লামিন ইয়ামাল এর জীবনী | Biography of Lamine Yamal
লামিন ইয়ামাল এর জীবনী | Biography of Lamine Yamal
|
ব্যক্তিগত তথ্য |
|||
|---|---|---|---|
|
পূর্ণ নাম |
লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা | ||
|
জন্ম |
১৩ জুলাই ২০০৭ | ||
|
জন্ম স্থান |
এসপ্লুগুয়েস দে লোব্রেগাত, স্পেন | ||
|
উচ্চতা |
১.৮০ মিটার (৫ ফুট ১১ ইঞ্চি) | ||
|
মাঠে অবস্থান |
আক্রমণভাগের খেলোয়াড় | ||
|
ক্লাবের তথ্য |
|||
|
বর্তমান দল
|
বার্সেলোনা |
||
|
জার্সি নম্বর |
১৯ | ||
|
যুব পর্যায় |
|||
|
২০১৪– |
বার্সেলোনা | ||
|
জ্যেষ্ঠ পর্যায়* |
|||
|
বছর |
দল | ম্যাচ | (গোল) |
|
২০২৩– |
বার্সেলোনা আতলেতিক | ৩ | (০) |
|
২০২৩– |
বার্সেলোনা | ২ | (০) |
|
জাতীয় দল‡ |
|||
|
২০২১–২০২২ |
স্পেন অ-১৫ | ৬ | (৩) |
|
২০২১– |
স্পেন অ-১৬ | ৪ | (১) |
|
২০২২– |
স্পেন অ-১৭ | ১০ | (৮) |
|
২০২৩– |
স্পেন অ-১৯ | ১ | (০) |
লামিন ইয়ামাল: ১৬ বছরের তরুণের বিশ্ব মাতানোর গল্প
লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা (জন্ম ১৩ জুলাই ২০০৭) একজন স্পেনীয় মুসলিম ফুটবল খেলোয়াড় যিনি বর্তমানে স্পেনীয় ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ স্তর লা লিগার ক্লাব বার্সেলোনা এবং স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন.
প্রাথমিক জীবন
লামিনে ইয়ামাল একজন মরক্কী বাবা এবং বিষুবীয় গিনীয় মায়ের কাছে স্পেনের মাতারোতে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি তার যৌবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন মিন ইয়ামালের বয়স মাত্র ১৬ বছর ৩৬৪ দিন। একদিন পর ১৭ বছর পূর্ণ হবে এই তরুণের। তবে এত অল্প বয়সেই নিজের দিকে আলো কেড়ে নিয়েছেন এই স্প্যানিশ তরুণ। নিজের প্রথম ম্যাচেই ভক্তদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, কত বড় তারকা হতে যাচ্ছেন তিনি। চলমান ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে নিজেকে চিনিয়েছেন বিশ্বমঞ্চে। চোখ ধাঁধানো গোলে চমকে দিয়েছেন পুরো ফুটবল বিশ্বকে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের ধারণা ছিল, ফুটবলার হিসেবে ইয়ামাল এখনো পরিপক্ব হননি। কিন্তু সেসকল কথায় বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।
ইয়ামালের জন্ম ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই স্পেনের মাটারা প্রদেশে শরণার্থী পরিবারে। তার বাবর বাড়ি মরক্কোর একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। মা আফ্রিকার ছোট্ট দেশ নিরক্ষীয় গিনির। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের এই জায়গাতে এসেছেন ইয়ামাল। জীবনের প্রতিটি লগ্নেই মোকাবেলা করেছেন নানা রকম প্রতিকূলতা। হাজারও রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে এসেছেন স্পেনের জাতীয় দলে।
খেলোয়াড়ী জীবন
ক্লাব
লা মাসিয়ার যুব র্যাঙ্কের মধ্য দিয়ে ক্রমবর্ধমান লামিনে ইয়ামালকে শীঘ্রই একাডেমির অন্যতম সেরা সম্ভাবনা হিসাবে দেখা হয়।[৩][৬][৭][৮] ২০২২–২৪ মৌসুমের জন্য জুভেনিল এ দলে যুক্ত হওয়ার পরে[৭] লামিনে ইয়ামালকে জাভি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে অন্যান্য তরুণদের সাথে প্রথম দলের সাথে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করেছিল।[১][৪] যদিও এখনও ক্লাবের সাথে তার প্রথম পেশাদার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি, কাতালান কোচকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করার জন্য একাডেমির অন্যতম সদস্য বলে মনে করা হয়েছিল তাকে।
২৯ এপ্রিল ২০২৩-এ তার প্রথম দলে অভিষেক হয়, লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিরুদ্ধে ৪–০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ৮৩তম মিনিটে গাভির স্থলাভিষিক্ত হন এবং গোল করার লক্ষ্যে একটি শট নিবন্ধন করেন যা বার্সেলোনার সাবেক গোলরক্ষক ক্লাউদিও ব্রাভো রক্ষা করেছিলেন। মাত্র ১৫ বছর, ৯ মাস এবং ১৬ দিন বয়সে বার্সেলোনার প্রথম দলে উপস্থিত হওয়া সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামাল। ১৪ মে ২০২৩-এ তিনি বার্সার সাথে তার প্রথম শিরোপা জিতেছিলেন, কারণ তিনি ২০২২–২৩ লা লিগা জয়ী দলের অংশ ছিলেন।
আন্তর্জাতিক
লামিনে ইয়ামাল স্পেনের একজন যুব আন্তর্জাতিক। ২০২১ সালে তিনি স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে ৪টি ম্যাচ খেলেন এবং ১টি গোল করেন।২০২২ সালে তিনি স্পেনীয় অনূর্ধ্ব-১৫ এর সাথেও খেলেছেন।২০২৪ সালে তিনি উয়েফা ইউরোপীয় অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৩-এ স্পেনীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন যা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল এবং এতে লামিনে ইয়ামাল ৫টি ম্যাচ খেলেন ও ৪টি গোল করেন। ২০২৪ উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ১ টি দুর্দান্ত গোল করে স্পেন কে ফাইনালে উঠতে সহায়তা করেন। এটা তার আন্তর্জাতিক প্রথম গোল।
খেলার ধরন
দুর্দান্ত বল কাটানো, পাস দেওয়া এবং স্কোর করার ক্ষমতা সহ একজন বাঁ-পায়ের আক্রমনভাগের খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামাল একজন কেন্দ্রীয় আক্রমণকারী, আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠের খেলোয়াড় বা পার্শ্বীয় খেলোয়াড় হিসেবে বেশিরভাগ ডানদিকে খেলতে সক্ষম।
তার কারিগরি প্রোফাইলের সাথে লামিনে ইয়ামালকে শীঘ্রই পূর্বের অনেক লা মাসিয়ার প্রশিক্ষণার্থীদের মতোই আর্জেন্টিনার আইডল লিওনেল মেসির সাথে তুলনা করা হয়,[১][৩][১৪][১৫] তবে সাম্প্রতিক বার্সা তারকা আনসু ফাতির সাথেও তুলনা করা হয়।
চুপচাপ এগিয়ে চলো। শুধু চেকমেট হওয়ার সময় কথা বলো’-ইউরো কাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে ইনস্টাগ্রামে কথাটা লিখেছিলেন লামিন ইয়ামাল। ম্যাচের আগে ফ্রান্স মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওত বলেছিলেন, ফ্রান্সকে হারাতে হলে ইয়ামালকে আরও ‘বেশি কিছু’ করতে হবে। সে কথার জবাবেই হয়ত ইনস্টাগ্রামে উপরের কথাটা পোস্ট করেছিলেন ১৬ বছর বয়সি স্প্যানিশ তারকা।
তবে শুধু ইনস্টাগ্রামে লেখা দুই বাক্যেই নয়, খেলার মাঠেও জবাবটা নিজের মতো করে দিয়েছেন ইয়ামাল। সেই রাবিওতকে নাচিয়েই ২৫ গজ দূর থেকে ফ্রান্সের জাল বল পাঠিয়েছেন। তার গোলেই ঘুরে গেছে ম্যাচ। এরপর জুলস কুন্দের আত্মঘাতী গোলে ফরাসিদের টপকে ফাইনালের টিকিট কাটে স্পেন।
বার্সেলোনার কিংবদন্তিদের আঁতুড়ঘর লা মাসিয়ার রত্ন ইয়ামাল। বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিওনেল মেসির সঙ্গে ইয়ামালের ছোটবেলার কিছু ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। মেসি যখন লা মাসিয়া থেকে সদ্য বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা পাকা করছেন, তখন ক্লাবের একটি ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে ছয় মাস বয়সি ইয়ামালের সঙ্গে দেখা হয় মেসির।
সেই ইয়ামালই এখন বল পায়ে কারিকুরিতে মেসিকে মনে করাচ্ছেন। ইউরোর ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সে মাঠে নামা, গোল আর অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন ইয়ামাল। মেসির মতো রেকর্ডের ফুলঝুরি সাজাচ্ছেন কিশোর বয়সেই।
স্পেনের মাটারা প্রদেশে এক উদ্বাস্তু পরিবারে জন্ম ইয়ামালের। তার বাবা মরক্কোর মানুষ। মা আফ্রিকার ছোট্ট দেশ নিরক্ষীয় গিনির। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন ইয়ামাল।
২০১৪ সাল থেকে বার্সেলোনায় স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করে ইয়ামালের পরিবার। তখন তাকে ৭ বছর বয়সে ভর্তি করানো হয় বার্সেলোনার ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। স্পেনের প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলের হয়ে প্রতিভার পরিচয় দেওয়া ইয়ামালকে ছোট বয়সেই জাতীয় দলের হয়ে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিল মরক্কোর ফুটবল সংস্থা। তবে ইয়ামাল বেছে নিয়েছেন নিজের জন্মভূমিকে।
sourse: wikipedia ,,, somoynews ,,, jugantor ,, xtratimebangla
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0