জুড বেলিংহ্যাম এর জীবনী | Biography of Jude Bellingham

জুড বেলিংহ্যাম এর জীবনী | Biography of Jude Bellingham

May 21, 2025 - 18:20
May 29, 2025 - 10:41
 0  1
জুড বেলিংহ্যাম এর জীবনী | Biography of Jude Bellingham

ব্যক্তিগত তথ্য

পূর্ণ নাম

জুড ভিক্টর উইলিয়াম বেলিংহাম

জন্ম

২৯ জুন ২০০৩ (বয়স ২১)

জন্ম স্থান

স্টাওয়ারব্রিজ, ইংল্যান্ড

উচ্চতা

১.৮৬ মিটার (৬ ফুট ১ ইঞ্চি)

মাঠে অবস্থান

মধ্যমাঠের খেলোয়াড়

ক্লাবের তথ্য

বর্তমান দল

রিয়াল মাদ্রিদ

জার্সি নম্বর

যুব পর্যায়

২০১০–২০১৯

বার্মিংহ্যাম সিটি

জ্যেষ্ঠ পর্যায়*

বছর

দল ম্যাচ (গোল)

২০১৯–২০২০

বার্মিংহ্যাম সিটি ৪১ (৪)

২০২০–২০২৩

বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ৯২ (১২)

২০২৩–

রিয়াল মাদ্রিদ ২২ (১৬)

জাতীয় দল

২০১৬–২০১৮

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৫ (১)

২০১৮–২০১৯

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৬ ১১ (৪)

২০১৯

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৭ (২)

২০২০

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ (১)

২০২০–

ইংল্যান্ড ২৯ (৩)

জুড বেলিংহাম: মাদ্রিদ-সাম্রাজ্যের নতুন অধিপতি

“আমার পা রীতিমতো কাঁপছিল তখন। ম্যাচশেষে সমর্থকেরা যখন আমার নামে গান গাইছিল, আমার মধ্যে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনার ঢেউ উঠেছিল। তবুও আমি দাঁড়িয়েছিলাম গ্যালারির সামনে, শুনতে চেয়েছিলাম তাদের গান।” – জুড বেলিংহাম, রিয়াল মাদ্রিদ-গেতাফে ম্যাচের পরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সমর্থকদের ‘হেই জুড’ গান গাওয়া প্রসঙ্গে।

প্রথম চার ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়েই হয়তো পুরোপুরি বিচার করে ফেলা উচিত নয়, উচিত নয় অনাগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মন্তব্য করাও। তবে জুড বেলিংহাম যা শুরু করেছেন, তাতে সবাই বাধ্য হয়েছেন নড়েচড়ে বসতে। লা লিগার প্রথম চার ম্যাচেই পাঁচ গোল আর এক অ্যাসিস্ট, এই ধারা অব্যাহত রাখলে তো পিচিচিটাই জিতে নেবেন এই মিডফিল্ডার!

জুড ভিক্টর উইলিয়াম বেলিংহাম 

(ইংরেজি: Jude Bellingham, ইংরেজি উচ্চারণ: /d͡ʒˈuːd bˈɛlɪŋəm/; জন্ম: ২৯ জুন ২০০৩; জুড বেলিংহাম নামে সুপরিচিত) হলেন একজন ইংরেজ পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। তিনি বর্তমানে স্পেনীয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি মূলত কেন্দ্রীয় মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেললেও মাঝেমধ্যে ডান পার্শ্বীয় মধ্যমাঠের খেলোয়াড় অথবা বাম পার্শ্বীয় মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন।

২০১৬ সালে, বেলিংহাম ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অভিষেক করেছিলেন। প্রায় ৪ বছর যাবত ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলার পর, তিনি ২০২০ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিষেক করেছেন; ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে তিনি এপর্যন্ত ২৭ ম্যাচে ২টি গোল করেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন

জুড ভিক্টর উইলিয়াম বেলিংহাম ২০০৩ সালের ২৯শে জুন তারিখে ইংল্যান্ডের স্টাওয়ারব্রিজে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই তার শৈশব অতিবাহিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবল

বেলিংহাম ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৫, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৬, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৭ এবং ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৬ সালে তিনি ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিষেক করেছেন। ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে তিনি প্রায় ৪ বছরে ২৬ ম্যাচে অংশগ্রহণ করে ৮টি গোল এবং একটি শিরোপা জয়লাভ করেছেন।

২০২০ সালের ১২ই নভেম্বর তারিখে, ১৭ বছর, ৪ মাস ও ১৪ দিন বয়সে, ডান পায়ে ফুটবল খেলায় পারদর্শী বেলিংহাম প্রজাতন্ত্রী আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক করেছেন। উক্ত ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে মধ্যমাঠের খেলোয়াড় মেসন মাউন্টের বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তিনি মাঠে প্রবেশ করেছিলেন; ম্যাচে তিনি ১৭ নম্বর জার্সি পরিধান করে কেন্দ্রীয় মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছিলেন। ম্যাচটি ইংল্যান্ড ৩–০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল।

 ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেকের বছরে বেলিংহাম সর্বমোট ১ ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের ১ বছর, ১১ মাস ও ১০ দিন পর, ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে প্রথম গোলটি করেছেন; ২০২২ সালের ২১শে নভেম্বর তারিখে, ইরানের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে লুক শ-এর অ্যাসিস্ট হতে ইংল্যান্ডের হয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটি করার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রথম গোলটি করেছেন।

অথচ, মাত্র এই গ্রীষ্মেই বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ১০৩ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে রিয়াল মাদ্রিদ দলে টেনেছে জুড ভিক্টর উইলিয়াম বেলিংহামকে। ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুলের মতো ক্লাবগুলোর আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বেলিংহাম বেছে নিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদকেই। মাদ্রিদের আগ্রহও ছিল পুরোমাত্রায়, ডর্টমুন্ডে আলো ছড়ানো এই মিডফিল্ডারকে অনেক দিন ধরেই ‘পাখির চোখ’ করেছিল তারা। তবে ডর্টমুন্ডে নয়, মাত্র ২০ বছর বয়সী এই ইংরেজ মিডফিল্ডারের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ইংরেজ ক্লাব বার্মিংহ্যাম সিটিতে। আর সেখানে তার পারফরম্যান্স এতটাই দুর্দান্ত ছিল, ডর্টমুন্ডের উদ্দেশ্যে ক্লাব ছাড়ার সাথে সাথে বেলিংহামের ২২ নম্বর জার্সিটাকেও অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। অথচ বেলিংহামের বয়স তখন মাত্র ১৭!

একবার ভাবুন পুরো ব্যাপারটা। কৈশোর পেরোনোর আগেই আপনি দেশ ছাড়লেন। এরপর জার্মানিতে আপনি এমন একটা ক্লাবে গেলেন, যাদের প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম বায়ার্ন মিউনিখ। সেই ক্লাবেই আপনি সমর্থকদের হৃদয় জিতলেন, আপদকালীন অধিনায়কত্ব করলেন। এরই মধ্যে দেশের হয়ে আপনার অভিষেক হয়ে গেল, বিশ্বকাপে আপনি দেশের জার্সিতে মাঠে নামলেন। এরপর শতাধিক মিলিয়ন ইউরো খরচ করে আপনাকে দলে টানলো সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্লাবটাই। রিয়াল মাদ্রিদের শুভ্র জার্সি পরে আপনি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলতে নামছেন, অথচ জীবনে মাত্র বিশটি বসন্ত দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আপনার।

চাপে তো এভাবেই মূল্যহীন কয়লা রূপান্তরিত হয় অমূল্য হীরায়!

তবে বেলিংহামকে দেখলে অবশ্য খুব চাপে আছেন বলে মনে হয় না। মাঠের ফুটবলে জাদু দেখানো তার কাছে খুবই সহজ কাজ, বরং মাঠের বাইরে তাকে নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস দেখলেই তিনি কিঞ্চিৎ স্নায়ুচাপে ভোগেন। অবশ্য তেমনটাই তো হওয়ার কথা, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর শুভ্র-সমুদ্রের সাথে যে নিজেকে খুব বেশি পরিচিত করে নেওয়ার সুযোগটাই তিনি পাননি এখনো!

আপাতত গেতাফের বিপক্ষের ঐ ম্যাচেই ফেরা যাক।

লা লিগায় নিজেদের প্রথম ম্যাচ হলেও, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এটিই ছিল মৌসুমের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচেই শুরুতে গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ, দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে সমতা ফেরান হোসেলু। তবে খেলা যখন নব্বই মিনিট পেরিয়ে গড়ালো যোগ করা সময়ে, মৌসুমের প্রথম পয়েন্ট হারানোকে ভবিতব্যই মনে হচ্ছিলো কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের জন্য।

তখনই বেলিংহাম-ম্যাজিক!

লুকাস ভাসকেজের নেওয়া শটটা গেতাফে গোলরক্ষক ডেভিড সোরিয়ার জন্য আটকানো সহজই ছিল। পুরো ম্যাচে অসাধারণ কিপিং করা সোরিয়া নিজের শরীর বরাবর আসতে থাকা অমন সাধারণ শটটা ঠেকাতে পারবেন না, তা বোধহয় ভাসকেজ নিজেও ভাবেননি।

করিম বেনজেমার অনুপস্থিতিতে কার্লো আনচেলত্তি চার মিডফিল্ডারকে খেলাচ্ছেন ডায়মন্ড আকৃতিতে, আর সেই মিডফিল্ডের সবার সামনের হীরক খণ্ডটির নাম জুড বেলিংহাম। অভিষেকের পরের শুরুর ম্যাচগুলোতেই তিনি নিজের জাতটা চিনিয়ে দিয়েছেন, বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি এসেছেন এই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর রাজা হতে। এখন শুধুই সামনে এগিয়ে চলার পালা, আর নতুন রাজার অগ্রযাত্রায় মাদ্রিদ-সমর্থকেরা কি খুশি না হয়ে পারেন!

দলের বিপদে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়াটাকে যেন অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন জুড বেলিংহ্যাম।রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাত্র চার ম্যাচ খেলেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।এরই মধ্যে দলের জয়ে মূল ভুমিকায় ছিলেন তিন ম্যাচেই!

সর্বরিয়ালশেষ শনিবার রাতে গেটাফেকে তার করা শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর ৪৭তম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান হোসেলু। আর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে গোল করে রিয়ালকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন জুড বেলিংহাম।

রিয়ালের জার্সিতে অভিষেকের পর লা লিগায় টানা চার ম্যাচেই গোলের দেখা পেলেন জুড। চার ম্যাচে পাঁচটি গোল করেছেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।

sourse : wikipedia ..... bangla ....dailyinqilab 

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0