জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল এর জীবনী | Biography of James Clerk Maxwell
জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল এর জীবনী | Biography of James Clerk Maxwell
জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
| জন্ম | ১৩ জুন ১৮৩১ এডিনবরা, স্কটল্যান্ড |
|---|---|
| মৃত্যু | ৫ নভেম্বর ১৮৭৯ (বয়স ৪৮) কেমব্রিজ, ইংল্যান্ড |
|
নাগরিকত্ব |
United Kingdom |
|
জাতীয়তা |
স্কটিশ |
|
কর্মক্ষেত্র |
পদার্থবিজ্ঞান and গণিত |
| প্রতিষ্ঠান | Marischal College, Aberdeen King's College London ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় |
|
প্রাক্তন ছাত্র |
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় |
|
শিক্ষায়তনিক উপদেষ্টাবৃন্দ |
William Hopkins |
|
উল্লেখযোগ্য ছাত্রবৃন্দ |
George Chrystal |
| পরিচিতির কারণ | ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণসমূহ Maxwell distribution Maxwell's demon Maxwell's discs Maxwell speed distribution Maxwell's theorem Maxwell material Generalized Maxwell model Displacement current |
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার |
Smith's Prize (1854) Adams Prize (1857) Rumford Medal (1860) Keith Prize (1869-71) |
| স্বাক্ষর | |
জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল এফআরএসই এফআরএস (১৩ জুন ১৮৩১ - ৫ নভেম্বর ১৮৭৯) ছিলেন একজন স্কটিশ গণিতবিদ। এবং বিজ্ঞানী। তিনি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের সর্বোত্তম তত্ত্বটি বর্ণণা করেছিলেন, যার সাহায্যে তড়িৎ, চুম্বকত্ব এবং আলো কে একই শক্তির বিভিন্ন রূপ হিসেবে বর্ণনা করা সম্ভব হয়েছিল। ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের সমীকরণকে পদার্থবিজ্ঞানে "দ্বিতীয় বৃহত্তম একীকরণ" বলা হয়, যেখানে প্রথম বৃহত্তম একীকরণ করেছিলেন আইজাক নিউটন।
১৮৬৫ সালে "এ ডাইনামিক্যাল থিওরি অফ দ্য ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড" প্রকাশের মাধ্যমে, ম্যাক্সওয়েল দেখিয়েছিলেন যে তড়িৎ এবং চৌম্বক ক্ষেত্রগুলো তরঙ্গ হিসেবে আলোর গতিতে মহাকাশের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে। তিনি প্রস্তাব করেছিলেন যে, একই মাধ্যমে বৈদ্যুতিক এবং চৌম্বকীয় তরঙ্গের পরিভ্রমণের ফলেই আলোক তরঙ্গের উৎপত্তি হয়।[৪] আলো এবং বৈদ্যুতিক তরঙ্গের একীকরণ তার রেডিও তরঙ্গের অস্তিত্বের ভবিষ্যদ্বাণী করে। ম্যাক্সওয়েলকে আধুনিক বৈদ্যুতিক প্রকৌশল ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও গণ্য করা হয়।
ক্সওয়েল ম্যাক্সওয়েল-বোল্টজম্যান ডিস্ট্রিবিউশনের বিকাশে সাহায্য করেছিলেন, যা গ্যাসের গতি তত্ত্বের দিকগুলো বর্ণনা করার একটি পরিসংখ্যানগত উপায় ছিল। এছাড়াও তিনি ১৮৬১ সালে প্রথম স্থায়ী রঙিন ছবি উপস্থাপন ও সেতুর রড এবং যৌথ কাঠামোর (ভাররক্ষার্থ কাঠামো) দৃঢ়তা বিশ্লেষণে ভিত্তিমূলক কাজ করেছিলেন।
তার আবিষ্কারগুলো আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের যুগে, বিশেষ আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যার মতো ক্ষেত্রের ভিত্তি স্থাপনের সূচনা করতে সাহায্য করেছিল। অনেক পদার্থবিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েলকে ১৯ শতকের এমন বিজ্ঞানী হিসাবে বিবেচনা করেন যিনি ২০ শতকের পদার্থবিজ্ঞানের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেন। অনেকে বিজ্ঞানে তার অবদানকে আইজাক নিউটন এবং অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মতো একই মাত্রার বলে মনে করেন। ১০০০ বছর ধরে চলা একটি জরিপে ১০০ জন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানীদের একটি সমীক্ষায় নিউটন এবং আইনস্টাইনের পরে ম্যাক্সওয়েলকে সর্বকালের তৃতীয় সর্বশ্রেষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী নির্বাচিত করা হয়েছিল। ম্যাক্সওয়েলের শতবর্ষতম জন্মদিনে, আইনস্টাইন ম্যাক্সওয়েলের কাজকে তার অভিজ্ঞতায় "নিউটনের সময় থেকে পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে গভীর এবং সবচেয়ে ফলপ্রসূ" বলে বর্ণনা করেছেন। ১৯২২ সালে আইনস্টাইন যখন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন, তখন তার অতিথিসেবক তাকে বলেছিলেন যে তিনি দুর্দান্ত কাজ করেছেন কারণ তিনি নিউটনের ঘাড়ে দাঁড়িয়ে বিশ্ব দেখেছেন; আইনস্টাইন উত্তর দিয়েছিলেন: "না আমি নিউটন নয়, ম্যাক্সওয়েলের ঘাড়ে দাঁড়িয়ে বিশ্ব দেখেছি।"জীবনী
জীবনী
প্রাথমিক জীবন
ম্যাক্সওয়েলের জন্ম এডিনবরার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। তাদের পরিবারের মূল নাম ছিল ক্লার্ক, ম্যাক্সওয়েল নামটি তার আইনজীবী বাবা পরে সংযুক্ত করেছিলেন। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে মিড্লবাইয়ের বিশাল সম্পত্তি লাভ করার পরই তিনি এই নতুন নাম গ্রহণ করেছিলেন। ম্যাক্সওয়েলের বাবা-মা অনেক দেরিতে বিয়ে করেছিলেন। এজন্যই তার জন্মের সময় তার মায়ের বয়স ছিল ৪০ বছর। তার জন্মের পরপরই ম্যাক্সওয়েল পরিবার এডিনবরা ছেড়ে মিড্লবাই এস্টেটে তাদের নিজস্ব বাড়িতে চলে যায়।
১৮৩৯ সালে তার মা উদরের ক্যান্সারে কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ম্যাক্সওয়েল নিজেও এই বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বাল্যকালে তিনি এক গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তেন যিনি তার মেধার ব্যাপারটি ঠিক ধরতে পারেননি। তিনি মনে করতেন ম্যাক্সওয়েল সবকিছু দেরিতে বুঝে। অবশ্য সেই বয়সেই বোঝা গিয়েছিল যে তার প্রচণ্ড উৎসাহ ও প্রখর স্মৃতিশক্তি আছে। খালা জেইন কেই ১৮৪১ সালে তাকে এডিনবরায় নিয়ে এসে এডিনবরা একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। এই একাডেমিতে তার সাথে পড়াশোনা করতো তার জীবনীকার লুইস ক্যাম্পবেল ও বন্ধু Peter Guthrie Tait।
পাঠ্যবইয়ের বাইরের বিষয়েই তার উৎসাহ বেশি ছিল। পরীক্ষার ফলাফলকে তেমন গুরুত্ব দিতেন না। মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এই গবেষণাপত্রে তিনি গোলাকার বক্রের একটি সাধারণীকৃত সিরিজ বর্ণনা করেছিলেন, উপবৃত্তের উদাহরণ ব্যবহার করে পিন এবং সূতোর মাধ্যমে যা তৈরি করা যায়। জ্যামিতি ও যান্ত্রিক নকশার প্রতি তার এই ভালবাসা সারা জীবনই বজায় ছিল। পূর্ণবয়স্ক ম্যাক্সওয়েলের গবেষণাকর্মে এই ভালবাসা অনেক কাজে দিয়েছে।
ম্যাক্সওয়েল যখন ছোট ছিলেন তখন তার পরিবার কির্ককুডব্রাইটশায়ারের গ্লেনলেয়ারে চলে যায়, যে বাড়ি তার পিতামাতা ১,৫০০ একর (৬১০ হেক্টর) জমির উপর তৈরি করেছিলেন। ম্যাক্সওয়েলের সমস্ত লক্ষণ ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ছোটবেলা থেকেই অদম্য কৌতূহলী ছিলেন। তিন বছর বয়সে যা নড়াচড়া করে, চকচক করে বা আঘাত দিলে আওয়াজ করে এমন বস্তু তার মনে এই প্রশ্নটি জাগিয়েছিল: "সেটা কী?" ১৮৩৪ সালে তার খালু জেন কে-এর কাছে তার পিতার একটি চিঠিতে যোগ করা একটি অনুচ্ছেদে, তার মা অনুসন্ধিৎসুতার এই সহজাত অনুভূতি এভাবে বর্ণনা করেছিলেন:
সে খুব সুখী মানুষ, এবং আবহাওয়া সহনীয় হওয়ার পর থেকে তার অনেক উন্নতি হয়েছে; দরজা, তালা, চাবি ইত্যাদি নিয়ে তার দুর্দান্ত কাজ রয়েছে এবং "এটি কীভাবে কাজ করে তা আমাকে দেখান" তার মুখ থেকে কখনোই বের হয় না। সে স্রোত এবং বেল-তারের লুকানো গতিপথ, পুকুর থেকে প্রাচীরের মধ্য দিয়ে কিভাবে জল যায় তাও তদন্ত করে।
শিক্ষা (১৮৩৯–১৮৪৭)
ছেলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বুঝতে পেরে ম্যাক্সওয়েলের মা ফ্রান্সিস তার প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব নেন, যা ভিক্টোরিয়ান যুগে মূলত বাড়ির মহিলাদেরই কাজ ছিল। আট বছর বয়সে তিনি জন মিল্টনের দীর্ঘ কবিতা এবং ১১৯তম গীতসংগীত (১৭৬ শ্লোক) আবৃত্তি করতে পারতেন। প্রকৃতপক্ষে, আগে থেকেেই তার শাস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান ছিল; তিনি গীতসংগীত থেকে প্রায় যেকোনো উদ্ধৃতির জন্য অধ্যায় এবং শ্লোক বলে দিতে পারতেন। তার বয়স যখন আট তখন তার মা পাকস্থলীর ক্যান্সারে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একটি ব্যর্থ অস্ত্রোপচারের পর, ১৮৩৯ সালের ডিসেম্বরে মারা যান।
তখন তার বাবা এবং তার বাবার ভগ্নিপতি জেন তার শিক্ষার তত্ত্বাবধান করেছেন,যারা উভয়েই তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৬ বছর বয়সের একজন গৃহশিক্ষকের নির্দেশনায় আনুষ্ঠানিক স্কুলে তার পড়া শুরু হয়েছিল। ম্যাক্সওয়েলকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য যে যুবককে নিয়োগ করা হয়েছিল তার সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়, তবে তিনি ছোট ছেলেদের সাথে কঠোর আচরণ করতেন, তাকে ধীরগতির এবং বিপথগামী হওয়ার জন্য তিরস্কার করেছিলেন। ১৮৪১ সালের নভেম্বরে ম্যাক্সওয়েলের গৃহশিক্ষককে বাদ দেওয়া হয়। ১৮৪২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জেমসের বাবা তাকে রবার্ট ডেভিডসনের বৈদ্যুতিক চালনা এবং চৌম্বকীয় শক্তি প্রদর্শনের জন্য নিয়ে যান, যা তার জন্য গভীর প্রভাবের অভিজ্ঞতা ছিল।
ম্যাক্সওয়েলকে মর্যাদাপূর্ণ এডিনবার্গ একাডেমিতে পাঠানো হয়। তিনি ছুটিকালীন সময়ে তার খালা ইসাবেলার বাড়িতে থাকতেন। এই সময়ে তিনি তার বড় চাচাতো বোন জেমিমার কারণে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন। ১০ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েল, তার পিতার গ্রামাঞ্চলের ভূসম্পত্তিতে বিচ্ছিন্নভাবে বেড়ে ওঠেন, যার কারণে তিনি স্কুলে ভালোভাবে শিক্ষা লাভ করতে পারেননি। প্রথম বছর শেষ হওয়ার কারণে তাকে বাধ্য হয়ে তার চেয়ে এক বছর বড় সহপাঠীদের সাথে দ্বিতীয় বর্ষে যোগ দিতে হয়েছিল।
তার আচরণ এবং গ্যালোওয়ের উচ্চারণের কারণে অন্যান্য ছেলেদের কাছে তিনি গ্রাম্য হিসাবে অভিহিত হয়েছিলেন। তিনি তার স্কুলের প্রথম দিনে বাড়িতে তৈরি জুতা এবং একটি নিমা পরে গিয়েছিলেন, এর জন্য সকলে তাকে "ড্রাফটি" এর মত নির্দয় নামে ডেকেছিল। বহু বছর ধরে তাকে সবাই "ড্রাফটি" নামে ডাকলেও তিনি কখনো বিরক্ত হননি বলে মনে হয়েছে এবং এর জন্য তিনি কখনো অভিযোগও করেননি। যখন বিদ্যালয়ে তার সাথে লুইস ক্যাম্পবেল এবং পিটার গুথরি টেইটের দেখা হয় তখন তার জীবনে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটে। তারা দু'জনেই ছিল তার বয়সের। তারা পরবর্তী জীবনে উল্লেখযোগ্য পণ্ডিত হয়েছিলো। তারা দুজনেই ম্যাক্সওয়েলের আজীবনের বন্ধু ছিল।
অল্প বয়সেই জ্যামিতি ম্যাক্সওয়েলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিল, তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার আগেই নিয়মিত পলিহেড্রাকে পুনরায় আবিষ্কার করেছিলেন। তার স্কুলের দ্বিতীয় বছরে ধর্মগ্রন্থ জীবনী পুরস্কার লাভ তার শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলেনি। তিনি ১৩ বছর বয়সে ইংরেজি ও কবিতা উভয়ের জন্য স্কুলের গাণিতিক পদক এবং প্রথম পুরস্কার জিতেছিলেন।
ম্যাক্সওয়েলের স্কুলের পাঠ্যবইয়ের বাইরের বিষয়েই আগ্রহ বেশি ছিল এবং তিনি পরীক্ষার ফলাফলকে তেমন গুরুত্ব দিতেন না। তিনি ১৪ বছর বয়সে তার প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র লেখেন। এতে তিনি সুতার টুকরো দিয়ে গাণিতিক বক্ররেখা আঁকার একটি যান্ত্রিক উপায় এবং উপবৃত্ত, কার্টেসিয়ান উপবৃত্ত এবং দুইটির বেশি নির্দিষ্ট বিন্দু সহ সংশ্লিষ্ট বক্ররেখার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেন। ১৮৪৬ সালে।
তিনি "ওভাল বক্ররেখা, যার অনেকগুলো ।নির্দিষ্ট বিন্দু আছে তার বর্ণনা" গবেষণাপত্রটি এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক দর্শনের অধ্যাপক জেমস ফোর্বস রয়্যাল সোসাইটি অফ এডিনবার্গে কাছে উপস্থাপন করেছিলেন। এইসময় ম্যাক্সওয়েলকে নিজের কাজটি উপস্থাপন করার জন্য খুব কম বয়সী বলে মনে করা হয়েছিল। যেহেতু রেনে দেকার্ত ১৭ শতকে এই ধরনের বহুমুখী উপবৃত্তের বৈশিষ্ট্য গুলো পরীক্ষা করেছিলেন তাই কাজটি সম্পূর্ণ মৌলিক ছিল না, কিন্তু ম্যাক্সওয়েল তাদের কাজকে তুলনামূলক সরলীকৃত করেছিলেন।
এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় (১৮৪৭-১৮৫০)
ম্যাক্সওয়েল ১৮৪৭ সালে ১৬ বছর বয়সে এডিনবার্গ একাডেমি ত্যাগ করেন এবং এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করেন। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার প্রথম বছর সমাপ্ত হওয়ার পরে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার স্নাতক পাশ করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে কিছু উচ্চ সম্মানিত নাম ও অন্তর্ভুক্ত ছিল; তার প্রথম বছরের শিক্ষকদের মধ্যে স্যার উইলিয়াম হ্যামিল্টন , যিনি যুক্তিবিদ্যা এবং অধিবিদ্যার উপর, ফিলিপ কেল্যান্ড গণিতের উপর, এবং জেমস ফোর্বস প্রাকৃতিক দর্শনের উপর শিক্ষা দিতেন। তিনি তার চাহিদা মতো শিক্ষা পাননি, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবসর সময়ে ও বিশেষ করে যখন তিনি গ্লেনলেয়ারে বাড়িতে ফিরে আসতেন সেই সময় ব্যক্তিগত অধ্যয়নে নিজেকে নিমজ্জিত করতেন। সেখানে তিনি উন্নত রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক এবং চৌম্বকীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে পরীক্ষা করতেন; যাইহোক তিনি প্রধানত চিন্তিত হয়েছিলেন আলোর সমবর্তন বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে। তিনি জেলাটিন আকৃতির ব্লকগুলো তৈরি করেছিলেন, সেগুলোকে বিভিন্ন চাপের মধ্যে দিয়েছিলেন। উইলিয়াম নিকোল তাকে যে এক জোড়া পোলারাইজিং প্রিজম দিয়েছিলেন, তিনি সেটি দিয়ে জেলির মধ্যে বিকশিত হওয়া রঙিন প্রান্তগুলি দেখেছিলেন। তিনি এই অনুশীলনের মাধ্যমে আলোক স্থিতিস্থাপকতা আবিষ্কার করেন, যা শারীরিক কাঠামোর মধ্যে চাপের বন্টন নির্ধারণকারী একটি মাধ্যম।
১৮ বছর বয়সে, ম্যাক্সওয়েল এডিনবার্গের রয়্যাল সোসাইটির সম্পাদিত কর্মের জন্য দুটি প্রবন্ধে অবদান রেখেছিলেন। তন্মধ্যে একটি হলো, "অন দা ইকুইলিব্রিয়াম অফ ইলাস্টিক সলিডস", যা তার জীবনের পরবর্তী সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ভিত্তি স্থাপন করেছিল, যা ছিল শিয়ার স্ট্রেস দ্বারা সান্দ্র তরলে উৎপাদিত অস্থায়ী দ্বি-প্রতিসরণ। অন্যটি ছিল "রোলিং কার্ভস " এবং এডিনবার্গ একাডেমিতে তার লেখা "ওভাল কার্ভস"। প্রবন্ধটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে উপস্থাপন করার জন্য তাকে আবারও জন্য খুব কম বয়সী বলে মনে করা হয়েছিল। প্রবন্ধটি তার পরিবর্তে, তার গৃহশিক্ষক কেল্যান্ডের মাধ্যমে রয়্যাল সোসাইটির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (১৮৫০-১৮৫৬)
ইতোমধ্যে একজন দক্ষ গণিতবিদ হয়ে ১৮৫০ সালের অক্টোবরে ম্যাক্সওয়েল কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্কটল্যান্ড ত্যাগ করেন। তিনি প্রাথমিকভাবে পিটারহাউসে যোগদান করেছিলেন, কিন্তু তার প্রথম বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগে তিনি ট্রিনিটিতে স্থানান্তরিত হন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে এখানে ফেলোশিপ পাওয়া সহজ হবে। ট্রিনিটিতে তিনি কেমব্রিজ অ্যাপোস্টলস নামে পরিচিত একটি অভিজাত গোপন সমাজে নির্বাচিত হন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো বছরগুলিতে ম্যাক্সওয়েলের খ্রিস্টান বিশ্বাস এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে বুদ্ধিবৃত্তিক বোঝার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। তিনি বুদ্ধিজীবী অভিজাতদের স্বতন্ত্র বিতর্ক সমাজ "অ্যাপোস্টলস"-এ যোগদান করেন, যেখানে তিনি তার প্রবন্ধগুলোর মাধ্যমে এই বোঝার ব্যাপারটি কার্যকর করার চেষ্টা করেছিলেন।কেমব্রিজে ফিরে আসার পর, ম্যাক্সওয়েল তার সাম্প্রতিক অতিথিসেবককে নিম্নলিখিত সাক্ষ্য সহ একটি আলাপী এবং স্নেহপূর্ণ চিঠি লিখেছিলেন। ১৮৫১ সালের নভেম্বরে, ম্যাক্সওয়েল উইলিয়াম হপকিন্সের অধীনে অধ্যয়ন করেন, যিনি তার গাণিতিক প্রতিভা লালন করার সাফল্যের জন্য "সিনিয়র র্যাংলার মেকার" ডাকনাম অর্জন করেছিলেন।
১৮৫৪ সালে, ম্যাক্সওয়েল ট্রিনিটি থেকে গণিতে একটি ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক উত্তীর্ণ হন। তিনি চূড়ান্ত পরীক্ষায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেন যেখানে এডওয়ার্ড রাউথ প্রথম স্থান অধিকার করেন এতে ম্যাক্সওয়েল দ্বিতীয় র্যাংলারের খেতাব অর্জন করেন। পরবর্তীতে স্মিথস প্রাইজ পরীক্ষার আরও কঠোর অগ্নিপরীক্ষায় তাকে রাউথের সমান ঘোষণা করা হয়। ম্যাক্সওয়েল তার ডিগ্রী অর্জনের পরপরই কেমব্রিজ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটিতে তার গবেষণাপত্র "অন দ্য ট্রান্সফর্মেশন অফ সারফেসেস বাই বেন্ডিং" পাঠ করেন। এটি ছিল তার লেখা কয়েকটি বিশুদ্ধভাবে গাণিতিক গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি, যা একজন গণিতবিদ হিসাবে তার ক্রমবর্ধমান উচ্চতাকে প্রদর্শন করে। ম্যাক্সওয়েল স্নাতকে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ট্রিনিটিতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং একটি ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেন, তিনি আশা করেছিলেন যে এটি কয়েক বছর সময় নেবে। একজন গবেষক ছাত্র হিসাবে তিনি তার সাফল্যের দ্বারা আনন্দিত ছিলেন, তিনি কিছু টিউটরিং এবং পরীক্ষার দায়িত্ব ছাড়াও নিজের অবসর সময়ে বৈজ্ঞানিক আগ্রহগুলোকে অন্বেষণ করার জন্য মুক্ত থাকতেন।
এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোর্বসের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে রঙের প্রকৃতি উপলব্ধি করার ব্যাপারে তার আগ্রহ জাগে। ফোর্বসের উদ্ভাবিত রঙিন স্পিনিং টপস দিয়ে, ম্যাক্সওয়েল প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে লাল, সবুজ এবং নীল আলোর মিশ্রণ থেকে সাদা আলো আসে ১৮৫৫ সালের মার্চ মাসে তিনি তার গবেষণাপত্র "এক্সপেরিমেন্টস অন কালার" যা রঙের সংমিশ্রণের নীতিগুলি তৈরি করে তা এডিনবার্গের রয়্যাল সোসাইটির কাছে উপস্থাপন করেন।ম্যাক্সওয়েল এই সময় নিজেই এটি প্রদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
শেষ জীবন (১৮৬৫-১৮৭৯)
১৮৬৫ সালে ম্যাক্সওয়েল লন্ডনের কিংস কলেজের আসন থেকে পদত্যাগ করেন এবং ক্যাথরিনের সাথে গ্লেনলেয়ারে ফিরে আসেন। তিনি তাঁর গবেষণাপত্র "অন গভর্নরস" (১৯৬৮)-এ গাণিতিকভাবে গভর্নর ডিভাইসের ব্যবহার বর্ণনা করেছেন-যে ডিভাইসগুলো বাষ্প ইঞ্জিনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে-যার মাধমে তিনি নিয়ন্ত্রণ প্রকৌশলের তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপন করেন। তার গবেষণাপত্র "অন রেসিপ্রোকাল ফিগারস, ফ্রেম অ্যান্ড ডায়াগ্রামস অফ ফোরসেস" (১৮৭০) এ তিনি জালির বিভিন্ন ডিজাইনের অনমনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি থিওরি অফ হিট (১৮৭১) এবং ত্রিটাইজ ম্যাটার অ্যান্ড মোশন (১৮৭৬) গ্রন্থ রচনা করেন। ১৮৭১ সালে ম্যাক্সওয়েলই প্রথম মাত্রিক বিশ্লেষণের সুস্পষ্ট ব্যবহার করেছিলেন।
১৮৭১ সালে তিনি পদার্থবিদ্যার প্রথম ক্যাভেন্ডিশ অধ্যাপক হতে কেমব্রিজে ফিরে আসেন ।ম্যাক্সওয়েলকে ভবনের অগ্রগতির প্রতিটি পদক্ষেপের তত্ত্বাবধান এবং যন্ত্রপাতি সংগ্রহের জন্য ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবরেটরির উন্নয়নের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছিল। বিজ্ঞানে ম্যাক্সওয়েলের শেষ মহান অবদানগুলোর মধ্যে একটি ছিল হেনরি ক্যাভেন্ডিশের গবেষণার সম্পাদনা করা (প্রচুর মূল নোট সহ), যেখান থেকে দেখা যায় যে ক্যাভেন্ডিশ পৃথিবীর ঘনত্ব এবং জলের গঠনের মতো অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করেছে। তিনি ১৮৭৬ সালে আমেরিকান ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0