পল্লী কবি জসীম উদ্‌দীন জীবনী | Jashimuddin Biography in Bengali

পল্লী কবি জসীম উদ্‌দীন জীবনী | Jashimuddin Biography in Bengali

May 10, 2025 - 18:54
May 10, 2025 - 20:13
 0  2
পল্লী কবি জসীম উদ্‌দীন জীবনী | Jashimuddin Biography in Bengali
পূর্ণ নাম জসিমউদ্দীন আহমদ
জন্ম জসিমউদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার (বর্তমানে মাদারীপুর) আসলামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ছিল নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবার, যা তার সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছিল।
জাতীয়তা বাংলাদেশী
শিক্ষা জসিমউদ্দীন ফরিদপুরে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে গভীর আগ্রহী ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য রচনাবলী নকশী কাঁথার মাঠ

সোজন বাদিয়ার ঘাট

সাহিত্য জীবন জসিমউদ্দীন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, কৃষক ও মেহনতি মানুষের সংগ্রাম এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কবিতা লিখেছেন। তার কবিতাগুলিতে সাধারণ মানুষের ভাষা, জীবনযাপন, এবং দেশপ্রেম ফুটে ওঠে। তিনি বাংলা কবিতায় "লোকসাহিত্য" ও "গ্রামীণ বাস্তবতা"র যে নতুন রীতি নিয়ে এসেছিলেন, তা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
বিখ্যাত কাজ নবান্ন (১৯৪১): গ্রামীণ জীবনের সংগ্রাম এবং দেশের কৃষকদের পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।
কুকুর নামানো: গ্রামীণ জীবনের এক অতি সাধারণ দৃশ্যকল্প।
সোনালী কাবিন (১৯৫৬): প্রেম ও জীবনের দুঃখ-কষ্টের এক গভীর কবিতা।
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা: বাংলাদেশের নদী ও গ্রামীণ জীবনের সংমিশ্রণ।
ভাটিয়ালী গান: গ্রামীণ গানের উপর তার গবেষণা।

পুরস্কার ও সম্মান জসিমউদ্দীনের সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, রাষ্ট্রীয় সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মৃত্যু

কবি জসিমউদ্দীন ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

জসীম উদ্দীন এর জন্ম – Jasimuddin’s Birthday :

 তিনি ১৯০৩ সনের পহেলা জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার বাড়ি ছিলো একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট।

জসীম উদ্দীন এর পিতা ও মাতা – Jasimuddin’s Parents :

 তার পিতার নাম আনসারউদ্দীন । তিনি ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক । পিতার একমাত্র পুত্রসন্তান হওয়ায় একরকম সচ্ছলতার মধ্যে মানুষ হন তিনি ।

 পিতা আনসার উদ্দিন স্কুলশিক্ষক হওয়ায় তিনি শিক্ষার মর্যাদা বুঝতেন । তাই জসিম উদ্দীন একটু বড় হতেই তাকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন নিজের হিতৈষী এম . এ.স্কুলে ।

জসীম উদ্দীন এর শৈশবকাল – Jasimuddin’s Childhood :

 কবি ছােটবেলায় খুড়তুতাে ভাই নেহাজুদ্দিনের সাথে দুষ্টমি করে বেড়াতেন।খেলাধূলা করা আর গান – বাজনা শােনারও বাতিক ছিলাে । তার । অন্যের গাছের আম – জাম চুরি করে খাওয়ার মতাে দস্যিপনা । করেও বেড়াতেন । এসব কিছুর সঙ্গে পড়াশুনাও চালিয়ে যেতে থাকেন আন্তরিকতার সাথে ।

জসীম উদ্দীন এর শিক্ষাজীবন – Jasimuddin’s Education Life :

 হিতৈষীস্কুলে পড়া শেষ করে জসিম উদ্দীন ভর্তি হন ফরিদপুর । জেলা স্কুলে । তিনি স্কুলের বাঁধাধরা পড়াশুনার পাশাপাশি নানা ধরনের গল্পের ও কবিতার বই পড়তে থাকেন ।

 তার স্কুলের বাংলা পাঠ্যপুস্তকে ছাপা কবিতা পড়ে তারও খুব ইচ্ছা হতাে তিনি নানা ধরনের ছন্দেভরা কবিতা লিখবেন । বিশেষ করে তার কবিতায় তিনি পল্লীগ্রামের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলবেন ।

জসীম উদ্দীন এর কবিতা রচনার লড়াই :

 একবার তিনি শুনলেন , তাদের গ্রামের তাতীপাড়ার রহিম মােল্লা কবিগান রচনা করে । শুনে জসিম উদ্দীন ছুটে গেলেন তার কাছে , তার সঙ্গে গান রচনার পাল্লা দিতে চান । শুরু হলাে কবিতা রচনার লড়াই । রহিম মােল্লা জসিম উদ্দীনের কবিত্বশক্তির পরিচয় পেয়ে মুগ্ধ হলেন এবং তাকে এ – ব্যাপারে খুব উৎসাহ দিলেন ।

 ফরিদপুর ঈশান স্কুলের ক্ষিরােদবাবু বলে এক শিক্ষক ছিলেন । তিনি একাধারে ছিলেন পণ্ডিত ব্যক্তি । কবিতা লিখতেন আবার কবিতার গুণগ্রাহীও ছিলেন । ক্ষিরােদবাবু একদিন জসিম উদ্দীনের কবিতা শুনলেন এবং তার মধ্যে কবিপ্রতিভা আছে দেখে তাকে বেশি করে কবিতার বই পড়তে উপদেশ দিলেন । 

 এদিকে তখন শুধু কবিতা নয় , সাহিত্যের সব শাখাই ছিলাে কলকাতা কেন্দ্রিক । তাই জসিম উদ্দীন কলকাতা যাবার জন্য আগ্রহী । হয়ে উঠলেন ।

 স্বদেশী আন্দোলন চলছেতখন দেশব্যাপী । তাই সেইসময় একদিন বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় চলে গেলেন এক রকম পালিয়েই । সেখানে তিনি তৎকালীন স্বনামধন্য কবি মােজাম্মেল হক – এর সাথে দেখা করলেন তার কবিতার খাতা নিয়ে । মােজাম্মেল হক তখন বঙ্গীয় মুসলিম পত্রিকার সম্পাদক । তিনি তার কিছু কবিতা তার পত্রিকায় ছাপাতে রাজী হলেন । 

 এরপর তার পরামর্শ মতাে তিনি দেখা করলেন কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে । নজরুল ইসলাম তাকে উৎসাহ দিলেন এবং তাঁর । কয়েকটি কবিতা রেখে দিলেন বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপানাের জন্য । জসিম উদদীন উৎসাহ পেয়ে পড়াশুনা শেষ করে কবিতা লিখবেন -এই মনােভাব নিয়ে আবার ফরিদপুরে ফিরে এলেন । 

জসীম উদ্দীন এর কলেজ জীবন – Jasimuddin’s College Life :

 কবি জসীম উদ্দীন একদিন বি.এ. পাস করলেন রাজেন্দ্র কলেজ । থেকে।বি.এ পাস করে এম . এ . পড়ার জন্য কলকাতা চলে গেলেন । ইতিমধ্যে কবির দুটো বই রাখালী ‘ এবং ‘ নকশী কাথার মাঠ প্রকাশিত হয়ে গেছে । তিনি একটি করে বই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথকে প্রীতির চিহ্ন হিসাবে দিয়েছিলেন । 

 কবিগুরু কাব্যগ্রন্থ দুটো পড়ে জসিম উদদীনকে বাংলাদেশের মুসলমান চাষীদের প্রতিনিধিত্বকারী পল্লীকবি হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন । 

জসীম উদ্দীন এর কর্মজীবন – Jasimuddin’s Work Life :

জসীম উদ্দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একদিন এম . এ . পাস করলেন । এম.এ পাস করে তিনি ড . দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে গবেষণা সহকারী হিসাবে কিছুদিন কাজ করেন । এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর অধ্যাপনা করেন ।

জসীম উদ্দীন এর কাব্যগ্রন্থ – Jasimuddin’s Poetry :

 ১৯৪১ সালে তিনি সরকারের প্রচার বিভাগে চাকরি পান । কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ একবার বাংলা কবিতার একটা সংকলন প্রকাশ করেন , তাতে পল্লীকবি জসিম উদ্দীনের বালুচর কাব্যের ‘ উড়ানীর চর ’ কবিতাটি স্থান পায় । কবির কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হলাে – ধানক্ষেত , রঙ্গিলা নায়ের মাঝি , সােজনবদিয়ার ঘাট , রাখালী , নকশী কাথার মাঠ , বালুচর , মাটির কান্না , ঠাকুরবাড়ির আঙ্গিনায় ইত্যাদি । তাঁর ভ্রমণকাহিনী ভিত্তিক বই ‘ হলদে পরীর দেশে ’ ইউনেস্কো পুরস্কারে পুরস্কৃত ।

 পল্লীকবি জসিম উদ্দীন বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধারার কবি । নজরুল ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মতাে তিনিও বাংলা কাব্য । সাহিত্যাঙ্গনে আপন বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর ।

জসীম উদ্দীন এর উল্লেখযোগ্য রচনাবলী – Jasimuddin’s Noteble Works :

 জসীম উদ্দিন নিজে গান লিখতেন ; গাইতেও পারতেন ভাল । বহুসারি , জারি , ভাটিয়ালি গান তিনি লিখেছেন , তাতে সুর দিয়েছেন । “ নিশীথে যাইও ফুল বনে রে ভ্রমর ‘ কিংবা ‘ ও রঙিলা নায়ের মাঝি , এই ঘাটে লাগাইয়া নাও , নিগুণ কথা কইয়া যাও শুনি ’ প্রভৃতি ভাটিয়ালি গানের সুর স্বনামধন্য গায়ক সুরকার শচীনদেব বর্মনের কণ্ঠে একসময় সমস্ত দেশ মাতিয়ে তুলেছিল । এই মন – পাগল – করা । গান – গুলি জসীম উদ্দিনের রচনা ।

জসীম উদ্দীন এর মৃত্যু – Jasimuddin’s Death :

 কবি জসিম উদদীন ১৯৭৬ সালের ১৪ ই মার্চ ৭৪ বছর বয়সে ঢাকায় পরলােকগমন করেন । তাকে ফরিদপুরে নিজ গ্রামে সমাহিত করা হয় ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0