রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জীবনী | Best biography of Riaz
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জীবনী | Best biography of Riaz in word
জীবন ও কর্ম জীবনরিয়াজ
১৯৭২ সালে ফরিদপুর জেলা সদরের কমলাপুর মহল্লায় একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ছেলেবেলা কেটেছে ফরিদপুর শহরের সিএনবি স্টাফ কোয়ার্টার্সের চৌহদ্দিতে। তার বাবা জাইনুদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক ছিলেন সরকারি অফিসের একজন কর্মকর্তা; মাতা আরজুমান্দ আরা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
প্রাথমিক জীবন ও কর্ম জীবন
রিয়াজ ১৯৭২ সালে ফরিদপুর জেলা সদরের কমলাপুর মহল্লায় একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ছেলেবেলা কেটেছে ফরিদপুর শহরের সিএনবি স্টাফ কোয়ার্টার্সের চৌহদ্দিতে। তার বাবা জাইনুদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক ছিলেন সরকারি অফিসের একজন কর্মকর্তা; মাতা আরজুমান্দ আরা বেগম গৃহিণী ছিলেন। রিয়াজ পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বড় ভাই রাইজুদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক এবং ছয় বোন জিন্ন্যা আরা, সুলতানা জাহানারা সিদ্দিক, সুলতানা রওনক আরা, সুলতানা রওশন জামিল, সুলতানা সালমা শাহীন ও সুলতানা ফাতেমা শিরিণ। সকলেই বিবাহিত। ছোটবেলায় রিয়াজের ইচ্ছা ছিল স্থপতি হবেন; পরে পরিবারের বড়দের উৎসাহে যশোরে বিমানবাহিনীতে ভর্তি পরীক্ষা দেন এবং উত্তীর্ণ হন। যথাযথ প্রশিক্ষণ শেষে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বিমানচালক হিসেবে যোগদান করেন।[১] বৈমানিক হিসাবে তিনি একটি জেট ফাইটারে মোট ৩০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন।
রিয়াজ শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ১৯৯৩ সালে বিমানবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন।
চাকরিচ্যুতির পর তিনি বাড়ি ছেড়ে ঢাকা শহরে পাড়ি জমান এবং চাচাতো বোন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতার হাত ধরে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে একজন অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।[১] অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হৃদয়ের কথা চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন। বর্তমানে রিয়াজ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ঢাকার বনানীতে ইয়েস কর্পোরেশন নামে একটি কোমল পানীয় উৎপাদনকারী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও হাউজিং কোম্পানি আশিয়ান গ্রুপ-এর পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাত্কারে রিয়াজ ইঙ্গিত দেন যে, তিনি বর্তমানে ব্যবসা ও চাকরি থেকে দূরে রয়েছেন।[১৮]
শিক্ষা জীবন
রিয়াজ তার ছেলেবেলা থেকেই উদ্যমী, খেলাধুলাপ্রিয়, লেখাপড়ায় উজ্জ্বল ছিলেন। তিনি স্থপতি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭৭ সালে ফরিদপুর জেলা সদরে অবস্থিত তারার মেলা উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পরে ফরিদপুর জিলা স্কুলে ভর্তি হন, সেখানে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুর সদরে অবস্থিত ময়েজউদ্দীন হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর ফরিদপুর থেকে চলে আসেন পৈতৃক বাসস্থান যশোর জেলায়। তার কলেজ জীবন শুরু হয় যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে এইচএসসিতে ভর্তির মাধ্যমে এবং সেখান থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর বুয়েটে ভর্তি হওয়ার জন্য ঢাকা এসে কোচিং শুরু করেন, কিন্তু পরিবারের বড়দের উৎসাহে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমীতে ১৯৯১ সালের জুন পর্যন্ত অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএসসি (পাস কোর্স) সম্পূর্ণ করেন। মাঝখানে তিনি তুরস্ক বিমান বাহিনীর দেওয়া একটি বৃত্তিতে টি-থার্টি-সেভেন বিমানের উপরে একটি প্রশিক্ষণ নিতে ঐ দেশে যান।[১৩] ঐ প্রশিক্ষণটিতে তিনি ভালো ফলাফল অর্জন করেন, যার ফলশ্রুতিতে তুরস্ক বিমান বাহিনী তাকে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করে। কিন্তু বিভিন্ন রকমের প্রক্রিয়াকরণের কারণে প্রশিক্ষণটি নেয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।[১৩]
অভিনয় জীবন
রিয়াজের নিজ পরিবারের কেউ অভিনয়ের সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও তার তিন চাচাতো বোন কোহিনুর আক্তার সুচন্দা, ফরিদা আক্তার ববিতা ও গুলশান আরা চম্পা বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।ছোটবেলায় জনপ্রিয় টিভি সিরিজ টারজান এবং বাংলাদেশী পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'টারজান' তরুণ রিয়াজের উপর বিরাট প্রভাব বিস্তার করেছিল। এছাড়াও টম ক্রুজ অভিনীত হলিউড সুপারহিট চলচ্চিত্র টপ গান এবং পুনর্নির্মিত টারজান চলচ্চিত্রও তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ১৯৯৪ সালে তিনি চাচাতো বোন ববিতার সাথে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-তে ভ্রমণে এসে প্রয়াত অভিনেতা-প্রযোজক জসিম-এর নজরে পড়েন। জসিম যখন তাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন তখন তিনি অভিনয় সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এক্ষেত্রে ববিতা তাকে উৎসাহিত করেন, কিন্তু তার মা ছিলেন ধর্মভীরু, তাই তার মাকে রাজি করাতে একটু সময় লেগে গিয়েছিল।[ অবশেষে রিয়াজ ববিতার হাত ধরেই চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন।
জুটি
রিয়াজ কয়েকজন অভীনেত্রীর সাথে জুটি বেঁধে কাজ করে জনপ্রিয়তা ও সফলতা পেয়েছেন এবং একইসাথে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পে রেখেছেন তার অসামান্য অবদান। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর এর সাথে রিয়াজের প্রথম এবং সফল জুটি গড়ে উঠে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পে এই জুটির রয়েছে অসংখ্য দর্শক নন্দিত চলচ্চিত্র। আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমার সাথেও গড়ে উঠে রিয়াজের আরও একটি সফল জুটি। এই জুটিও বাংলাদেশ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু ভালো চলচ্চিত্র। এছাড়াও রিয়াজ বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর সাথে জুটিবদ্ধ হয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু এগুলো তেমন সফল হয়ন ।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
| বছর | শ্রেণী | চলচ্চিত্র | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| ২০০০ | সেরা অভিনেতা | দুই দুয়ারী | বিজয়ী |
| ২০০০ | সেরা অভিনেতা | দারুচিনি দ্বীপ | বিজয়ী |
| ২০০৮ | সেরা অভিনেতা | কি যাদু করিলা | বিজয়ী |
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার
- সেরা অভিনেতা - প্রাণের চেয়ে প্রিয় (১৯৯৮)
- সেরা অভিনেতা - "শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ (২০০১)
- সেরা অভিনেতা - প্রেমের তাজ মহল (২০০২)
- সেরা অভিনেতা - মনের মাঝে তুমি (২০০৩)
- সেরা অভিনেতা (সমালোচক) - শাস্তি (২০০৪)
- সেরা অভিনেতা (সমালোচক) - হাজার বছর ধরে (২০০৫)
- সেরা অভিনেতা - হৃদয়ের কথা (২০০৬)
চলচ্চিত্রের তালিকা
রিয়াজ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো: প্রাণের চেয়ে প্রিয় ও হৃদয়ের আয়না (১৯৯৭), ভালোবাসি তোমাকে, পৃথিবী তোমার আমার, বুক ভরা ভালোবাসা ও কাজের মেয়ে (১৯৯৮), বিয়ের ফুল ও স্বপ্নের পুরুষ (১৯৯৯), এ বাঁধন যাবেনা ছিঁড়ে, সাবধান ও ভয়ঙ্কর বিষু (২০০০), হৃদয়ের বন্ধন, শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ ও মিলন হবে কতো দিনে (২০০১), প্রেমের তাজ মহল, নিঃশ্বাসে তুমি বিঃশ্বাসে তুমি, ও প্রিয়া তুমি কোথায় ও সুন্দরী বধু (২০০২), মাটির ফুল, ভালবাসা কারে কয়, মনের মাঝে তুমি ও জামাই শ্বশুর (২০০৩),স্বপ্নের বাসর, রং নাম্বার ও ছোট্ট একটু ভালবাসা (২০০৪), মোল্লা বাড়ীর বউ (২০০৫), হৃদয়ের কথা (২০০৬), আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা ও তোমাকেই খুঁজছি (২০০৮), মন বসেনা পড়ার টেবিলে (২০০৯), এবং বাজাও বিয়ের বাজনা (২০১০)।বাংলা সাহিত্যে নির্মিত কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি এগুলো হলো দুই দুয়ারী (২০০০), সুন্দরী বধু (২০০২), মেঘের পরে মেঘ: Clouds After Cloud, শ্যামল ছায়া: The Green Shadow ও শাস্তি: Punishment (২০০৪), হাজার বছর ধরে: Symphony of Agony (২০০৫), খেলাঘর: Dollhouse ও বিদ্রোহী পদ্মা (২০০৬), দারুচিনি দ্বীপ ও একজন সঙ্গে ছিল (২০০৭) এবং মধুমতি (২০১১)। এছাড়াও রিয়াজ বিকল্প ধারার কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন যেমন টক ঝাল মিষ্টি (২০০৪), না বোলনা: Don't Say No ও বকুল ফুলের মালা (২০০৬), মেঘের কোলে রোদ: Sunshine In The Clouds, কি যাদু করিলা ও চন্দ্রগ্রহণ: The Lunar Eclipse (২০০৮), এবাদত: The Worship (২০০৯), কুসুম কুসুম প্রেম (২০১১) উল্লেখযোগ্য।
চলচ্চিত্রসমূহ
রিয়াজ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো: প্রাণের চেয়ে প্রিয় ও হৃদয়ের আয়না (১৯৯৭), ভালবাসি তোমাকে, পৃথিবী তোমার আমার, বুক ভরা ভালোবাসা ও কাজের মেয়ে (১৯৯৮), বিয়ের ফুল ও স্বপ্নের পুরুষ (১৯৯৯), এ বাঁধন যাবেনা ছিঁড়ে, সাবধান ও ভয়ঙ্কর বিষু (২০০০), হৃদয়ের বন্ধন, শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ, মিলন হবে কতো দিনে ও প্রেমের তাজমহল (২০০১), নিঃশ্বাসে তুমি বিঃশ্বাসে তুমি, ও প্রিয়া তুমি কোথায় ও সুন্দরী বধু (২০০২), মাটির ফুল, ভালবাসা কারে কয়, মনের মাঝে তুমি, স্বপ্নের বাসর ও জামাই শ্বশুর (২০০৩), রং নাম্বার ও ছোট্ট একটু ভালবাসা (২০০৪), মোল্লা বাড়ীর বউ (২০০৫), হৃদয়ের কথা (২০০৬), আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা ও তোমাকেই খুঁজছি (২০০৮), চাঁদের মত বউ ও মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), বাজাও বিয়ের বাজনা (২০১০) এবং লোভে পাপে পাপে মৃত্যু (২০১৪)।
তিনি জনপ্রিয় কিছু গল্প-উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এগুলো হলো দুই দুয়ারী ২০০০ সুন্দরী বধু (২০০২), মেঘের পরে মেঘ, শ্যামল ছায়া ও শাস্তি (২০০৪), হাজার বছর ধরে (২০০৫), খেলাঘর ও বিদ্রোহী পদ্মা ২০০৬ দারুচিনি দ্বীপ ও একজন সঙ্গে ছিল (২০০৭) এবং মধুমতি ২০১১
এছাড়াও রিয়াজ বিকল্প ধারার কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন যেমন টক ঝাল মিষ্টি (২০০৪), না বোলনা ও বকুল ফুলের মালা (২০০৬), মেঘের কোলে রোদ, কি যাদু করিলা ও চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮), এবাদত (২০০৯), কুসুম কুসুম প্রেম টাকা ইত্যাদি।
প্রযোজক
রিয়াজ চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেও সফলতা লাভ করেছেন। তিনি ২০০৫ সালে তুহিন বড়ুয়ার সাথে যৌথ ভাবে পথিক নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র হৃদয়ের কথা। এতে রিয়াজ নিজেই প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন। এবং এই চলচ্চিত্র মুক্তি দেয়ার আগেই বাজারে মুক্তি দেওয়া হয় গানের অডিও এ্যালবাম, যা চলচ্চিত্র মুক্তির পূর্বেই শ্রুতারা সাদরে গ্রহণ করে। চলচ্চিত্রটি ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর মুক্তি দেয়া হয় এবং বক্স অফিসে ব্যবসায়িকভাবে সফলতা অর্জন করে। পরে রিয়াজ চলচ্চিত্র প্রযোজনাতে আগ্রহী হয়ে উঠেন এবং মিডিয়ায় দেয়া বিভিন্ন সাক্ষাত্কারে তিনি জানান তাদের প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী চলচ্চিত্রের নাম হৃদয় আছে যার সহ হৃদয় শিরোনামে আরো একটি চলচ্চিত্র হৃদয়ের মোহনায়। "হৃদয় আছে যার" ছবিটি পরিচালনা করার কথা ছিল ফেরদৌস হাসানের।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0