মোনালিসার জীবনী - Biography of Mona Lisa

মোনালিসার জীবনী - Biography of Mona Lisa

May 13, 2025 - 10:15
May 13, 2025 - 22:36
 0  1
মোনালিসার জীবনী - Biography of Mona Lisa

মোনালিসার রহস্যময় হাসির পেছনে কোন্‌ নারীর মুখ !

মোনা লিসা 

চিত্রকর্মটি ঐতিহ্যগতভাবে ইতালীয় অভিজাত মহিলা লিসা দেল জোকোন্দোকে চিত্রিত বলে বিবেচিত হয়। এটি একটি সাদা পপলার প্যানেলে তৈলরঙে আঁকা। লিওনার্দো চিত্রকর্মটি কখনোই জোকোন্দো পরিবারকে দেননি। ধারণা করা হয়, এটি ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ সালের মধ্যে আঁকা হয়েছিল; তবে লিওনার্দো ১৫১৭ সাল পর্যন্ত এটি নিয়ে কাজ করতে পারেন। ফ্রান্সের প্রথম ফ্রান্সিস লিওনার্দোর মৃত্যুর পর ১৫১৯ সালে মোনা লিসা সংগ্রহ করেন, এবং বর্তমানে এটি ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মালিকানাধীন। এটি সাধারণত ১৭৯৭ সাল থেকে ল্যুভর জাদুঘরে প্রদর্শিত হয়ে আসছে।

বিশ্বব্যাপী চিত্রকর্মটির খ্যাতি আংশিকভাবে ১৯১১ সালে ভিনচেঞ্জো পেরুগিয়া দ্বারা চুরি হওয়ার কারণে বেড়েছে, যিনি এটিকে ইতালীয় দেশপ্রেমের কারণে চুরি করেছিলেন—তার বিশ্বাস ছিল এটি ইতালিতে থাকা উচিত। এই চুরি এবং ১৯১৪ সালে উদ্ধার পূর্বে কখনো না দেখা প্রচার তৈরি করে এবং অনেক সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা যেমন ১৯১৫ সালের অপেরা মোনা লিসা, ১৯৩০ সালের শুরুর দুটি চলচ্চিত্র (দ্য থেফট অব দ্য মোনা লিসা এবং আর্সেন লুপিন) এবং "মোনা লিসা" গানটি—যা ন্যাট কিং কোল দ্বারা রেকর্ড করা হয়েছিল এবং ১৯৫০ এর দশকের সবচেয়ে সফল গানের একটি হয়ে ওঠে।

মোনা লিসা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান চিত্রগুলির মধ্যে একটি। এটি ১৯৬২ সালে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বীমা মূল্যায়নের জন্য গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে স্থান পেয়েছে, যা ২০২৩-এর হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের সমান।

ইতিহাস

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে একটি পাইন কাঠের টুকরোর ওপর মোনা লিসার এই ছবিটি আঁকেন। চিত্রকলার ইতিহাসে এই চিত্রকর্মটির মতো আর কোনোটি এত আলোচিত ও বিখ্যাত হয়নি। এর একমাত্র কারণ মোনা লিসার সেই কৌতূহলোদ্দীপক হাসি, যা পরবর্তীতে বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে এটি প্যারিস শহরের ল্যুভ জাদুঘরে রাখা আছে। এটি ছিল শিল্পীর সবচেয়ে প্রিয় ছবি এবং তিনি সবসময় এটিকে সঙ্গেই রাখতেন। আর তিনি নিজেই বলতেন এটি হলো আমার সেরা শিল্পকর্ম।

২০০৫ সালে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে, এই চিত্রকর্মটিতে আঁকা নারী প্রকৃতপক্ষে ইতালির ফ্লোরেন্সের অভিজাত নারী ও ফ্রান্সেসকো দেল জোকোন্দোর স্ত্রী লিসা দেল জোকোন্দো গেরার্দিনি। তবে মোনা লিসাকে নিয়ে অনেক ধারণা প্রচলিত ছিল। কিছু গবেষকগণ মনে করতেন, মোনা লিসা হলো লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মা আবার কেউ মনে করতেন মোনা লিসা হলো লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির বান্ধবী। একটি কম্পিউটার পরীক্ষায় দেখা গেছে মোনা লিসা'র সাথে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির কিছুটা মিল রয়েছে। তাই মনে করা হয় হয়তো মোনা লিসা চিত্র কর্মটি না ছেলে না মেয়ে।

পরিচয় নিশ্চিতকরণ

লিওনার্দোর মোনা লিসা সম্পর্কে সমসাময়িক নিষ্পত্তিমূলক তথ্যের অভাবের কারণে চিত্রকর্মটিতে অঙ্কিত নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন ছিল। ২০০৫ সালে সিসারোর এপিস্তউলেই আদ ফামিলিয়ারেস (লাতিন: Epistulae ad Familiares, আত্মীয়দের চিঠি) বইটির ১৪৭৭ সালের সংস্করণের ডান মার্জিনে ভেসপুচ্চির লেখা একটি মন্তব্য হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কারের পর এই অবস্থার পরিবর্তন হয়।

এই মন্তব্যে ভেসপুচি লিওনার্দো এবং বিখ্যাত প্রাচীন গ্রিক চিত্রশিল্পী আপেলিসের শৈলীর মধ্যে একটি সাদৃশ্য উল্লেখ করেছেন। উভয় শিল্পীই বাকি চিত্রকর্মের কাজ করার আগে প্রথমেই খুবই বিশদে বিষয়বস্তুর মাথা ও কাঁধ এঁকে নিতেন। একটি উদাহরণ হিসাবে ভেসপুচ্চি লিওনার্দোর "লিসা দেল জোকোন্দো"র প্রতিকৃতিতে কাজ তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি মন্তব্যে "অক্টোবর ১৫০৩" তারিখ দিয়েছেন। নাম ও তারিখের অন্তর্ভুক্তি শিল্প ইতিহাসবিদ জর্জিও ভাসারির লিখিত ১৫৫০ সালে প্রকাশিত উৎসের সাথে বৈধতা নিশ্চিত করে। ভাসারির এই লেখাটি পরবর্তীতে বেশ পরিচিত হলেও প্রায়ই অবিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচিত হতো। ভাসারি লিখেছিলেন এই সময়ের মধ্যে লিওনার্দো তার স্ত্রী, "মোনা লিসা" আঁকার জন্য ফ্রান্সেসকো দেল জোকোন্দোর কাছ থেকে একটি কমিশন নিয়েছিলেন।

মোনালিসার পেইন্টিং এত বিখ্যাত কেন

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা মোনালিসার খ্যাতি পেইন্টিংটির নিজস্ব উৎকর্ষতা ও অন্যান্য ঘটনার মিলিত একটি ফল। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে, মোনালিসার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৯০৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। মোনালিসাকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পেইন্টিং হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

দর্শকরা যখন পেইন্টিংটি কাছ থেকে দেখে, তখন তারা একজন সাধারণ নারীর প্রতিকৃতি দেখে বিস্মিত হয়। তার হাসি এবং দৃষ্টি সম্পর্কে রহস্য লুকিয়ে আছে। পেইন্টিংটি সৃষ্টির প্রায় ৫০০ বছরেও বেশি হয়ে গেছে। এর ভ্রু এবং চোখের পাপড়ি বিবর্ণ হয়ে গেলেও মোনালিসার খ্যাতি সময়ের সঙ্গে বেড়েই চলেছে।

প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে কীভাবে পেইন্টিংটি এই মর্যাদা অর্জন করেছে?

মনে করা হয়, লিওনার্দো ১৫০৩ বা ১৫০৪ সালে ফ্রান্সেসকো দেল গিওকন্ডো নামে এক ধনী ফ্লোরেনটাইন ব্যবসায়ীর অনুরোধে প্রতিকৃতিটি আঁকা শুরু করেছিলেন। সেই ব্যবসায়ী তার স্ত্রী লিসা দেল গেরাদিনির একটি প্রতিকৃতি চেয়েছিলেন। পেইন্টিংটি তার নতুন বাড়ির জন্য এবং তার দ্বিতীয় পুত্র আন্দ্রেয়ার জন্ম উদযাপনের জন্য করতে বলা হয়। তবে, বিশেষজ্ঞ ও স্কলারদের মধ্যে তাদের পরিচয় নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। নামকরণের ক্ষেত্রে সেই সময়ে ইতালিতে, মোনা মানে ম্যাডোনা, এভাবে সব নারীকে সম্বোধন করা হত। এখন যেমন মিসেস সম্বোধন করা হয়। এই মোনা থেকেই নামকরণ মোনালিসা হয়েছে।

লিওনার্দো ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পেইন্টিংটির কাজ চালিয়ে যান। তিনি মারা যাওয়ার সময় এটি অসমাপ্ত ছিল।

লিওনার্দো ছবি আঁকার যেসব কৌশল তৈরি করেছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল স্ফুমাটো কৌশল, যার অনুবাদ করলে দাড়ায়, 'লাইন বা সীমানা ছাড়াই ধোঁয়ার পদ্ধতি'। তৎকালীন সময়ে শিল্পীদের জন্য রূপরেখা বা লাইন তৈরি করে আঁকা একটি সাধারণ চর্চা ছিল। সে জায়গায় লিওনার্দো লাইন বা রূপরেখা ব্যবহার করেননি। আলো এবং ছায়ার বিভ্রম তৈরি করতে বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করেছিলেন। যেখানে তিনি কাছের সাবজেক্টগুলোকে স্পষ্ট, আর দূরের সাবজেক্টগুলোকে আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সেঙ্গ অস্পষ্ট করে তোলেন।

মোনালিসার বিশ্বব্যাপী আকর্ষণের আরেকটি অন্যতম জনপ্রিয় কারণ হল হাসি। লিওনার্দো দৃষ্টিকোণ এবং ছায়ার কাজের মাধ্যমে এমন একটি অনন্য হাসি তৈরি করেন, যা একধরনের অপটিকাল ইলিউশন তৈরি করে। দর্শক যখনই মোনালিসার চোখের দিকে তাকায়, মুখ হাসির মতো দেখায়। কিন্তু যখন দর্শকের দৃষ্টি হাসির উপর স্থির হয়, এটি ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়। যেন এটি কখনই হাসি ছিল না। আবার হাসির বিভিন্ন ব্যাখ্যাও আছে, কেউ কেউ মনে করে যে, এটি একটি সুখী হাসি। আবার অনেকে বিশ্বাস করে এটি একটি দুঃখের হাসি৷

মোনালিসা কে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত চিত্রকর্মে পরিণত করার জন্য এগুলো কি যথেষ্ট?

অনেক বিশেষজ্ঞ অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে মোনালিসার নিজস্ব গুণগুলো পেইন্টিংটিকে বিখ্যাত বানানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এর সমসাময়িক অনেক ভাল পেইন্টিংও আছে। অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে রেনেসাঁর একটি অসামান্য প্রতিকৃতি বলে মনে করেন। মোনালিসার উত্থান মূলত ক্যানভাসের বাইরের অনেকগুলো কারণের উপর নির্ভরশীল। বাহ্যিক ঘটনাগুলো সামষ্টিকভাবে শিল্পকর্মটির খ্যাতিতে অবদান রেখেছিল।

লিওনার্দো ছিলেন ফ্রান্সের রাজা প্রথম ফ্রান্সিসের দরবারের একজন সদস্য। রাজা ফ্রান্সিস পরবর্তীতে পেইন্টিংটি কিনেছিলেন এবং লিওনার্দোর মৃত্যুর পর তা প্রদর্শন শুরু করেছিলেন। লিওনার্দো তার সমসাময়িক সময়ে একজন বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন। তাই তার খ্যাতি মোনালিসার উপরও ছড়িয়ে পড়ে। যেটি পরবর্তীতে পৃষ্ঠপোষক রাজা ফ্রান্সিস দ্বারা আরও বেড়ে যায়।

১৫৫০ সালে ইতালীয় পণ্ডিত জর্জিও ভাসারি ইতালীয় রেনেসাঁ শিল্পীদের নিয়ে একটি জনপ্রিয় জীবনী প্রকাশ করেন। সেখানে লিওনার্দোও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বইটি ব্যাপকভাবে অনূদিত ও বিতরণ করা হয়। এতে মোনালিসাকে 'জীবনের সম্মোহনী অনুলিপি' হিসেবে এর বর্ণনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পেইন্টিংটি রাজকীয় সংগ্রহের অংশ হয়ে ওঠে। কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত প্রতিকৃতিটি ফরাসি প্রাসাদগুলোতে নির্জন অবস্থায় ছিল। ফরাসি বিপ্লবে রাজকীয় সংগ্রহটিকে জনগণের সম্পত্তি হিসাবে দাবি করা হয়। এটি নেপোলিয়নের বেডরুমেও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। মোনালিসাকে অবশেষে ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়ামে সর্বজনীন প্রদর্শনের জন্য নেওয়া হয়। এখানে দর্শনার্থীরা সিংহাসনচ্যুত অভিজাতদের একসময়ের ব্যক্তিগত সম্পদ দেখতে ভিড় জমায়।

১৯ শতকের রোমান্টিক যুগে, চিত্রিত একজন সাধারণ ফ্লোরেন্টাইন গৃহবধূকে একজন রহস্যময় সম্মোহনীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। ১৮৫৪ সালে, আলফ্রেড ডুমেসনিল বলেছিলেন, মোনালিসার হাসি একটি 'বিশ্বাসঘাতক আকর্ষণ' দেয়। এক বছর পর থিওফিল গহতিয়া তার 'বিদ্রুপকারী ঠোঁট' এবং 'অজানা আনন্দের প্রতিশ্রুতিপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকানো' সম্পর্কে লিখেছিলেন। ১৮৬৯ সালে ওয়াল্টার পেটার মোনালিসাকে 'নারী সৌন্দর্যের নিরন্তর মূর্ত প্রতীক' হিসাবে বর্ণনা করেন।

১৯ শতকে প্রতিভাবান পলিম্যাথ লিওনার্দোকে একজন পৌরাণিক চরিত্রে পরিণত করা হয়। তার মৃত্যুর পর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, তাকে বেশ ভালোভাবেই সম্মানিত করা হয়। লিওনার্দোকে শুধু একজন ভালো চিত্রশিল্পী হিসেবেই নয় বরং একজন মহান বিজ্ঞানী এবং উদ্ভাবক হিসেবেও তখন মনে করা হতো। ফলস্বরূপ তিনি 'দ্যা রেনেসাঁ ম্যান' হয়ে ওঠেন। আর এভাবে লিওনার্দো একজন প্রতিভাবান হিসেবে ২১ শতকেও মোনালিসার জনপ্রিয়তায় অবদান রেখে চলেছেন।

মোনালিসা সম্পর্কে কারওই জানতে বাকি নেই। কিন্তু আজ এই ছবিটি সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য পরিবেশন করা হবে, যা বাস্তবিকই রোমহর্ষক।  

১. ভুল বানানের শিকার: ছবিটির আসল নাম কিন্তু মোন্না লিসা, মোনালিসা নয়। আসলে মুখে মুখে ঘুরতে ঘুরতে নামের এই অপভ্রংশ যে কখন হয়েছে তা কারও জানা নেই। প্রসঙ্গত, মোন্না লিসা কথার অর্থ হল "মাই লেডি"।

২. মেয়েটি কে? ছবির মেয়েটির পরিচয় নিয়ে আজ বিতর্ক থামেনি। একদল মনে করেন এই ছবিটি আসলে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি নিজেকে ভেবেই বানিয়েছিলেন। কিন্তু আরেক দলের মতে এই ছবিটি আসলে লিসা ঘেরারদিনি নামে ২৪ বছর বয়সি এক মহিলার।

৩. মেয়েটির শরীর ক্ষতবিক্ষত: ১৯৫৬ সালে কোনও এক অজানা কারণে ইগো আনগেজ নামে এক ব্যক্তি ছবিটিতে একটা পাথড় ছুড়ে মারেন। সেই কারণে মোনালিসার শরীরের অল্প কিছুটা অংশ খারাপ হয়ে যায়। খুব ভাল করে খেয়াল করলে দেখবেন মেয়েটির বাঁ কুনুইয়ের নিচের দিকে রং-এর তাপ্পি দেওয়া আছে।

৪. কোনও ইনসুরেন্স নেই: আধুনিক অঙ্কন বিশারদদের মতে এই ছবিটি অমূল্য। তাই তো চুরি যাওয়ার ভয় থাকা সত্ত্বেও লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা এই বিখ্যাত এই ছবিটির কোনও ইনসুরেন্স নেই।

৫. চোখের দিকে তাকান! ছবিতে যে মেয়েটি রয়েছে তার কোনও ভুরু নেই। কেন এমন ভাবে ছবিটি এঁকেছিল লিওনার্দো? অনেকে মনে করেন শিল্পী কিন্তু তার সৃষ্টিতে কোনও খামতি রাখেননি। ছবিটিতে মেয়েটির চোখের উপরে ভুরু ছিল। কিন্তু ছবিটি সংরক্ষণ করার সময় ভুলবশত মিউজিয়াম কতৃপক্ষ ভুরু দুটি মুছে ফেলেন। যদিও এই বিষয়ে আরও একটি মত রয়েছে। বেশ কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন শিল্পী কোনও এক অজানা কারণে ছবিটি শেষই করেননি। তাই তো মোনালিসার চোখে কোনও ভুরু নেই।

৬. বিশেষ ঘরে বন্দি তিনি: লাভিয়েরা মিউজিয়ামের একটি বিশেষ ঘরে রাখা হয়েছে মোনা লিসাকে। যে দেওয়ালে ছবিটি টাঙানো, তার সামনে বুলেট প্রফ কাঁচের দেওয়াল রয়েছে। রয়েছে সুরক্ষার আরও বেশ কিছু বন্দোবস্তও। আর এত সব করতে গিয়ে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের কত টাকা খরচ হয়েছে জানেন? প্রায় ৭ মিলিয়ান ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা।

৭. তিনটে স্তর রয়েছে ছবিটির: একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে মূল ছবিটি আঁকার আগে আরও তিনবার ছবিটি এঁকেছিলেন শিল্পী। আর প্রতিবারই ছবিটির ধরন ছিল আলাদা আলাদা।

বছর

১৫০৪–১৫০৬ খ্রিস্টাব্দ, হয়তো ১৫১৭ পর্যন্ত চলেছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0