লিনাস পলিং এর জীবনী | Biography of Linus Pauling
লিনাস পলিং এর জীবনী | Biography of Linus Pauling
লিনাস পলিং: ভাগ্য সহায় হলেই পেতেন তৃতীয়বারের মতো নোবেল
|
লিনাস পাউলিং
|
|
|---|---|
|
জন্ম |
লিনাস কার্ল পাউলিং ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯০১ পোর্টল্যান্ড, ওরেগন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
|
মৃত্যু |
১৯ আগস্ট ১৯৯৪ (বয়স ৯৩) বিগ সার, ঙ্ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
|
বাসস্থান |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
|
জাতীয়তা |
মার্কিন |
|
কর্মক্ষেত্র |
|
|
প্রতিষ্ঠান |
As faculty member
As fellow
|
|
প্রাক্তন ছাত্র |
|
|
সন্দর্ভসমূহ |
The Determination with X-Rays of the Structures of Crystals (1925) |
|
পিএইচডি উপদেষ্টা |
Roscoe G. Dickinson |
|
অন্যান্য |
|
| পিএইচডি ছাত্ররা |
|
|
পরিচিতির কারণ |
[দেখান]
|
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার |
|
লিনাস কার্ল পাউলিং ( জন্ম-ফেব্রুয়ারি ২৮, ১৯০১- মৃত্যু-আগস্ট ১৯, ১৯৯৪) একজন বিশ্ববিখ্যাত রসায়নবিদ। তিনিই ১৯৫৪ এ রসায়ন এবং ১৯৬৩ সালে শান্তিতে দুইবার নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
জন্ম
লিনাস কার্ল পাউলিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অরেগনের পোর্টল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হারম্যান হেনরি উইলিয়াম পাউলিং ছিলেন অরেগনের একজন জার্মান বংশভূত ফার্মাসিস্ট এবং মা লুসি ইসাবেল ডার্লিং অরেগন জন্মগ্রহণকারি ও ইংরেজ-স্কটিশ বংশভূত।
শিক্ষা
কনডন ও পোর্টল্যান্ডের স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ১৯১৭ সালে পাউলিং ওরেগন স্টেট কলেজে যোগ দেন। সেখান থেকে ১৯২২ সালে রসায়নিক প্রকৌশলে বি.এস.সি. ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৯-১৯২০ সালের দিকে তিনি স্টেট কলেজে পরিমানগত বিশ্লেষণের (Quantitative Analysis) পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে ফেলো হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি অধ্যাপক আর. জি. ডিকিনসন ও রিচার্ড সি. টোলম্যানের তত্ত্বাবধায়নে কাজ করেন। ১৯২৫ সালে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তার মাইনর বিষয় ছিল পদার্থবিদ্যা ও গণিত।
আবিষ্কার
পরমাণুতে বিভিন্ন শক্তিস্তরে সর্বাধিক সংখ্যাক ইলেকট্রনের বিন্যাস সম্পর্কে ১৯২৫ সালে পাউলিং একটি নীতি উপস্থাপন করেন। এটি তার বর্জন নীতি হিসেবে পরিচিত। নীতিটি হল,-" একই পরমাণুতে যে কোন দুটি ইলেকট্রনের চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার মান কখনো এক হতে পারে না।" এই বর্জন নীতির মূল কথা হল, একটি পারমাণবিক অর্বিটালে সর্বাধিক দুইটি ইলেকট্রন থাকতে পারে যদি তাদের ঘূর্ণন (Spin) বিপরীতমুকী হয়।
লিনাস পলিং– বিখ্যাত রসায়নবিদ। জাতে আমেরিকান। পৃথিবীতে মাত্র চারজন ব্যক্তি দুইবার করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। লিনাস পলিং তাদের মধ্যে একজন। ভাগ্য যদি একটু সহায় হতো তাহলে হয়তো তিনি আরেকটি নোবেল পেতেন। তাহলে তিনি হতেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি কিনা তিনটি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
হয়তো এমন হতে পারতো যে প্রথম নোবেল পুরস্কারটা পাওয়া যেত আরো দুই বছর আগেই। ১৯৫৪ সালে রসায়নের জন্য এবং ১৯৬২ সালে শান্তিতে নোবেল পান তিনি।
তবে ডিএনএ-র গঠন আবিষ্কারের জন্যও তিনি নোবেল পেতে পারতেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি, যেমনটি রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিনেরও হয়নি। ডিএনএ-র কারিগর হিসেবে আমরা ওয়াটসন-ক্রিকের কথা জানি। ফ্রান্সিস ক্রিক এবং জেমস ওয়াটসন ডিএনএ আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। অথচ ডাবল হেলিক্সের বিষয়টা পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করেন ফ্রাঙ্কলিন নিজে। তিনি তার এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফির মাধ্যমে এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।
রোজালিন্ডের প্রাপ্ত ছবিগুলো দেখার জন্য পলিং কেমব্রিজে আসতে চেয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি সেখানে একটি কনফারেন্সের নেমন্তন্ন পান। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হলে যা হয়। কমিউনিস্ট হিসেবে দোষারোপ করে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ব্রিটেনে আসতে দেওয়া হলো না। পলিং পরে বুঝতে পারেন, যদি তিনি ফ্রাঙ্কলিনের তথ্য উপাত্ত দেখতে পারতেন এবং এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফির ছবিগুলো দেখার সুযোগ পেতেন তাহলে গণিত কষে আসল রহস্য বের করতে বেশি সময় লাগতো না।
এরকম হলে ওয়াটসন-ক্রিকের অনেক আগেই পলিং–ফ্রাঙ্কলিন ডিএনএ-র গঠন আবিষ্কার করে ফেলতেন। এজন্য তারা দুজনে নোবেল পুরস্কারও পেতে পারতেন। কিন্তু ভাগ্যে এমনটি হয়নি। পলিং তার গ্রাজুয়েশনের সময় থেকেই ক্রিস্টালোগ্রাফি নিয়ে কাজ করতে পারতেন। তিনি মূলত কাজ করছিলেন প্রোটিনের আণবিক গঠন নিয়ে যার জন্য ’৫৪ সালে তাকে নোবেল দেয়া হয়। তাই ডাটা থেকে নতুন কিছু বের করার পলিং এর জন্য সহজ ছিল।
তখনকার সময়ে প্রোটিনের একটি আণবিক গঠন বের করা ছিল অনেকটাই দুঃসাধ্য এবং এই কাজ করতে গেলে অনেকগুলো সমস্যা সামনে আসতো। যেমনঃ প্রোটিনের পরিশোধন ছিল একটি কঠিন কাজ। প্রোটিন অণু খুব সহজেই ভেঙে যেত এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো শনাক্ত করাও কঠিন ছিল। একটুখানি তাপমাত্রার এদিক-ওদিক হলে কিংবা বাইরে থেকে কোনো কিছু প্রোটিন অণুর উপর পড়লেই সেটার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আর থাকতো না।
তাছাড়া প্রোটিন শত শত বড় বড় অণুর সংমিশ্রণে তৈরি, তাই শুধুমাত্র এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফির সাহায্যে প্রোটিন শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না। পলিং এতো ভালোভাবে যেকোনো পদার্থের আণবিক গঠন বুঝতেন এবং এত ভালো গণিত বুঝতেন যে রাসায়নিক গঠন তৈরি করতে গিয়ে সেখানে কোয়ান্টাম রসায়ন এবং গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে প্রোটিনের আণবিক গঠন আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। এই বিষয়ে সে সময় তার সমকক্ষ আর কেউ ছিল না। সে জন্য পলিং এর আলাদা একটি প্রভাব ছিল এই বিষয়ে।
তবে এ কথা সত্য যে পলিং এবং আরেক বিজ্ঞানী উইলিয়াম ব্র্যগ অনেক আগে থেকেই ডিএনএ অণুর গাঠনিক সংকেত আবিষ্কারের জন্য কাজ করছিলেন। কিন্তু তারা প্রোটিনের দিকে ঝুঁকে গিয়েছিলেন। তবে পলিং ডিএনএ নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছিলেন। তিনি ডিএনএ-র একটি ছবি আণবিক গঠন সহ বের করেছিলেন কিন্তু সেটাতে ভুল ছিল।
১৯৫৩ সালে তিনি ডিএনএ নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র লিখে তার ছেলের মারফত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ওয়াটসনের কাছে পাঠান। ওয়াটসন সেই পেপার ফ্রাঙ্কলিনকে দেখান। ফ্রাঙ্কলিন পেপারটি দেখে বুঝতে পারেন যে সেখানে ডিএনএ নিয়ে বেশ কিছু গবেষণার কথা লেখা আছে বটে কিন্তু ডিএনএ যে সত্যিই ডাবল হেলিক্স সেটা কোনোভাবে প্রমাণ করছে না। এবং পলিং যে ডাটার উপর কাজ করেছেন এবং ক্রিস্টালোগ্রাফির যে ছবি দেখে বিশ্লেষণ করেছেন সেগুলো অনেক পুরনো। এগুলো থেকে ডিএনএ-র আণবিক গঠনের সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে না।
ফ্রাঙ্কলিন যুক্তরাষ্ট্রে পলিং এর ল্যাবে ডাটা এবং ছবির অংশবিশেষ দেখার জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোন উত্তর পাননি। ১৯৫১ সালে পলিং ডিএনএ নিয়ে এরকম উক্তি দেন–
আমি ডিএনএ নিয়ে এই তথ্য জানতাম যে অনেকেই যুক্তি দেখিয়েছেন এটাই বংশগতির বাহক, কিন্তু আমি কখনো এই তথ্য গ্রহণ করিনি। আমি প্রোটিন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছিল নিউক্লিক এসিড নয়, বরং প্রোটিনই বংশগতির বাহক।
তিনি খুব চাইতেন যে জীবনের বার্তা বহন করে যে বস্তু তার আণবিক গঠন তিনি নিজে আবিষ্কার করবেন। কিন্তু শেষে না পেরে খুব হতাশ হয়েছিলেন। তার স্ত্রী নাকি একবার তাকে ঠাট্টার ছলে বলেছিলেন, যদি ডিএনএ-র ব্যাপারটি এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে কেন সে এর উপর আরো বেশি করে পরিশ্রম করেনি?
তবে ১৯৫২ সালে পলিং যে ডিএনএ-র গঠন তৈরি করেছিলেন সেটাতে দুটি সূত্রক পাওয়া যায়নি। পাওয়া গিয়েছিলো তিনটি। এরকম হবার মূল কারণ ছিল কারগরি ত্রুটি এবং অপর্যাপ্ত উপাত্ত। তবে পলিংয়ের এই আণবিক গঠন আবিষ্কারের প্রক্রিয়াটি ছিল সুন্দর। সে কারণে যখন তিনি তার পেপার ওয়াটসনের কাছে পাঠান। তখন ওয়াটসন ও ক্রিক সেই প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করেছিলেন এবং তাদের কাছে ফ্রাঙ্কলিনের পর্যাপ্ত ডাটা আগে থেকেই ছিল। দুটি এক করে তারা দেখতে পেলেন যে ডিএনএ আসলে ডাবল হেলিক্স এবং আবিষ্কারটি তাদের নামের সাথে জড়িয়ে গেল।
এটা ঠিক যে ওয়াটসন এবং ক্রিক উভয়েই পলিংয়ের কাজের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। কারণ আণবিক গঠন নিয়ে পলিং যেসব কাজ করেছেন তাতে অনেকেই সে সময় তাকে আণবিক জীববিজ্ঞানের অগ্রদূত বলে অভিহিত করতেন। পলিং এর The Nature of the Chemical Bond নামক বইটি হচ্ছে একটি মাস্টারপিস। ক্রীক এই বইটি ওয়াটসনকে দিয়েছিলেন। ওয়াটসন এরপর স্মরণ করছিলেন যে তিনি বইটি হাতে পেয়ে ভেবেছিলেন ডিএনএ নিয়ে যা কিছু গোপন আছে তা আর হয়তো গোপন থাকবে না।
মৃত্যু
বিজ্ঞানী পাউলিং ১৯ আগস্ট, ১৯৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0