অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক এর জীবনী | Biography of Antonie van Leeuwenhoek
অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক এর জীবনী | Biography of Antonie van Leeuwenhoek
|
নাম (Name) |
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক (Antonie Van Leeuwenhoek) |
|
জন্ম (Birthday) |
২৪ অক্টোবর ১৬৩২ (24th October 1632) |
|
জন্মস্থান (Birthplace) |
ডিলেট, লন্ডন, ইংল্যান্ড |
|
জাতীয়তা |
ডাচ |
|
পরিচিতির কারণ |
ইতিহাসে প্রথম স্বীকৃত মাইক্রোস্কোপিস্ট এবং মাইক্রোবায়োলজিস্ট
অণুজীবের মাইক্রোস্কোপিক আবিষ্কার (পশুপাখি) |
|
কর্মক্ষেত্র |
মাইক্রোস্কোপি
মাইক্রোবায়োলজি |
|
মৃত্যু (Death) |
২৬ আগস্ট ১৭২৩ (26th August 1723) |
অ্যান্থনি ভ্যান লিউয়েনহোক
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর জীবনী – Antonie Van Leeuwenhoek Biography in Bengali :
বিজ্ঞানী অ্যান্থনি ফিলিপ ভন লিউয়েন হুককে গবেষণা কর্মে উৎসাহ প্রদান ও আবিষ্কারের সম্মান স্বরূপ রাশিয়ার সম্রাট পিটার দি গ্রেট ও ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথ অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক (Antonie Van Leeuwenhoek) এর গৃহে এসে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ব্যাক্টেরিয়া প্রত্যক্ষ করেন। অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক (Antonie Van Leeuwenhoek) এর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত (২০০-৪০০ গুণ) বিবর্ধন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রায় ২৫০টি অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করেছিলেন। আতশ কাঁচে কাপড়ের সুতা পরীক্ষা করা ছিল অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক (Antonie Van Leeuwenhoek) এর অন্যতম পেশা।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর জীবনী – Antonie Van Leeuwenhoek Biography in Bengali বা অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর আত্মজীবনী বা অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর (Antonie Van Leeuwenhoek Jivani Bangla. A short biography of Antonie Van Leeuwenhoek. Antonie Van Leeuwenhoek Birth, Place, Life Story, Life History, Biography in Bengali) জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক কে ছিলেন ?
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক (Antonie Van Leeuwenhoek) ছিলেন একজন ওলন্দাজ বিজ্ঞানী। অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক (Antonie Van Leeuwenhoek) প্রথম অণুবীক্ষণযন্ত্র তৈরি করেন এবং ব্যাক্টেরিয়া স্নায়ুকোষ, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদির অত্যন্ত সঠিক বর্ণনা দেন।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর জীবনী – Antonie Van Leeuwenhoek Biography in Bengali :
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর জন্ম – Antonie Van Leeuwenhoek Birthday :
অ্যান্টনি ভন লিওয়েন হক লিওয়েন হক ১৬৩২ খ্রীষ্টাব্দে হল্যান্ডের ডিলেট ( Delet ) অঞ্চলে এক সম্ভ্রান্ত অথচ দরিদ্র ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ।
প্রাথমিক জীবন এবং কর্মজীবন
1926 সালে ভেঙ্গে ফেলার আগে Oosteinde-এ ভ্যান লিউয়েনহোকের জন্ম বাড়ি
অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহোক ১৬৩২ সালের ২৪ অক্টোবর ডাচ প্রজাতন্ত্রের ডেলফটে জন্মগ্রহণ করেন । ৪ নভেম্বর তিনি থোনিস নামে দীক্ষিত হন । তার বাবা ফিলিপস অ্যান্টনিস ভ্যান লিউয়েনহোক একজন ঝুড়ি প্রস্তুতকারক ছিলেন, যিনি অ্যান্টনির পাঁচ বছর বয়সে মারা যান। তার মা মার্গারেথা (বেল ভ্যান ডেন বার্চ) একজন ধনী ব্রিউয়ার পরিবার থেকে এসেছিলেন। তিনি জ্যাকব জ্যান্স মোলিজনকে পুনরায় বিয়ে করেন, যিনি একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন এবং পরিবারটি ১৬৪০ সালের দিকে ওয়ার্মন্ডে চলে আসে । অ্যান্টনির চার বড় বোন ছিল: মার্গ্রিয়েট, গিরট্রুয়েট, নীলৎজে এবং ক্যাথারিনা। [ 11 ] যখন তিনি প্রায় দশ বছর বয়সে ছিলেন তখন তার সৎ বাবা মারা যান। তাকে তার চাচা, একজন আইনজীবীর সাথে বেন্থুইজেনে বসবাস করতে পাঠানো হয়েছিল । ১৬ বছর বয়সে তিনি আমস্টারডামের ওয়ার্মোয়েস্ট্র্যাটে একটি লিনেন-ড্রেপারের দোকানে একজন বুককিপারের শিক্ষানবিশ (ক্যাশার) হয়ে ওঠেন, যে দোকানটির মালিক ছিলেন উইলিয়াম ডেভিডসন । ভ্যান লিউয়েনহোক ছয় বছর পর সেখান থেকে চলে যান।
১৬৫৪ সালের জুলাই মাসে, ভ্যান লিউয়েনহোক ডেলফ্টে বারবারা ডি মে-কে বিয়ে করেন, যার সাথে তিনি এক জীবিত কন্যা মারিয়া (আরও চারটি সন্তান শৈশবেই মারা যান) এর জন্ম দেন। তিনি ১৬৫৫ সালে কিনে নেওয়া একটি বাড়িতে হাইপোলিটাসবার্টে তাঁর জীবনের বাকি সময় বসবাস এবং পড়াশোনা করতেন। তিনি একটি ড্রেপারের দোকান খোলেন, যেখানে তিনি সেলাইকারী এবং দর্জিদের কাছে লিনেন, সুতা এবং ফিতা বিক্রি করতেন। ডেলফ্টে তাঁর মর্যাদা বছরের পর বছর ধরে বৃদ্ধি পায়। ১৬৬০ সালে তিনি সিটি হলের শেরিফদের জন্য চেম্বারলেইন হিসেবে একটি লাভজনক চাকরি পান , এই পদে তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বের মধ্যে ছিল প্রাঙ্গণ রক্ষণাবেক্ষণ, গরম করা, পরিষ্কার করা, সভা খোলা, সমবেতদের জন্য দায়িত্ব পালন করা এবং সেখানে আলোচিত সমস্ত বিষয়ে নীরবতা বজায় রাখা।
১৬৬৯ সালে হল্যান্ডের আদালত তাকে ভূমি জরিপকারী হিসেবে নিযুক্ত করে ; একসময় তিনি এটিকে আরেকটি পৌরসভার চাকরির সাথে একত্রিত করেন, ডেলফ্টের সরকারী "ওয়াইন-গেজার" এবং শহরের ওয়াইন আমদানি ও করের দায়িত্বে ছিলেন। ১৬৬৬ সালে তার স্ত্রী মারা যান এবং ১৬৭১ সালে ভ্যান লিউয়েনহোক কর্নেলিয়া সোয়ালমিউসের সাথে পুনরায় বিবাহ করেন যার সাথে তার কোন সন্তান ছিল না।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর পরিচয় – Introduction :
তিনি যে যুগে জন্মেছিলেন সেটা ছিলাে অন্ধকারের যুগ । এই অন্ধত্ব ছিলাে বিদ্যায় , বিশ্বাসে , জ্ঞানে ও আচরণে সে যুগের মানুষেরা , এমন কি বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত বিশ্বাস করতেন সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘােরে , আর তাতেই হয় দিনরাত । শুধু দিনরাতের ব্যাপার নয় , মানুষের রােগ ব্যাধি , দুর্ঘটনা ও মৃত্যু এসবের জন্য সেকালে প্রচলিত ছিলাে নানা কুসংস্কার ও কাল্পনিক মিথ্যা ধারণা । ধর্মের অনুশাসনের বিরুদ্ধে , অন্ধ বিশ্বাস , ধারণা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে টু শব্দ করার ক্ষমতা ছিলাে না কারাে । তবু সে যুগের নানা কুসংস্কার আর অন্ধত্বের বিরুদ্ধে অসম সাহসে অতি কষ্টে হলেও যেসব মনীষীরা জ্ঞানের আলাে জ্বালাতে সচেষ্ট হয়েছিলেন , তাদেরই একজন বিজ্ঞানী লিওয়েন হক ।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর কর্মজীবন
জন্মের পর কিছুদিনের মধ্যে তার পিতার মৃত্যু হয় । মায়ের আশা ছিলাে ছেলেকে তিনি মানুষের মতাে মানুষ করে তুলবেন । কিন্তু হাকের লেখাপড়া ভালাে লাগতাে না । ষােলাে বছর বয়সে পড়া ছেড়ে এক মুদির দোকানে চাকরি নেন । আর সেই সাথে ঘরে আনলেন নতুন বউ । এরপর প্রায় কুড়িটা বছর কেটে গেল , আর কয়েকটা বিয়ে করা ছাড়া তার জীবনে কোনাে পরিবর্তন এলাে না । বিশ বছর পর মুদি দোকানদারী ছেড়ে স্থানীয় পৌরসভায় ঘর দেখাশুনার চাকরি নিলেন । এই সময় তাকে একটি নতুন নেশায় পেয়ে বসেছিলাে কে যেন তাকে বলেছিলাে কাচের লেন্সের মধ্যে দিয়ে দেখলে সবকিছু বড় দেখায় । আর তাই তিনি কাচ ঘষে ঘষে লেন্স তৈরি করা শুরু করলেন । যারা চশমা তৈরি করে তাদের কাছে ঘুরে ঘুরে চশমা তৈরির কৌশলও শিখে ফেললেন ।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর কাঁচের লেন্স :
কাচ ঘষাঘষির খেলায় লিওয়েন হক একদিন দেখলেন সত্যি সে এক বিস্ময় ক্ষুদ্র যে জিনিসটাকে তিনি খালি চোখে দেখতেই পেতেন না , লেন্সের মধ্য দিয়ে দেখলে সেই জিনিসটাকে বেশ বড় দেখায় স্পষ্ট দেখায় । আরাে মজার ব্যাপার হলাে , এই কাচটা যতাে উন্নতমানের হয় , দর্শনীয় জিনিসটা ততাে বেশি স্পষ্ট ও বড় দেখায় । তাই তিনি চেষ্টা করতে লাগলেন আরাে উন্নতমানের কাচ যােগাড় করতে । আরাে সুন্দর করে লেন্স তৈরি করতে । তিনি লক্ষ্য করলেন , এই দৃশ্যমান জগতের মধ্যেই আরাে একটা অদৃশ্য জগত রয়েছে । সে জগত বড় বিচিত্র , বড় বিস্ময়কর , বড় বিশাল সেই বিময়কর । জগতকে তার আবিষ্কার করতে হবে । আর সেই বিচিত্র বিস্ময়কর জগতে প্রবেশ করতে হলে একমাত্র পথ হলাে কাচের লেন্স ।
লিউয়েনহোক ১৬৩২ সালের ২৪শে অক্টোবর হল্যান্ডের ডেলফটে জন্মগ্রহণ করেন। সম্ভবত তার খুব বেশি বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ছিল না, কারণ তার পরিবারের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব ছিল না। তিনি প্রথমে একজন পোশাক পরিচ্ছদকারী এবং ড্রেপার হয়েছিলেন এবং ১৬৬০ সালে ডেলফটের শেরিফদের কাছে চেম্বারলাইন ছিলেন। লেন্স গ্রাইন্ডিং ছিল তার শখ; এবং তার জীবদ্দশায় তিনি প্রায় ৪০০টি লেন্স গ্রাইন্ড করেছিলেন, যার বেশিরভাগই বেশ ছোট ছিল, যার বিবর্ধক শক্তি ছিল ৫০ থেকে ৩০০ গুণ।
কেবল তার লেন্সই তাকে বিশ্বখ্যাত করে তোলেনি, বরং অণুবীক্ষণ যন্ত্রের কাজও তাকে বিশ্বখ্যাত করে তুলেছিল। তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার ফলে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের সূত্রপাত হয়। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ব্যাকটেরিয়া এবং প্রোটোজোয়ার আকার পর্যবেক্ষণ ও গণনা করেছিলেন এবং লোহিত রক্তকণিকার প্রথম সঠিক বর্ণনা দিয়েছিলেন।
যদিও লিউয়েনহোক ডেলফটে থাকতেন, তিনি ইংল্যান্ডের রয়েল সোসাইটির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন, যেখানে তিনি ১৬৮০ সালে নির্বাচিত হন। তার বেশিরভাগ আবিষ্কার সোসাইটির দার্শনিক লেনদেনে প্রকাশিত হয়েছিল । তিনি তার ৯০ বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে তার কাজ চালিয়ে যান।
লিওয়েন হককে কাচের লেন্সের খেলা সেই সময় এমন নেশার মতাে পেয়ে বসেছিলাে যে , তিনি তখন লেন্স ছাড়া আর কিছুই ভাবতেও পারতেন না । তিনি যা কিছু সামনে পেতেন ছােট অথবা বড় তাই এনে রাখতেন কাচের লেন্সের নিচে আর তখনই দৃশ্যমান বন্ধটির মাঝে ভেসে উঠতাে আর একটি অদৃশ্য জগত । সেসব দেখে তিনি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যেতেন । একদিন হক একটা মাছির মাথা কেটে লেন্সের নিচে রাখলেন । কী আশ্চর্য , তিনি দেখলেন সেই ক্ষুদ্র মাছির মাথায়ও ঘিলু আছে । তিনি উকুনের পা , পােকাদের লও দেখলেন লেন্সের মাধ্যমে ।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর কাঁচের লেন্স আবিষ্কার
হক তার লেন্স আবিষ্কার এবং অদৃশ্য জগতের খবর জানিয়ে ইংল্যান্ডের রয়াল সােসাইটির কাছে পত্র লিখলেন । রয়াল সােসাইটির সদস্যরাও এই বিস্ময়কর জগতের সংবাদ শুনে অবাক হয়ে গেলেন । তারা হুককে এ সম্পর্কে আরাে বিস্তারিত তথ্য জানানাের জন্য উৎসাহ দিয়ে পত্র লিখলেন ।
মাইক্রোস্কোপিক গবেষণা
অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহোক ৫০০ টিরও বেশি অপটিক্যাল লেন্স তৈরি করেছিলেন। তিনি কমপক্ষে ২৫টি একক-লেন্স মাইক্রোস্কোপও তৈরি করেছিলেন, বিভিন্ন ধরণের, যার মধ্যে মাত্র নয়টি টিকে আছে। এই মাইক্রোস্কোপগুলি রূপালী বা তামার ফ্রেম দিয়ে তৈরি ছিল, হাতে তৈরি লেন্স ধারণ করে। যেগুলি টিকে আছে সেগুলি ২৭৫ বার পর্যন্ত বিবর্ধন করতে সক্ষম। সন্দেহ করা হয় যে ভ্যান লিউয়েনহোকের এমন কিছু মাইক্রোস্কোপ ছিল যা ৫০০ বার পর্যন্ত বিবর্ধন করতে পারে। যদিও তাকে ব্যাপকভাবে একজন অপেশাদার বা অপেশাদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তার বৈজ্ঞানিক গবেষণা উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চমানের ছিল।
ভ্যান লিউয়েনহোকের একক-লেন্স মাইক্রোস্কোপগুলি তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল, সবচেয়ে বড়টি প্রায় 5 সেমি লম্বা ছিল। চোখের সামনে লেন্সটি খুব কাছে রেখে এগুলি ব্যবহার করা হয়। মাইক্রোস্কোপের অন্য পাশে একটি পিন ছিল, যেখানে নমুনাটি লেন্সের কাছাকাছি থাকার জন্য সংযুক্ত ছিল। পিন এবং নমুনাটিকে তিনটি অক্ষ বরাবর সরানোর জন্য তিনটি স্ক্রুও ছিল: ফোকাস পরিবর্তন করার জন্য একটি অক্ষ এবং নমুনার মধ্য দিয়ে নেভিগেট করার জন্য অন্য দুটি অক্ষ।
ভ্যান লিউয়েনহোক তার সারা জীবন ধরে ধরে রেখেছিলেন যে মাইক্রোস্কোপ নির্মাণের কিছু দিক আছে "যা আমি কেবল নিজের কাছেই রাখি", বিশেষ করে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোপন রহস্য হল তিনি কীভাবে লেন্স তৈরি করেছিলেন। বহু বছর ধরে কেউ ভ্যান লিউয়েনহোকের নকশা কৌশল পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়নি, কিন্তু, 1957 সালে, সিএল স্টোং পালিশ করার পরিবর্তে পাতলা কাচের সুতোর ফিউজিং ব্যবহার করেছিলেন এবং সফলভাবে ভ্যান লিউয়েনহোক ডিজাইন মাইক্রোস্কোপের কিছু কার্যকরী নমুনা তৈরি করেছিলেন। রাশিয়ান নোভোসিবিরস্ক স্টেট মেডিকেল ইনস্টিটিউটে এ. মোসোলভ এবং এ. বেলকিনও এই পদ্ধতিটি স্বাধীনভাবে আবিষ্কার করেছিলেন । 2021 সালের মে মাসে, নেদারল্যান্ডসের গবেষকরা লিউয়েনহোক মাইক্রোস্কোপের একটি অ-ধ্বংসাত্মক নিউট্রন টমোগ্রাফি অধ্যয়ন প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে একটি ছবিতে একটি স্টোং/মোসোলভ-টাইপ গোলাকার লেন্স দেখানো হয়েছে যার সাথে একটি ছোট কাচের স্টেম সংযুক্ত রয়েছে (চিত্র 4) । এই ধরনের লেন্স তৈরি করা হয় একটি অত্যন্ত পাতলা কাচের ফিলামেন্ট টেনে, ফিলামেন্ট ভেঙে এবং ফিলামেন্টের প্রান্তটি সংক্ষেপে ফিউজ করে। নিউক্লিয়ার টমোগ্রাফি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই লেন্স তৈরির পদ্ধতিটি প্রথমে লিউয়েনহোকের পরিবর্তে রবার্ট হুক দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল , যা লিউয়েনহোকের আবিষ্কারে হুকের পরবর্তী বিস্ময়ের কারণে বিদ্রূপাত্মক।
ভ্যান লিউয়েনহোক জলের এককগুলিতে অণুজীবের সংখ্যা অনুমান করার জন্য নমুনা এবং পরিমাপ ব্যবহার করেছিলেন। তিনি তার পদ্ধতির দ্বারা প্রদত্ত বিশাল সুবিধারও সদ্ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিস্তৃত পরিসরের অণুবীক্ষণিক ঘটনা অধ্যয়ন করেছিলেন এবং ফলস্বরূপ পর্যবেক্ষণগুলি ব্রিটিশ রয়েল সোসাইটির মতো গোষ্ঠীর সাথে অবাধে ভাগ করে নিয়েছিলেন । এই ধরনের কাজ অণুবীক্ষণিক বিশ্বের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযাত্রীদের একজন হিসাবে ইতিহাসে তার স্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ভ্যান লিউয়েনহোক ছিলেন রবার্ট হুকের মতো কোষ পর্যবেক্ষণকারী প্রথম ব্যক্তিদের একজন। তিনি আন্তোনিও ম্যাগলিয়াবেচির সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন ।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক রয়েল সোসাইটি কাছে পত্র লেখা :
লিওয়েন হক এর কিছুদিন পরই আবিষ্কার করলেন সবচেয়ে বিময়কর জগতটি । তিনি একটু আগে যে গ্লাসের জলপান করেছেন , তাতে আধগ্লাস জল ছিলাে , তিনি সেটা রাখলেন লেন্সের নিচে । সলিময়ে তিনি দেখলেন , সেই ঝকঝকে জলের মধ্যে এক ঝাক বিচিত্র ধরনের পােকা কিলবিল করছে । তাহলে কি মানুষ পােকাসুরী জল খায় ? জলেতে পােকা আসে কিভাবে ? লিওয়েন হক ততক্ষণাৎ তার আবিষ্কৃত যন্ত্র ( লেন্স ) এবং জলেতে বিচিত্র হাজার হাজার পােকার কথা লিখে পত্র পাঠালেন আবার লন্ডনের রয়াল সােসাইটির কাছে ।
রয়াল সােসাইটি দু’জন বিজ্ঞানীকে পাঠালেন লিওয়েন হকের কাছে যন্ত্রটা পরীক্ষা করার জন্য । তারা এসে দেখলেন সত্যি তাে , এ যে বড় বিস্ময়কর আবিষ্কার । তারা হকের তৈরি অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরিষ্কার জলের মধ্যে সাঁতার কাটতে দেখলেন অসংখ্য পােকাকে ।
অ্যান্টনি ভন লিয়য়েন হক এর বিজ্ঞানী স্বীকৃতি
এরপর লিওয়েন হক বিজ্ঞানী হিসাবে স্বীকৃতি পেলেন । তিনি লন্ডনের রয়াল সােসাইটির সদস্য হলেন । তবে তিনি তার মাইক্রোস্কোপ যন্ত্রটি কাউকে খুলে দেখতে দিলেন না বা হাতছাড়া করলেন না ।
ইতিমধ্যে লিওয়ন হকের এই আজব মাইক্রোস্কোপ যন্ত্রে কথা । সারা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে । ইংল্যান্ডের রানীও এসে তার যন্ত্রটা । দেখে যান ।
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হক এর মৃত্যু
মাইক্রোস্কোপের মহা আবিষ্কারক লিওয়েন হুক ১৭৩৩ সালে ১০১ বছর বয়সে মারা যান । তার আবিষ্কৃত মাইক্রোস্কোপের আরাে অনেক উন্নতি হয়েছে পরে । বর্তমানে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে একটা বস্তুকে দশ পনেরাে হাজার গুণ বড় করে দেখা সম্ভব ।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0