আজীজুর রহমান গীতিকার ও কবি জীবনী | Biography of Azizur Rahman
আজীজুর রহমান গীতিকার ও কবি জীবনী | Biography of Azizur Rahman
কবি ও গীতিকার আজিজুর রহমান-
জন্ম:
কর্মজীবন
১৯৩৮ সাল থেকে আজিজুর রহমান তৎকালীন বিভিন্ন পত্রিকাতে তার লেখা কবিতা ও গান পাঠানো শুরু করেন। এসময় সওগাত, মোহাম্মদী, আজাদ, নবশক্তি, আনন্দবাজার, ভারতবর্ষ, বুলবুল, শনিবারের চিঠি পত্রিকাসমূহে নিয়মিতভাবে তার সাহিত্য বিষয়ক লেখা প্রকাশিত হত। কুষ্টিয়াতে তিনি একটি নাট্যদল গঠন করেন এবং এতে অভিনয়ও করেন। দলটি শিলাইদহের ঠাকুর বাড়িতে নাটক মঞ্চস্থ করত।
১৯৫৪ সালে আজিজুর রহমান ঢাকা বেতারে (বর্তমান বাংলাদেশ বেতার) নিজস্ব শিল্পী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬০ সালে আলাপনী শীর্ষক একটি কিশোর মাসিক পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি দৈনিক পয়গামের সাহিত্য বিভাগের সম্পাদক ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবন
আজিজুর রহমান ১৯৩১ সালে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের ফজিলাতুন নেছার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ৩ ছেলে ৪ মেয়ে রয়েছে। ১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আজিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
কবিতাসমুহ
তিনি প্রায় ৩০০-এর উপরে কবিতা রচনা করেছেন। তার মধ্যে নৈশনগরী, মহানগরী, সান্ধ্যশহর, ফেরিওয়ালা, ফুটপাত, তেরশপঞ্চাশ, সোয়ারীঘাটের সন্ধ্যা, বুড়িগঙ্গার তীরে, পহেলা আষাঢ়, ঢাকাই রজনী, মোয়াজ্জিন, পরানপিয়া, উল্লেখযোগ্য।
উপন্যাস
-
বিনষ্টপ্রেম (১৯৮৭, বইঘর চট্টগ্রাম)
-
সত্যসুন্দর আনন্দ (১৯৯২, অনিন্দ্য প্রকাশন)
-
মাধুরী এবং অন্যান্য (১৯৯৩, নিখিল প্রকাশন)
-
কারাগার কাবাবাস (১৯৯২, অনিন্দ্য প্রকাশনা)
-
অন্য প্রজাপতি (১৯৯৩, অণুপম প্রকাশন)
-
সুদুরের রঙধনু (১৯৮৭, মুক্তধারা)
-
দূর থেকে দূরে (১৯৮৬, সাহিত্য সংসদ)
-
অনিতা (১৯৯৪, নিখিল প্রকাশন)
-
বিপন্ন বাসর (১৯৯৪, অনিন্দ্য প্রাকশন)
-
আহত প্রেম (১৯৯৫, দোলনা প্রকাশন চট্টগ্রাম)
-
কালো যদি মন্দ তবে (১৯৯৫, শিখা প্রকাশন)
-
যখন আন্দামানে (১৯৯৭, হাক্কানি পাবলিকেশন ২য় সংস্করন)
-
মধ্যরাতের সংলাপ (১৯৯৮) পাথরের কান্না (১৯৯৮, নিখিল প্রকাশন)
-
চন্দন কাঠের সিড়ি (১৯৯৯, শিখা প্রকাশন)
-
অশ্র জলে (১৯৯৮, আগামী)
-
বসন্তকাদে (২০০০)
-
জীবন ও হৃদয় কাব্য (২০০৭, পারিজাত)
-
শহরতলীর কাব্য (২০০৮, নিখিল প্রকাশন)
-
যখন আন্দামানে (১৯৯৬, হাক্কানী পাবলিকেশন)
-
সময় যেভাবে কাটে (২০১২)
-
অপারেশন থিয়েটার চারঘণ্টা,
-
নীল গোলাপ,
-
দুটি চিঠি ও অতঃপর,
-
দহন ক্ষরন অন্তরে বাইরে।
কাব্যগ্রন্থ
-
বিষন্ন সংলাপ (১৯৮২, বইঘর চট্টগ্রাম),
-
তবুও বেচে আছি (১৯৮২, বইঘর চট্টগ্রাম),
-
নীরস্তর, অন্তরে, (১৯৯৬, শিখা প্রকাশন),
-
বিরতিহীন সংলাপ, (১৯৮১, বইঘর চট্টগ্রাম)
-
তোমাকে ঘিরে (১৯৭৬, আলোক পাবলির্সাস),
-
হেড লাইনের সংবাদ (১৯৯০, দোলল পাবলির্সাস চট্টগ্রাম),
-
এখন কারো না কারো কিছু বলা উচিত (১৯৯৬ ফেব্রুয়ারি, শিখা প্রকাশন),
-
তোমাকেতো কিছু বলিনি ( ১৯৯৮, অণুপম প্রকাশন),
-
অনন্ত নগরে যাবো (১৯৯৮, তিন খণ্ডে বিদ্যাপ্রকাশন),
-
এই প্রেম অনন্ত বিরহ (১৯৯৮, তিন খন্ড বিদ্যাপ্রকাশ)
-
হৃদয়কে করি খন্ড খন্ড (১৯৯৮, আগামী),
-
বৃষ্টি জালে হৃদয় সমুদ্দূর (২০০০),
-
তখনো রাত এখনো আঁধার (২০১১ ফেব্রুয়ারি, নিখিল প্রকাশ)
পুরস্কার
-
বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ (২০২১)
-
স্বনির্ভর প্রকল্প কর্তৃক ব্রোঞ্জ পদক,
-
আয়োজক হিসাবে স্বেচ্ছাসেবী গণ অংশগ্রহণ কর্তৃক স্বর্ণ পদক, এবিএল (ইন্টেল ডিস্টিস্টেড লিডারশিপ) পুরস্কার।
-
যশোর (ঢাকা ভিত্তিক) রেনেসাঁস সাংস্কৃতিক সংসদ পুরস্কার,
-
ত্রি-তরঙ্গ সাহিত্য পদক চট্টগ্রাম,
-
মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার ঢাকা,
-
রিশিজা সাহিত্য পুরস্কার ঢাকা,
-
পলক সাহিত্য পুরস্কার ঢাকা,
-
কালা ধনী সাহিত্য পুরস্কার ঢাকা,
-
শের-ই-বাংলা সাহিত্য পদক ঢাকা,
-
যুক্তরাষ্ট্র ক্যামব্রিজ ভিত্তিক গ্রন্থাগারিক কেন্দ্র, ১৯৯৮ সালের ‘বর্ষসেরা ব্যক্তি’ পুরস্কার।
পরলোকগমন
১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কবি আজিজুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তাকে ভর্তি করা হয় তৎকালীন ঢাকার পিজি হসপিটালে। সেখানে চিকিৎসার মাত্র ৩ দিনের মধ্যে ১৯৭৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবির জীবদ্দশায় তেমন কোনো সম্মাননা না পেলেও ১৯৭৯ সালে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদক’ লাভ করেন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0