানে তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা হাইপারমিডিয়া ও ভিডিও টেলিকনফারেন্সিংয়ের নমুনাও দেখান।

অরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৪৮ সালে স্নাতক হন ডগলাস এঙ্গেলবার্ট। এরপর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে ১৯৫৩ সালে স্নাতকোত্তর ও ১৯৫৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এঙ্গেলবার্ট ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি (২০০০), লেমেলসন–এমআইটি প্রাইজ, এসিএম টুরিং পুরস্কার (১৯৯৭), বিসিএস লাভলেস মেডেল (২০০১), নর্বার্ট ওয়নার অ্যাওয়ার্ড ফর সোশ্যাল অ্যান্ড প্রফেশনাল রেসপনসিবিলিটি, কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম ফেলো অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন। দ্য বুটস্ট্র্যাপ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা এঙ্গেলবার্টের নামে ২০টি পেটেন্ট–স্বত্ব রয়েছে। ২০১৩ সালে তিনি মারা যান।

কম্পিউটার দিয়ে নতুন দুটি মৌলিক সংখ্যা আবিষ্কার

স্ট্যান্ডার্ডস ওয়েস্টার্ন অটোমেটিক কম্পিউটার (এসডব্লিউএসি) ব্যবহার করে গবষেকরা দুটি নতুন মৌলিক সংখ্যা (প্রাইম নাম্বার) বের করেন। কম্পিউটারে গণিতের মৌলিক সংখ্যা বের করার প্রথম চেষ্টায়ই সফল হয়েছিলেন তাঁরা। এক বছরের মধ্যে আরও তিনটি মৌলিক সংখ্যা এই কম্পিউটার থেকে বের করা সম্ভব হয়। ১৯৫০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যান্ডার্ডস লস অ্যাঞ্জেলেসে এসডব্লিউএসি নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে। ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দুই সংস্করণে এই কম্পিউটার সচল ছিল।

গবেষকের আবির্ভাব:

১৯৫১ সালে ডগলাস বুঝতে পারেন যে তার কোন লক্ষ্য, নেই ভাল পড়ালেখা আর ভাল চাকুরী করা ছাড়া।

তার ভেতর আবিষ্কারের নেশা টা শুরু থেকেই ছিল ।

তিনি কম্পিউটার সম্পর্কে জানতেন যা ছিল তখনকার সময়ে একটা বিস্ময়কর চিন্তা । কারন মাথায় রাখতে হবে এটা ১৯৫০ এর কথা।

তিনি কল্পনা করেন , বুদ্ধিমান লোকজন একটি " ডিসপ্লে ওয়ার্কিং স্টেশনে" কাজ করছে, সমাধান করছে কঠিন সব ধাধা তাদের তথ্যের সাহায্যে, ভ্রমন করছে বিশাল তথ্য ভান্ডার, অর্থ্যাৎ একটি আধুনিক কম্পিউটারের

এইসব চিন্তা তার জীবনের লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় যখন কম্পিউটার শুধু সংখ্যা গণক যন্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করা হয়।

তিনি তার এম.এস এবং পি.এইচ.ডি শেষ করে ফেলেন ১৯৫৫ এর ভেতর ।

গ্রাজুয়েশন এর সময় তিনি ক্যলিফোর্নিয়া ডিজিটাল কম্পিউটার প্রোজেক্ট এ কাজ করেন । এ সময় তিনি অনেক পেটেন্ট বানান ।

পি.এইচ.ডি শেষ করার পর তিনি ২ বছর শিক্ষকতা করেন এবং বুঝতে পারেন এই কাজ করে তিনি তার লক্ষ্য পুরন করতে পারবেন না। কারন তার ভেতরে ছিল আবিষ্কারের নেশা যা শুরু তেই ধারনা পেয়ে যাবেন।

তিনি তখন তার কিছু পি.এইচ.ডি রিসার্চ বানিজ্যিক ভাবে ছাড়া শুরু করলেন, কিন্তু পরে তিনি এটা বন্ধ করেন এবং পরবর্তী তে তিনি ডিভাইস গুলো তার গবেষনার জন্য ব্যাবহার করবেন বলে ঠিক করেন , যার স্বপ্ন তিনি ১৯৫১ সাল থেকে দেখছিলেন ।

১৯৫৭ সালে তিনি স্টানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিউট এ কাজ করা শুরু করেন । তিনি হিউয়েট ক্রেইন এর সাথে ম্যাগনেটিক ডিভাইস নিয়ে কিছুদিন কাজ করেন। এখানে বলাবাহুল্য, ক্রেইন হচ্ছেন পাইওনিয়ার, ইলেকট্রনিক ট্রাকিং সিস্টেম, আই মুভমেন্ট ট্রাকিং সিস্টেম এর, যা এখন সিকিউরিটি সিস্টেমে ব্যাবহৃত হয়। ডগলাস এবং ক্রেইন খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।


১৯৬৮ সালের ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর অগমেন্টেশন রিসার্চ সেন্টারে ফল জয়েন্ট কম্পিউটার কনফারেন্সে (এফজেসিসি) মার্কিন বিজ্ঞানী প্রথম মাউস ব্যবহার করেন। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে তিনি ও স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা মাউসের কার্যকারিতা উপস্থিত দর্শকদের দেখান। সেদিনের সেই মাউসটি ছিল কাঠের তৈরি এবং তাতে শুধু একটি বাটন ছিল। এঙ্গেলবার্টের সহায়তায় ১৯৬৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার মাউসের প্রটোটাইপ উদ্ভাবন করেন বিজ্ঞানী বিল ইংলিশ। পরে ১৯৬৫ সালে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন ড. জেফ রুলিফসন। ১৯৬৮ সালে মাউসের উদ্বোধন করা হলেও বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে ১৯৮১ সালে।


মাউসের পেটেন্ট এটা কে তিনি "X-Y position indicator for a display system" বলেন তার পেটেন্ট এ । ডগলাস এঙ্গেলবার্ট এটাকে মাউস হিসেবে আখ্যা দেন, কারন এটার পেছনে লেজ এর মত ছিল, যদিও তার গবেষনা টীম এটাকে বাগ ডাকতেন এটার পেটেন্ট তৈরী তিনি করলেও তিনি কোন রয়ালিটি পান নি ।তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি তখন জানতেন না এটার মূল্য, পরে তিনি শুনতে পান স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এটার লাইসেন্স অ্যাপল এর কাছে ৪০,০০০ ডলারে বিক্রি করেছে।১৯৭৬ সালে অন্ধকারে পরেন ডগলাস , তার ল্যাব এর রিসার্চার রা আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকে তাকে ছেড়ে এবং যোগ দিতে থাকে Xerox PARC কোম্পানী তে। মতের অমিল শুরু হয় তরুন প্রোগরামার দের সাথে ।



গবেষনায় বাধা

১৯৭৬ সালে অন্ধকারে পরেন ডগলাস , তার ল্যাব এর রিসার্চার রা আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকে তাকে ছেড়ে এবং যোগ দিতে থাকে Xerox PARC কোম্পানী তে। মতের অমিল শুরু হয় তরুন প্রোগরামার দের সাথে

ভিয়েতনাম এর যুদ্ধ এবং নাসার অ্যাপোলো অভিযানের পর সরকার তার ল্যাব এর গবেষনার জন্য অর্থ প্রদান কমানো শুরু করে ।

এর ফলে বন্ধ হওয়ার পথে চলে যায় তার ল্যাব, পরবর্তী তে তা আর্টিফিসিয়াল রিসার্চার দের হাতে তুলে দেয়া হয় তার গঠিত ল্যাব । ডগলাস কে কাজ করতে হয় তাদের অধীন এ, অনেকটা নিজ ঘরে পরবাসী এর মত । গবেষনার থেকে তাদের বানিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল বড় ।

ল্যাব এর নামও পরিবর্তন করে ফেলে টাইমশেয়ার করা হয় ।

একইসময়ে ডগলাসের বাড়ি তে আগুন লাগে, যা তাকে আরও দূর্বল করে দেয় ।

আরও বিভিন্ন কারনে , ডগলাস এঙ্গেলবার্ট ১৯৮৬ সালে আর কাজ করবেন না বলে জানান কারন বানিজ্যিক উদ্দেশ্য থাকলে তিনি তা অনেক আগেই শুরু করতে পারতেন । কাজ পাগল এই লোকের হাতে পেটেন্ট এর অভাব ছিল না ।

আবিষ্কারের নেশা, একটু বেশীই ছিল তার ভেতর । কিছুদিন পর তিনি তার মেয়ে কে নিয়ে শুরু করেন বুটস্ট্রাপ ইনস্টিউট, এখান থেকে তিনি তার আইডিয়া, রিসার্চ নিয়ে ১৯৮৯-২০০০ পর্যন্ত স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটি তে সেমিনার করে আসছিলো নিয়মিত ।

তিনি এখনও গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন, লিখেছেন বই, তার আইডিয়া নিয়ে বিভিন্ন সেমিনার করছেন ।

অনেকটা নিরবেই....... হয়তো অনেকটা নিরবেই চলে যাবেন..... আর আমরা, মাউসের ক্লিক করবো, তার নাম জানবো ও না...তাই লিখে ফেললাম তার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়ে..

আগ্রহী দের জন্য ইউটিউবের কয়েকটি ভিডিও লিংক দিলাম, এতে ৯০ মিনিটের একটি পাবলিক ডেমোনস্ট্রেশন দেখতে পারবেন "অনলাইন" ধারনা কে কেন্দ্র করে।

মৃত্যু:

এঙ্গেলবার্ট ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি (২০০০), লেমেলসন–এমআইটি প্রাইজ, এসিএম টুরিং পুরস্কার (১৯৯৭), বিসিএস লাভলেস মেডেল (২০০১), নর্বার্ট ওয়নার অ্যাওয়ার্ড ফর সোশ্যাল অ্যান্ড প্রফেশনাল রেসপনসিবিলিটি, কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম ফেলো অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন। দ্য বুটস্ট্র্যাপ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা এঙ্গেলবার্টের নামে ২০টি পেটেন্ট–স্বত্ব রয়েছে। ২০১৩ সালে তিনি মারা যান।

soruse ; wikipedia 

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0