শাবনুর এর জীবন কাহিনী | Biography of Shabnur

শাবনুর এর জীবন কাহিনী | Biography of Shabnur

May 12, 2025 - 12:13
May 13, 2025 - 19:13
 0  1
শাবনুর এর জীবন কাহিনী  | Biography of Shabnur

কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর 

১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। 

চাঁদনী রাতে (১৯৯৩) চলচ্চিত্র দিয়ে।

শাবনূরের বিয়ে কবে হয়েছিল ?

২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর

শাবনূরের স্বামী কে ?

ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদ।

(জন্ম ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭৯) মঞ্চনাম শাবনূর হিসাবেই অধিক পরিচিত, হলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি ২০০৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত দুই নয়নের আলো ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি ছয়বার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি রেকর্ড সংখ্যক ১০ বার তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেছেন।

শাবনূরের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে চাঁদনী রাতে (১৯৯৩) চলচ্চিত্র দিয়ে। এই চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলেও পরে সালমান শাহের সাথে জুটি বেঁধে তিনি সফলতা লাভ করেন। সালমান শাহের সাথে তার অভিনীত স্বপ্নের ঠিকানা (১৯৯৫) যথাক্রমে বাংলাদেশের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র।[] ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত তিনি টানা পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন, তন্মধ্যে প্রথম তিন বছর কোনো নির্দিষ্ট চলচ্চিত্রের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হয়নি এবং পরের দুই বছর যথাক্রমে শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ (২০০১) ও স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ (২০০২) চলচ্চিত্রের জন্য। তার পরের পাঁচটি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আসে ফুলের মত বউ (২০০৪), মোল্লা বাড়ীর বউ (২০০৫), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), ১ টাকার বউ (২০০৮), ও বলবো কথা বাসর ঘরে (২০০৯) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য।

প্রাথমিক জীবন

শাবনূর ১৯৭৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক ভাবে তার নাম রাখা হয় কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। চলচ্চিত্রে আগমনের পরে পরিচালক এহতেশাম তার নাম রাখেন শাবনূর। শাবনূর শব্দের অর্থ রাতের আলো। শাবনূরের পিতার নাম শাহজাহান চৌধুরী।[] তিন ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় তিনি। তাঁর ছোট বোন ঝুমুর[] এবং ভাই তমাল দুজনেই নিজ নিজ পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী।

অভিনয় জীবন

প্রাথমিক কর্মজীবন: ১৯৯৩-২০০০

শাবনূরের প্রথম চলচ্চিত্র চাঁদনী রাতে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায়। ছবিটি পরিচালনা করেন এহতেশাম এবং তার বিপরীতে নায়ক ছিল সাব্বির। এই ছবিটি ব্যর্থ হয়। পরে চিত্র নায়ক সালমান শাহের সাথে জুটি বেধে ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন যার প্রায় সবগুলোই ছিল ব্যবসায়িক মানদন্ডে সফল।[] সালমান শাহ-শাবনূর জুটির প্রথম ছায়াছবি জহিরুল হক পরিচালিত তুমি আমার ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়। একই বছর শাহ আলম কিরণ তাদের নিয়ে ফারুক-কবরী জুটির সুজন সখী চলচ্চিত্রের রঙিন পুনঃনির্মাণ সুজন সখি নির্মাণ করেন। ১৯৯৫ সালে এই জুটির স্বপ্নের ঠিকানা চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র।[] পরের বছর তিনি স্বপ্নের পৃথিবী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।[] এরপর তিনি সালমান শাহের বিপরীতে তোমাকে চাই (১৯৯৬) ও শিবলি সাদিক পরিচালিত আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

স্বপ্নের পৃথিবী পরে তিনি নায়ক রিয়াজ এর বিপরীতে অভিনয় করে দারুন সফলতা অর্জন করেন। রিয়াজের বিপরীতে ১৯৯৭ সালে মন মানেনা ও তুমি শুধু তুমি এবং ১৯৯৯ সালে অভিনীত ভালবাসি তোমাকে ও বিয়ের ফুল ছায়াছবিগুলো ব্যবসা সফল হয়। পাশাপাশি তিনি অভিনেতা ফেরদৌসের সাথেও সফল হন। এছাড়াও তিনি মান্না, শাকিব খানের সাথে অভিনয় করে সফল হয়েছেন। এসময়ে তিনি ভালবাসি তোমাকে চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন[] এবং ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্রের জন্য পর্যন্ত টানা দুইবার তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন।

বাংলাদেশের অভিনেত্রী শাবনূরের নেট ওয়ার্থ

শাবনূরের সাফল্য এবং খ্যাতি নিঃসন্দেহে অসংখ্য এনডোর্সমেন্ট ডিল, ব্র্যান্ড সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের দরজা খুলে দিয়েছে, যা তাঁর ক্ষেত্রে চিত্তাকর্ষক নেট ওয়ার্থ তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার যাত্রা এবং তার নৈপুণ্যের প্রতি নিবেদন তাকে বাংলাদেশী বিনোদন শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অভিনেত্রী শাবনুরের বর্তমান বয়স, Current age of actress Shabnur

শাবনূর ১৯৭৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক ভাবে তার নাম রাখা হয় কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। বর্তমানে অর্থাৎ ২০২৪ সাল অনুযায়ী শাবনুরের বয়স 47 বছর।

শেষ কথা, Conclusion 

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। দীর্ঘ সময় সিনেমা জগৎ থেকে বিরত থেকেও আবারও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ফিরেছেন তিনি। তাঁকে তাঁর অনুগামীরা নতুনভাবে গ্রহণ করতে সর্বদাই প্রস্তুত। বলাই বাহুল্য যে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম সফল অভিনেত্রী। আশা করা যায় যে তাঁকে আগামীতে আরো ভালো ছবিতে কাজ করতে দেখা যেতে পারে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0